বাংলা কবিতা Telegram channel photo

বাংলা কবিতা

@bangla_kobitaPublic Channel

বাংলা কবিতার জন্য নিবেদিত টেলিগ্ৰাম চ‍্যানেল। ভালো কবিতা পড়তে চাইলে চ‍্যানেলটিতে যোগদান করুন। যোগাযোগ: [email protected]

1.4k

Last views

4.4k (4,391 subscribers)
সদস্য
—
Rating
24
Total Posts
Oct 14, 2026, 7:09 PM
আপডেট হয়েছে
Apr 6, 2026
Created
Stats

আপনি বাংলায় বিষয়বস্তু দেখছেন। অন্যান্য ভাষায় বিষয়বস্তু দেখতে সাইটের ভাষা পরিবর্তন করুন।

Channel Information

Channel Information
Channel Nameবাংলা কবিতা
Username@bangla_kobita
Categoryবলিউড মুভি
Languageবাংলা
Countryভারত
সদস্য4,391
Channel TypePublic Channel
Created৬ এপ্রি, ২০২৬
Last Updated১৪ অক্টো, ২০২৬ • ৭ দিন আগে
StatusActive

র্যাঙ্কিং

বিশ্বব্যাপী র্যাঙ্কিং
#178302+190
ভাষার র্যাঙ্কিং
#446+4
ক্যাটাগরির র্যাঙ্কিং
#4083+7

অংশগ্রহণকারীদের বৃদ্ধি

মোট: 4.4K30 Days growth: +10%
09/1509/2009/2509/3010/0510/1010/14
অংশগ্রহণকারীদের বৃদ্ধি - 30 Days
DateSubscribers
15:09:20264,390
16:09:20264,390
17:09:20264,381
18:09:20264,381
19:09:20264,381
20:09:20264,381
21:09:20264,381
22:09:20264,381
23:09:20264,381
24:09:20264,381
25:09:20264,381
26:09:20264,381
27:09:20264,381
28:09:20264,381
29:09:20264,381
30:09:20264,381
01:10:20264,381
02:10:20264,381
03:10:20264,381
04:10:20264,381
05:10:20264,381
06:10:20264,381
07:10:20264,381
08:10:20264,381
09:10:20264,381
10:10:20264,381
11:10:20264,381
12:10:20264,381
13:10:20264,381
14:10:20264,391
অংশগ্রহণকারীদের বৃদ্ধি - Weekly
DateSubscribers
Week of 06:04:20264,206
Week of 13:04:20264,206
Week of 20:04:20264,206
Week of 27:04:20264,218
Week of 04:05:20264,218
Week of 11:05:20264,249
Week of 18:05:20264,249
Week of 25:05:20264,249
Week of 01:06:20264,274
Week of 08:06:20264,274
Week of 15:06:20264,274
Week of 22:06:20264,274
Week of 29:06:20264,296
Week of 06:07:20264,296
Week of 13:07:20264,296
Week of 20:07:20264,347
Week of 27:07:20264,347
Week of 03:08:20264,379
Week of 10:08:20264,379
Week of 17:08:20264,393
Week of 24:08:20264,396
Week of 31:08:20264,396
Week of 07:09:20264,390
Week of 14:09:20264,381
Week of 21:09:20264,381
Week of 28:09:20264,381
Week of 05:10:20264,381
Week of 12:10:20264,391
অংশগ্রহণকারীদের বৃদ্ধি - Monthly
DateSubscribers
April 20264,218
May 20264,249
June 20264,296
July 20264,347
August 20264,396
September 20264,381
October 20264,391
অংশগ্রহণকারীদের বৃদ্ধি - Yearly
DateSubscribers
20264,391

সাম্প্রতিক পোস্ট

বাংলা কবিতা logo
বাংলা কবিতা

১৭ সেপ, ২০২৬, ২১:৩৩

কবিতা বুঝিনি আমি
বিনয় মজুমদার

কবিতা বুঝিনি আমি ; অন্ধকারে একটি জোনাকি
যৎসামান্য আলো দেয়, নিরুত্তাপ, কোমল আলোক।
এই অন্ধকারে এই দৃষ্টিগম্য আকাশের পারে
অধিক নীলাভ সেই প্রকৃত আকাশ প’ড়ে আছে—
এই বোধ সুগভীরে কখন আকৃষ্ট ক’রে নিয়ে
যুগ যুগ আমাদের অগ্রসর হয়ে যেতে বলে,
তারকা, জোনাকি—সব ; লম্বিত গভীর হয়ে গেলে
না-দেখা গহ্বর যেন অন্ধকার হৃদয় অবধি
পথ ক’রে দিতে পারে ; প্রচেষ্টায় প্রচেষ্টায় ; যেন
অমল আয়ত্তাধীন অবশেষে ক’রে দিতে পারে
অধরা জ্যোৎস্নাকে ; তাকে উদগ্রীব মুষ্টিতে ধ’রে নিয়ে
বিছানায় শুয়ে শুয়ে আকাশের, অন্তরের সার পেতে পারি।
এই অজ্ঞানতা এই কবিতায়, রক্তে মিশে আছে
মৃদু লবণের মতো, প্রশান্তির আহ্বানের মতো।

@bangla_kobita
1,3500017
বাংলা কবিতা logo
বাংলা কবিতা

০৮ সেপ, ২০২৬, ০৮:২৭

বিড়ালী
মণীন্দ্র গুপ্ত

বেড়ালটা সকাল থেকে কাঁদছে
কাল থেকে ওর বাচ্চাটা নিখোঁজ।
আমি রাতের বেলা রামকৃষ্ণ কথামৃত পাঠ করছিলাম,
সে শান্তির আশায় এসে দুই থাবা জোড় করে বসল।
কিন্তু হল না।
একটু পরেই সে মিউমিউ করে আবার কাঁদতে লাগল,
পাগলের মতো প্রদক্ষিণ করে ঘুরতে লাগল।
আর পুত্রশোক আগুনের মতো ঘিরে ধরল
রামকৃষ্ণদেবকে।
6,5300036
বাংলা কবিতা logo
বাংলা কবিতা

৩০ আগ, ২০২৬, ০১:১৮

অন্তরঙ্গে সবুজ সংসার
রফিক আজাদ

এটম বোমার থেকে দু’বছর বড় এই-আমি
ধ্বংস ও শান্তির মধ্যে মেরু-দূর প্রভেদ মানি না।
ক্ষীয়মাণ মূল্যবোধ, সভ্যতার সমূহ সংকটে
আমি কি উদ্বিগ্ন খুব?—উদ্বিগ্নতা আমাকে সাজে কি?
রাষ্ট্র, রাষ্ট্রনীতি, নেতা, নানাবিধ আইন-কানুন
নিয়ন্ত্রিত করে যাচ্ছে যথারীতি প্রকাশ্য জীবন
ভিতর-মহল জেঁকে বসে আছে লাল বর্ণমালা।
সদরে-অন্দরে—অনিবার্য সংঘর্ষের ফলে—গড়ে
সবুজ সংসার।—স্বভাবত সদর-বিমুখ আমি
ভিতর-সন্ধানী আলো ফেলি সান্ধ্য-শামুকের সুখে।
আমার জীবনে স্থায়ী কোনো সকাল-দুপুর নেই,
সারাক্ষণ ব্যেপে থাকে—অপরাহ্ণ—মনোধিমণ্ডলে।
সম্পূর্ণ বর্জন নয়, গ্রহণে-বর্জনে গড়ে নিই
মানুষের বসবাসযোগ্য চিরস্থায়ী ঘর-বাড়ি,
বহিরঙ্গে নাগরিক—অন্তরঙ্গে অতৃপ্ত কৃষক;
স্থান-কাল পরিপার্শ্বে নিজ হাতে চাষাবাদ করি
সামান্য আপন জমি, বর্গা-জমি চষি না কখনো।
বিস্তীর্ণ প্রেইরী নয়—আপনার সীমিত সবুজে
পরম নিশ্চিন্তে চরে নীল-গাই, যূথবদ্ধ মেষ,
নিরীহ হরিণগুচ্ছ, নৃত্যপর জেব্রা ও জিরাফ।

@bangla_kobita
2,1900010
বাংলা কবিতা logo
বাংলা কবিতা

২৪ আগ, ২০২৬, ১০:২৯

Photo
সকলকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা 🪷
9,0600028
বাংলা কবিতা logo
বাংলা কবিতা

১৫ আগ, ২০২৬, ২০:৪৫

ভারতবর্ষ
দিনেশ দাস

চোখভরা জল আর বুকভরা অভিমান নিয়ে
কোলের ছেলের মতো তোমার কোলেই
ঘুরে ফিরে আসি বারবার
হে ভারত, জননী আমার।

তোমার উৎসুক ডালে
কখন ফুটেছি কচিপাতার আড়ালে,
আমার কস্তুরী-রেণু উড়ে গেছে কত পথে
দিগন্তে আকাশে ছায়াপথে,
তবুও আমার ছায়া পড়েছে তোমার বুকে কত শত ছেলে
তুমি বাঁকা ঝিরঝিরে নদী ছলছলে
বাজাও স্নেহের ঝুমঝুমি,
জননী জন্মভূমি তুমি!
তোমার আকাশে আমি প্রথম ভোরের
পেয়েছি আলোর সাড়া,
দপদপে হীরে-শুকতারা
অস্ফুট কাকলি,
জলে ফোটে হীরকের কলি
মধ্যাহ্নে হীরের রোদ—
হে ভারত, হীরক-ভারত!
কোন্ এক ঢেউছোঁয়া দিনে
বঙ্গোপসাগর থেকে পথ চিনে চিনে
কখন এসেছি আমি ঝিনুকের মতো,
তোমার ঘাসের হ্রদে ঝিলের সবুজে
খেলা করি একা অবিরত!
আমি তো রেখেছি মুখ
তোমার গঙ্গোত্রী-স্তনে অধীর উন্মুখ,
মিটাল আগ্নেয় ক্ষুধা তোমার অক্ষয় বটফলে
দিনান্তে সুডৌল জানু মালাবার করমণ্ডলে
দিয়েছ আমাকে কোল ;
কত জলতরঙ্গের রাত্রি উতরোল
ভরে দিলে ঘুমের কাজলে ;
মিশে গেছি শিকড়ের তন্ময়তা নিয়ে
তোমার মাটির নাড়ি হাওয়া আর জলে
গ্রীষ্ম বর্ষা হেমন্ত শরৎ —
হে ভারত, হীরক-ভারত!
আজ গৌরীশঙ্করের শিখরে শিখরে
জমে কালো মেঘ
বৈশাখী পাখির ডানা ছড়ায় উদ্বেগ ;
তবু এই আকাশ সমুদ্র থেকে কাল
লাফ দেবে একমুখো হীরের সকাল
চকচকে মাছের মতন—
হে ভারত, হীরক-ভারত পুরাতন!

@bangla_kobita
2,8400017
বাংলা কবিতা logo
বাংলা কবিতা

১৪ মে, ২০২৬, ২৩:৩২

মিথ্যে
শঙ্খ ঘোষ

এই মুখ ঠিক মুখ নয়
মিথ্যে লেগে আছে
এখন তোমার কাছে যাওয়া
ভালো না আমার।

তুমি স্নেহে সুদক্ষিণা বটে
মেঘময় ঠোঁট নেমে আসে
তোমার চোখের জলে আজও
পুণ্যে ভরে ওঠে রুদ্ধ দেশ
আমি তবু ছিঁড়ে যাই দূরে
এই মুখ ঠিক মুখ নয়
হলুদ শরীর থেমে যায়
বোধহীন, তাপী
তোমার অনেক দেওয়া হলো
আমার সমস্ত দেওয়া বাকি।

@bangla_kobita
4,9800042
বাংলা কবিতা logo
বাংলা কবিতা

০৭ মে, ২০২৬, ২০:৩৯

অমানুষ
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

শিম্পাঞ্জি, তোমাকে আজ বড় বেশি বিমর্ষ দেখলুম
চিড়িয়াখানায়। তুমি ঝিলের কিনারে।
দারুণ দুঃখিতভাবে বসে ছিলে। তুমি
একবারও উঠলে না এসে লোহার দোলনায়;
চাঁপাকলা, বাদাম, কাবলি-ছোলা–সবকিছু
উপেক্ষিত ছড়ানো রইল। তুমি ফিরেও দেখলে না।
দুঃখী মানুষের মতো হাঁটুর ভিতরে মাথা গুঁজে
ঝিলের কিনারে শুধু বসে রইলে একা।

শিম্পাঞ্জি, তোমাকে কেন এত বেশি বিমর্ষ দেখলুম?
কী দুঃখ তোমার? তুমি মানুষের মতো
হতে গিয়ে লক্ষ-লক্ষ বছরের সিঁড়ি
ভেঙে এসেছিলে, তুমি মাত্রই কয়েকটা সিঁড়ি টপকাবার ভুলে
মানুষ হওনি। এই দুঃখে তুমি ঝিলের কিনারে
বসে ছিলে নাকি?

শিম্পাঞ্জি, তোমাকে আজ বড় বেশি দুঃখিত দেখলুম।
প্রায় হয়েছিলে, তবু সম্পূর্ণ মানুষ
হওনি, হয়তো সেই দুঃখে তুমি আজ
দোলনায় উঠলে না; তুমি ছেলেবুড়ো দর্শক মজিয়ে
অর্ধমানবের মতো নানাবিধ কায়দা দেখালে না।
হয়তো দেখনি তুমি, কিংবা দেখেছিলে,
দর্শকেরা পুরোপুরি বাঁদুরে কায়দায়
তোমাকে টিট্‌কিরি দিয়ে বাঘের খাঁচার দিকে চলে গেল।
10,3000028
বাংলা কবিতা logo
বাংলা কবিতা

২৩ মার্চ, ২০২৬, ২৩:৪৭

যে যায় সে দীর্ঘ যায়
শক্তি চট্টোপাধ্যায়

একজন দীর্ঘ লোক সামনে থেকে চলে গেলো দূরে —
দিগন্তের দিকে মুখ, পিছনে প্রসিদ্ধ বটচ্ছায়া
কে জানে কোথায় যাবে— কোথা থেকে এসেছে দৈবাৎ-ই
এসেছে বলেই গেলো, না এলে যেতো না দূরে আজ।
সমস্ত মানুষ, শুধু আসে বলে, যেতে চায় ফিরে।
মানুষের মধ্যে আলো, মানুষেরই ভূমধ্য তিমিরে
লুকোতে চেয়েছে বলে আরো দীপ্যমান হয়ে ওঠে —
আশা দেয়, ভাষা দেয়, অধিকন্তু, স্বপ্ন দেয় ঘোর।
যে যায় সে দীর্ঘ যায়, থাকা মানে সীমাবদ্ধ থাকা।
একটা উদাত্ত মাঠে, শিকড়ে কি বসেছে মানুষ-ই?
তখন নিশ্চিতই একা, তার থাকা—তার বর্তমানে,
স্বপ্নহীন, ঘুমহীন— ধূলা ধূম তাকে নাহি টানে।
একজন দীর্ঘলোক সামনে থেকে চলে গেলো দূরে —
এভাবেই যেতে হয়, যেতে পারে মানুষ, মহিষ!

@bangla_kobita
6,6300025
বাংলা কবিতা logo
বাংলা কবিতা

১০ ফেব, ২০২৬, ১০:৪৫

নির্বাক
শবরী শর্মারায়

ছোটোবেলার হাতভাঙা পুতুল বন্ধু ছিল খুব
এখন কোলে তুলি না আর
বোঝাই, বড়ো হলে পুতুল খেলতে নেই

পুতুল রাগ করে না
অবাক তাকায়

চোখদুটো বলে
তোমারও কি ভাঙা হাত!

@bangla_kobita
7,3500035
বাংলা কবিতা logo
বাংলা কবিতা

০৫ জানু, ২০২৬, ২১:০৪

শীত
ভাস্কর চক্রবর্তী

তোমার চুল উড়ছে হাওয়ায়—বাঁ-হাতে, তুমি ধরে আছো তোমার টেলিফোন

শীতের আলোয়, আবার আমি ফিরে এসেছি আজ তোমার ঘরে

তোমাদের বিড়াল—দেখি, আগের মতো

ততোটা ক্ষিপ্র নয় আর—তোমার পশমের বল

দেখি, গড়িয়ে চলেছে—আরও গড়িয়ে চলেছে ঢালু খাটের নিচে—

চুপচাপ বসে আছি আমি—চুপচাপ হাই তুলছে তোমাদের বিড়াল

শীতের ঝর্না, ডেকে ডেকে ফিরে যাচ্ছে আমাদের

@bangla_kobita ❄️
8,6800043
বাংলা কবিতা logo
বাংলা কবিতা

২৩ নভে, ২০২৫, ২১:২৯

ও বেহুলা
অরুণ মিত্র

আমার বিছানায় মাঝ রাত্তিরের ঢেউ লাগলে আমি বেহুলাকে
ডাকি; ও বেহুলা, তোমাকে বলবার কিছু কথা আছে আমার, শোনো।
লোহার বাসর ঘর থেকে সাপেকাটা লখিন্দরকে নিয়ে তুমি গেলে
জলে ভাসিয়ে দিতে। তাইতো বিধান। তুমি কলার ভেলায় তাকে
শোয়ালে ঠিকই, কিন্তু একলা ভেসে যেতে দিলে না,
তুমিও ভাসলে তার সঙ্গে। সেটা আশ্চর্যের নয়। তুমি যে
ভীষণ ভালবাসতে তাকে এবং তোমার ভালবাসার তেজ
ছিল দুর্দান্ত। তুমি সমস্ত বিঘ্ন বিপদ তুচ্ছ করে
সমুদ্র পাড়ি দিয়ে হাজির হলে দেবতাদের আড্ডায়।
সেখানে তাদের সবাইকে নাজেহাল বেসামাল ক’রে
লখিন্দরকে বাঁচিয়ে ফিরেয়ে আনলে বাড়িতে। ধন্য ধন্য
পড়ে গেল সারা দেশে। এ পুণ্যভূমির আকাশে বাতাসে
শ্লোগানের মতো ধ্বনি উঠল
এই তো পতিভক্তি, একেই বলে সতীসাধ্বী।
ও বেহুলা, এখন বলো তো আমায়, লোহার বাসর
ঘরে অন্ধকারে সাপটা যদি ভুল করে লখিন্দরের বদলে
তোমাকে ছোবল দিত, তাহলে কী হত!
বেহুলা মুখ নিচু করে চুপ। কিছুই বলে না।
তাহলে শোনো, কী ঘটতো আমিই বলে দিই। লখিন্দর
যত্ন করে তোমাকে বয়ে নিয়ে যেত, যত্ন করে কলার ভেলায়
তোমাকে শুইয়ে ভাসিয়ে দিত ভেলা। সে নিজে কিন্তু
থাকত ডাঙায় এবং ভাঙ্গা হৃদপিন্ড নিয়ে শোকাচ্ছন্ন
ফিরে আসত বাড়িতে। তোমার বিরহে সে দিনরাত
ধিক ধিক আগুনে পুড়ত। দাঁতে দাঁত চেপে কোনরকমে
সংসারে টিকে থাকত। কিন্তু মাস দুই বাদে, তোমার
বিরহ এমন অসহ্য হয়ে উঠল – লখিন্দরের কাছে,
যে আর একটি মেয়েকে তার বিয়ে করতেই হল। অবশ্যি
তোমার মতো অপরূপ সুন্দরী সে নয়। কিন্তু তাতে
কী আর এমন অসুবিধে।

@bangla_kobita
9,2800043
বাংলা কবিতা logo
বাংলা কবিতা

১৮ নভে, ২০২৫, ১৫:৪০

উদাসীনা
শঙ্খ ঘোষ

পা ছুঁয়ে যে প্রণাম করি সে কি কেবল দিনযাপনের নিশান?
আমি কেবল দেখতে চেয়েছিলাম
নির্জীব পা সরিয়ে নাও কিনা।

দুঃখ এত ঝরাই, সে কি জানতে চেয়ে দেবদূতেরা কী চান?
আমি কেবল দেখতে চেয়েছিলাম
তোমার মুখে সত্যিকারের ঘৃণা।

এখন আমি বুঝতে পারি আমায় নিয়ে কী চাও তুমি।
দুপুর জ্বালার মধ্যখানে
সূত্রপাতে অবসানে
তুমি আমায় দেখতে চেয়েছিলে
দু-হাত ধরেও থাকব উদাসীনা।

@bangla_kobita
7,3400033
বাংলা কবিতা logo
বাংলা কবিতা

২৩ সেপ, ২০২৫, ১৪:৪৩

মা ভাগ হয় না
বেণু দত্তরায়

পাসপোর্ট ও ভিসার বাইরে দাঁড়িয়ে আছি
আমার চোখে কোনো জল নেই
মাটি ভাগ হয় মা ভাগ হয় না
এ সত্য জেনেছি

আমার জন্মদায়িনী মা
সুখ-দুঃখের শেতলপাটিতে বসে থাকে
খালে-বিলে ফুটে থাকে শাপলা-শালুক
মৌটুসি পাখির ঝাঁক আকাশে ওড়ে
ছাতিমতলার পুকুরে বৌডুবির খালে
আমাদের কথা-কিংবদন্তি জড়িয়ে থাকে
অবিনাশী জ্যোৎস্না
শ্মশানের মাটিতেও কুসুম-কুসুম গন্ধ

দাওয়া থেকে তাকিয়ে দেখি
আকাশে উঠেছে ইন্দ্রধনু
আমাদের সখের ডিঙায়
দৌলত কাজী ও আলাওলেরা গান গায়
কৃত্তিবাস ও কাশীরামের ভিটে ছাড়িয়ে
উজান বয় নৌকো
আমাদের মধুমালতীর গাথা পীরের গান...
মহুয়া-মলুয়া-কাজলরেখারা
হাত ধরাধরি করে উঠে দাঁড়িয়েছে...
মৃতের পিদিম জ্বলে রাত্রি হলে
আমাদের দাদিমার চোখ...
ঠাকুমার মকরমুখী-বালা
আমার মায়ের দু'হাত জড়িয়ে
চন্দ্রসূর্য
কতবার ঝড় এল
ঘর ভাঙল এখানে
বর্ষার হানায় মৃত্যুর উজানে
বন্যায় খরায়
কতবার বর্গী এল বর্গী এল দেশে
ধান ফুরাল পান ফুরাল খাজনা দেব কী
মায়ের মুখের হাসি তবু পুরনো হয় না

খেজুর গাছের সারি ছাড়িয়ে
চলেছে গরুর গাড়ি...
ঈশ্বরীর মতো নদীরা... গাছপালা...
গাঁ-গঞ্জ উঠোন-ঘরবাড়ি...
মহরমের তাজিয়ায় পদ্মাপুরাণ গানের বাজনায়
দুর্গাপ্রতিমার মতো হাসি মা-র মুখে

পাসপোর্ট ও ভিসার বাইরে দাঁড়িয়ে আছি
কাঁটাতারের বেড়া ছাড়িয়ে
আমার চোখে কোনো জল নেই
মাটি ভাগ হয় - মা ভাগ হয় না।

@bangla_kobita
9,3500040
বাংলা কবিতা logo
বাংলা কবিতা

১১ আগ, ২০২৫, ১১:২৭

খেতে প্রান্তরে
জীবনানন্দ দাশ
১

ঢের সম্রাটের রাজ্যে বাস ক’রে জীব
অবশেষে একদিন দেখেছে দু-তিন ধনু দূরে
কোথাও সম্রাট নেই, তবুও বিপ্লব নেই, চাষা
বলদের নিঃশব্দতা খেতের দুপুরে।
বাংলার প্রান্তরের অপরাহ্ণ এসে
নদীর খাড়িতে মিশে ধীরে
বেবিলন লণ্ডনের জন্ম, মৃত্যু হ’লে—
তবুও রয়েছে পিছু ফিরে।
বিকেল এমন ব’লে একটি কামিন এইখানে
দেখা দিতে এলো তার কামিনীর কাছে;
মানবের মরণের পরে তার মমির গহ্বর
এক মাইল রৌদ্রে প’ড়ে আছে।

২
আবার বিকেল বেলা নিভে যায় নদীর খাড়িতে;
একটি কৃষক শুধু খেতের ভিতরে
তার বলদের সাথে সারাদিন কাজ ক’রে গেছে;
শতাব্দী তীক্ষ্ণ হ’য়ে পড়ে।
সমস্ত গাছের দীর্ঘ ছায়া
বাংলার প্রান্তরে পড়েছে;
এ-দিকের দিনমান— এ-যুগের মতো শেষ হ’য়ে গেছে,
না জেনে কৃষক চোত বোশেখের সন্ধ্যার বিলম্বনে প’ড়ে
চেয়ে দেখে থেমে আছে তবুও বিকাল;
উনিশশো বেয়াল্লিশ ব’লে মনে হয়
তবুও কি উনিশশো বেয়াল্লিশ সাল।

৩

কোথাও শান্তির কথা নেই তার, উদ্দীপ্তিও নেই;
একদিন মুত্যু হবে, জন্ম হয়েছে;
সূর্য উদয়ের সাথে এসেছিলো খেতে;
সূর্যাস্তের সাথে চ’লে গেছে।
সূর্য উঠবে জেনে স্থির হ’য়ে ঘুমায়ে রয়েছে।
আজ রাতে শিশিরের জল
প্রাগৈতিহাসিক স্মৃতি নিয়ে খেলা করে;
কৃষাণের বিবর্ণ লাঙল,
ফালে ওপড়ানো সব অন্ধকার ঢিবি,
পোয়াটাক মাইলের মতন জগৎ
সারাদিন অন্তহীন কাজ ক’রে নিরুৎকীর্ণ মাঠে
প’ড়ে আছে সৎ কি অসৎ।

৪

অনেক রক্তের ধ্বকে অন্ধ হ’য়ে তারপর জীব
এইখানে তবুও পায়নি কোনো ত্রাণ;
বৈশাখের মাঠের ফাটলে
এখানে পৃথিবী অসমান।
আর-কোনো প্রতিশ্রুতি নেই।
কেবল খড়ের স্তূপ প’ড়ে আছে দুই— তিন মাইল,
তবু তা’ সোনার মতো নয়;
কেবল কাস্তের শব্দ পৃথিবীর কামানকে ভুলে
করুণ, নিরীহ, নিরাশ্রয়।
আর-কোনো প্রতিশ্রুতি নেই।
জলপিপি চ’লে গেলে বিকেলের নদী কান পেতে
নিজের জলের সুর শোনে;
জীবাণুর থেকে আজ কৃষক, মানুষ
জেগেছে কি হেতুহীন সংপ্রসারণে—
ভ্রান্তিবিলাসে নীল আচ্ছন্ন সাগরে?

চৈত্য, ক্রুশ, নাইণ্টিথ্রি ও সোভিয়েট শ্রুতি প্রতিশ্রুতি
যুগান্তের ইতিহাস, অর্থ দিয়ে কূলহীন সেই মহাসাগরে প্রাণ
চিনে-চিনে হয়তো বা নচিকেতা প্রচেতার চেয়ে অনিমেষে
প্রথম ও অন্তিম মানুষের প্রিয় প্রতিমান
হ’য়ে যায় স্বাভাবিক জনমানবের সূর্যালোকে।

@bangla_kobita
9,3000037
বাংলা কবিতা logo
বাংলা কবিতা

১০ আগ, ২০২৫, ১৪:০৫

কিছু একটা পুড়ছে
নবারুণ ভট্টাচার্য

কিছু একটা পুড়ছে
আড়ালে, বেরেতে, তোষকের তলায়, শ্মশানে
কিছু একটা পুড়েছেই
আমি ধোঁয়ার গন্ধ পাচ্ছি
বিড়ি ধরিয়েছে কেউ
কেউ উবু হয়ে ফুঁ দিচ্ছে উনুনে
কেউ চিতায় তুলে দিয়েছে
আন্ত্রিক রোগে মৃত শীর্ণতম শিশু
ওলট পালট খাচ্ছে জ্বলন্ত পাখি
কোথাও গ্যাসের সিলিণ্ডার ফেটেছে
কোথাও কয়লাখনিতে, বাজির কারখানায় আগুন
কিছু একটা পুড়ছে
চার কোনা ধরে গেছে
জ্বলন্ত মশারি নেমে আসছে ঘুমের মধ্যে
কিছু একটা পুড়ছে
ক্ষুধায় পুড়ছে নাড়ি, অন্ত্রেরা
ভালোবাসায় পুড়ছে যুবক
পুড়ছে কামনার শরীর, তুষ, মবিলে ভেজানো তুলো
কিছু একটা পুড়ছেই
হল্‌কা এসে লাগছে আঁচের
ইমারত, মূল্যবোধ, টাঙানো বিশাল ছবি
প্রতিশ্রুতি, টেলিভিশন, দুষ্প্রাপ্য বই
কিছু একটা পুড়ছে
আমি হাতড়ে হাতড়ে দেখছি কী পুড়ছে
কিছু একটা পুড়ছে
কী ছুঁয়ে হাতে ফোস্কা পড়ছে
কিছু একটা পুড়ছে, গনগন করছে
চুপ করে পুড়ছে, মুখ বুজে পুড়ছে
ঝড় যদি ওঠে তাহলে কিন্তু দপ করে জ্বলে উঠবে
কিছু একটা পুড়ছে বলছি
দমকলের গাড়ি, নাভিকুণ্ডল, সূর্য
কিছু একটা পুড়ছে
প্রকাশ্যে, চোখের ওপর
মানুষের মধ্যে
স্বদেশ!

@bangla_kobita
7,3500037
বাংলা কবিতা logo
বাংলা কবিতা

০৩ আগ, ২০২৫, ১৮:০৩

বন্ধু-সম্মিলন
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

বন্ধু-সম্মিলন ছিল কাল মধ্যরাতে
চাঁদের পাড়ায় খুব গণ্ডগোল, পরীরা সবাই নিরুদ্দেশ
নদীর কিনার ঘেঁষে বাঁধা নীল তাঁবু
আমাদের ছেলেবেলা, আমাদের পাগলামির
সোঁদা গন্ধ মাখা
বাতাস ঊনপঞ্চাশ, দিগন্তের ওপারে আকাশ

আমাদের পদধ্বনি শুনে থেমে যায় ঝিল্লিরব
আঁধার উজ্জ্বল হলো আমাদের নিজস্ব মশালে
শরীরের রোমহর্ষ, প্রথম শীতের স্নিগ্ধ স্বাদ
পুরোনো কালের সেই শতরঞ্জি, খুবই যেন
চেনাশুনো ধুলো

বহুদিন পর দেখা, হাসাহাসি ভুরুর তলায়
কথা নেই, সকলেই সব জানি, নীরবতা ছিল মধ্যমণি
বন্ধু-সম্মিলন ছিল কাল মধ্যরাতে।

@bangla_kobita
7,1300024
বাংলা কবিতা logo
বাংলা কবিতা

০৩ আগ, ২০২৫, ১২:০৯

ও মেয়ে শোনো
তসলিমা নাসরিন

তোমাকে বলেছে –আস্তে,

বলেছে –ধীরে,
বলেছে –কথা না,
বলেছে –চুপ।
বলেছে– বসে থাকো,
বলেছে– মাথা নোয়াও,
বলেছে — কাঁদো।

তুমি কি করবে জানো?
তুমি এখন উঠে দাঁড়াবে
পিঠটা টান টান করে, মাথাটা উঁচু করে দাঁড়াবে,
তুমি কথা বলবে, অনর্গল বলবে, যা ইচ্ছে তাই বলবে,
জোরে বলবে,
চিৎকার করে বলবে,
এমন চিৎকার করবে যেন ওরা দুহাতে ওদের কান চেপে রাখে।
ওরা তোমাকে বলবে, ছি ছি! বেহায়া বেশরম
শুনে তুমি হাসবে।
ওরা তোমাকে বলবে, তোর চরিত্রের ঠিক নেই,
শুনে তুমি জোরে হাসবে
বলবে তুই নষ্ট ভ্রষ্ট
তুমি আরও জোরে হাসবে
হাসি শুনে ওরা চেঁচিয়ে বলবে, তুই একটা বেশ্যা
তুমি কোমরে দুহাত রেখে পা ফাঁক করে দাঁড়িয়ে বলবে, হ্যাঁ আমি বেশ্যা।
ওদের পিলে চমকে উঠবে। ওরা বিস্ফারিত চোখে তোমাকে দেখবে। ওরা পলকহীন তোমাকে
দেখবে। তুমি আরও কিছু বলো কি না শোনার জন্য কান পেতে থাকবে।
ওদের মধ্যে যারা পুরুষ তাদের বুক দুরু দুরু কাঁপবে,
ওদের মধ্যে যারা নারী তারা সবাই তোমার মত বেশ্যা হওয়ার স্বপ্ন দেখবে।

@bangla_kobita
6,5300033
বাংলা কবিতা logo
বাংলা কবিতা

৩০ জুল, ২০২৫, ১৮:০৪

বাঙলা ভাষা
হুমায়ুন আজাদ

শেকলে বাঁধা শ্যামল রূপসী, তুমি-আমি, দুর্বিনীত দাসদাসী-
একই শেকলে বাঁধা প’ড়ে আছি শতাব্দীর পর শতাব্দী।
আমাদের ঘিরে শাঁইশাঁই চাবুকের শব্দ, স্তরে স্তরে শেকলের ঝংকার।
তুমি আর আমি সে-গোত্রের যারা চিরদিন উৎপীড়নের মধ্যে গান গায়-
হাহাকার রূপান্তরিত হয় সঙ্গীতে-শোভায়।

লকলকে চাবুকের আক্রোশ আর অজগরের মতো অন্ধ শেকলের
মুখোমুখি আমরা তুলে ধরি আমাদের উদ্ধত দর্পিত সৌন্দর্য:
আদিম ঝরনার মতো অজস্র ধারায় ফিনকি দেয়া টকটকে লাল রক্ত,
চাবুকের থাবায় সূর্যের টুকরোর মতো ছেঁড়া মাংস
আর আকাশের দিকে হাতুড়ির মতো উদ্যত মুষ্টি।

শাঁইশাঁই চাবুকে আমার মিশ্র মাংসপেশি পাথরের চেয়ে শক্ত হয়ে ওঠে
তুমি হয়ে ওঠো তপ্ত কাঞ্চনের চেয়েও সুন্দর।
সভ্যতার সমস্ত শিল্পকলার চেয়ে রহস্যময় তোমার দু-চোখ
যেখানে তাকাও সেখানেই ফুটে ওঠে কুমুদকহ্লার
হরিণের দ্রুত ধাবমান গতির চেয়ে সুন্দর ওই ভ্রূযুগল
তোমার পিঠে চাবুকের দাগ চুনির জড়োয়ার চেয়েও দামি আর রঙিন
তোমার দুই স্তন ঘিরে ঘাতকের কামড়ের দাগ মুক্তোমালার চেয়েও ঝলোমলো
তোমার ‘অ, আ’ –চিৎকার সমস্ত আর্যশ্লোকের চেয়েও পবিত্র অজর

তোমার দীর্ঘশ্বাসের নাম চণ্ডীদাস
শতাব্দী কাঁপানো উল্লাসের নাম মধুসূদন
তোমার থরোথরো প্রেমের নাম রবীন্দ্রনাথ
বিজন অশ্রুবিন্দুর নাম জীবনানন্দ
তোমার বিদ্রোহের নাম নজরুল ইসলাম

শাঁইশাঁই চাবুকের আক্রোশে যখন তুমি আর আমি
আকাশের দিকে ছুঁড়ি আমাদের উদ্ধত সুন্দর বাহু, রক্তাক্ত আঙুল,
তখনি সৃষ্টি হয় নাচের নতুন মুদ্রা;
ফিনকি দেয়া লাল রক্ত সমস্ত শরীরে মেখে যখন আমরা গড়িয়ে পড়ি
ধূসর মাটিতে এবং আবার দাঁড়াই পৃথিবীর সমস্ত চাবুকের মুখোমুখি,
তখনি জন্ম নেয় অভাবিত সৌন্দর্যমন্ডিত বিশুদ্ধ নাচ;
এবং যখন শেকলের পর শেকল চুরমার ক’রে ঝনঝন ক’রে বেজে উঠি
আমরা দুজন, তখনি প্রথম জন্মে গভীর-ব্যাপক-শিল্পসম্মত ঐকতান-
আমাদের আদিগন্ত আর্তনাদ বিশশতকের দ্বিতীয়ার্ধের
একমাত্র গান।

@bangla_kobita
6,7000016
বাংলা কবিতা logo
বাংলা কবিতা

২৯ জুল, ২০২৫, ০০:১০

কালো অ্যাম্বাসাডর
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

কালো অ্যাম্বাসাডরের প্রসঙ্গ উঠতেই তাঁর কথা
অকস্মাৎ ঘুরে যায়
খুন, দাঙ্গা, রাহাজানি ইত্যাদির দিকে।
অতঃপর
কান টানলে যেমন মাথা আসে,
তেমনি করে এসে গেল
রাষ্ট্রনীতি, ইমার্জেন্সি, আইন-শৃঙ্খলা।
ভদ্রলোক অত্যন্ত আবেগ দিয়ে বলে যাচ্ছিলেন,
“অন্ন চাই, বস্ত্র চাই, আশ্রয়, চিকিৎসা চাই, অবশ্যই চাই!
আরে বাবা,
এইসব উত্তম বস্তু কে না চায়? আমি কি চাই না?
চাই, চাই, একশো বার চাই।
কিন্তু তার আগে
ল অ্যাণ্ড অর্ডার চাই, সেইটেই এখন
সবচেয়ে জরুরি।”

কার জন্যে জরুরি, আমি প্রশ্ন করে উত্তর পাই না।

@bangla_kobita
5,5200022
বাংলা কবিতা logo
বাংলা কবিতা

২৭ জুল, ২০২৫, ২২:০০

মৃত্যুর দিকে
রাহুল পুরকায়স্থ

গিয়েছি ভুলের থেকে আরও আরও ভুলের ভিতরে,

দেখেছি ভুলের পোকা নেচে নেচে গান গায়

ফসলের ক্ষেতে,

আমি তো ভাগের চাষী,

শব্দের ফসলে তারা গুনি,

ঘর ভাসে, পথ ভাসে অনিশ্চিত

স্বরহীনতায়

এইরূপে ক্রমে ক্রমে কবিতা মৃত্যুর দিকে যায়


@bangla_kobita চ্যানেলের পক্ষ থেকে প্রয়াত কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানাই।
6,6600024
বাংলা কবিতা logo
বাংলা কবিতা

২৪ জুল, ২০২৫, ১৩:৩৩

বৃষ্টি
শঙ্খ ঘোষ

আমার দুঃখের দিন তথাগত
আমার সুখের দিন ভাসমান।
এমন বৃষ্টির দিন পথে-পথে
আমার মৃত্যুর দিন মনে পড়ে।

আবার সুখের মাঠ জলভরা
আবার দুঃখের ধান ভরে যায়।
এমন বৃষ্টির দিন মনে পড়ে
আমার জন্মের কোনো শেষ নেই।

@bangla_kobita
5,8000034
বাংলা কবিতা logo
বাংলা কবিতা

২৩ জুল, ২০২৫, ০০:০২

কখন আসছ তুমি
পূর্ণেন্দু পত্রী

সকল দুয়ার খোলা আছে
নিমন্ত্রণ-লিপি গাছে গাছে
গাঢ় চুম্বনের মত আকাশ নদীর খুব কাছে
রোদে ঝলোমলো।
কখন আসছ তুমি বলো?
বেলা যায়, দেরী হয়ে যায়
বাসি ফুল বাগানে শুকায়
অন্যান্য সমস্ত লোক আড়ম্বরপূর্ণ হেঁটে যায়
দূরের উৎসবে।
তোমার কি আরো দেরী হবে?
আজ ছিল বড় পুণ্যতিথি
সব ঘরে আত্মীয় অতিথি
পুরনো কাপড় ছেড়ে নতুন বসনে বনবীথি
সেজেছে নবীনা
জানি না তা তুমি জান কিনা।
একা আছি, শূন্যতায় আছি
বুকে ওড়ে বিতৃষ্ণার মাছি
মনের সংলাপ থেকে যা কিছু বাসনায় বাছি
জলে টলোমলো।
কখন আসছ তুমি বলো?

@bangla_kobita

আমাদের চ্যানেলটিতে বর্তমানে মোট ৪০০০ জন পাঠক যুক্ত রয়েছেন। সকলকে অনেক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। 🌸
6,6200049

Showing 24 of 24 posts

রেটিং

লগইন প্রয়োজন

Frequently Asked Questions

বাংলা কবিতা টেলিগ্রাম চ্যানেল কী বিষয়ে?+

বাংলা কবিতা (@bangla_kobita) tgdio-এ বলিউড মুভি ক্যাটাগরিতে তালিকাভুক্ত একটি টেলিগ্রাম চ্যানেল। র‍্যাঙ্কিং, রেটিং, রিভিউ ও সাম্প্রতিক পোস্ট দেখে সাবস্ক্রাইব করার আগে সিদ্ধান্ত নিন। এখন tgdio-এ প্রায় ৪,৩৯১ সাবস্ক্রাইবার আছে।

আমি কীভাবে বাংলা কবিতা (@bangla_kobita) জয়েন করব?+

tgdio-এ চ্যানেল প্রোফাইল খুলে Join / Open in Telegram দিয়ে @bangla_kobita-এ বিনামূল্যে সাবস্ক্রাইব করুন।

বাংলা কবিতা কি ভালো বলিউড মুভি চ্যানেল?+

tgdio-এ জয়েনের আগে বাংলা কবিতা-এর রেটিং, রিভিউ, র‍্যাঙ্কিং ও পোস্ট দেখুন। এখন tgdio-এ প্রায় ৪,৩৯১ সাবস্ক্রাইবার আছে। একই বলিউড মুভি চ্যানেলের সাথে তুলনা করুন।

বাংলা কবিতা-এর স্ট্যাটস ও পোস্ট কোথায় দেখব?+

tgdio-এ @bangla_kobita পেজ খুলুন — সাবস্ক্রাইবার স্ট্যাটস, র‍্যাঙ্কিং, রেটিং ও পোস্ট। Stats লিঙ্ক দিয়ে গ্রোথ চার্ট দেখুন।