ঘটনার পর্যায়
বর্ণনা ও বিশদ বিবরণ
সময়কাল ও স্থান
উল্লেখযোগ্য শিক্ষা ও ফলাফল
কুরআন ও হাদিসের দলীল
বিজ্ঞান ও যুক্তির ব্যাখ্যা (Inferred)
উৎস
ইসরা (মক্কা থেকে বাইতুল মুকাদ্দাস সফর)
নবী (সা.) জিবরাঈল (আ.)-এর সাথে বিদ্যুৎগতি সম্পন্ন বাহন 'বোরাক'-এ চড়ে মক্কার মসজিদুল হারাম থেকে জেরুসালেমের মসজিদুল আকসায় গমন করেন। সেখানে তিনি বোরাক বেঁধে রাখেন এবং নবীদের ইমামতি করে দুই রাকাত সালাত আদায় করেন।
নবুওয়াতের দশম বর্ষ (৬২০ খ্রিষ্টাব্দ), ২৭ রজব রাত; মসজিদুল হারাম (মক্কা) থেকে মসজিদুল আকসা (জেরুসালেম)।
মুহাম্মাদ (সা.) সকল নবীর ইমাম এবং তাঁর শরীয়তই সর্বশেষ শরীয়ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি জিবরাঈল (আ.)-এর পেশ করা দুধ ও শরাবের পাত্র থেকে দুধ গ্রহণ করে ইসলামের 'ফিতরাত' বা স্বভাবজাত বিষয়কে নির্বাচন করেন।
সূরা বনী ইসরাঈল (১৭): ১; সহীহ বুখারী, হাদিস নং ৩৮৮৬ ও ৩৩৯৪; সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ১৭২।
আধুনিক বিজ্ঞানের 'মুক্তিবেগ' (Escape Velocity) এবং 'ভূস্থির উপগ্রহ' (Geostationary Satellite)-এর ধারণা মাধ্যাকর্ষণ শক্তি অতিক্রমের বিষয়টিকে সমর্থন করে। আলোর গতিতে ভ্রমণ করলে সময়ের আপেক্ষিকতা (Theory of Relativity) অনুযায়ী দীর্ঘ পথ অতি অল্প সময়ে অতিক্রম করা সম্ভব।
[1-6]
মিরাজ (সপ্ত আসমান ভ্রমণ)
বায়তুল মুকাদ্দাস থেকে নবী (সা.) জিবরাঈল (আ.)-এর সাথে আসমানে আরোহণ করেন। প্রথম আসমানে আদম (আ.), দ্বিতীয় আসমানে ঈসা (আ.) ও ইয়াহইয়া (আ.), তৃতীয় আসমানে ইউসুফ (আ.), চতুর্থ আসমানে ইদরীস (আ.), পঞ্চম আসমানে হারূন (আ.), ষষ্ঠ আসমানে মূসা (আ.) এবং সপ্তম আসমানে ইব্রাহিম (আ.)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন।
নবুওয়াতের দশম বর্ষ (৬২০ খ্রিষ্টাব্দ), ২৭ রজব রাত; বায়তুল মুকাদ্দাস থেকে সিদরাতুল মুনতাহা হয়ে আরশে মুয়াল্লা পর্যন্ত।
আকাশের অধিবাসীদের কাছে মুহাম্মাদ (সা.)-এর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ পায়। সিদরাতুল মুনতাহায় আল্লাহর বড় বড় নিদর্শন পর্যবেক্ষণ এবং ফেরেশতাদের ইবাদতের স্থান 'বায়তুল মামুর' দর্শন করেন।
সূরা আন-নাজম (৫৩): ১৩-১৮; সহীহ বুখারী, হাদিস নং ৩৮৮৭; সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ১৬২।
আইনস্টাইনের সময়ের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব (Time Dilation) অনুযায়ী দ্রুতগতিতে ভ্রমণকারী ব্যক্তির সময় স্থির থাকা ব্যক্তির তুলনায় ধীরগতিতে চলে, যা অতি অল্প সময়ে বিশাল বিশ্ব ভ্রমণের যৌক্তিকতা প্রদান করে।
[1, 3, 4, 6]
জান্নাত ও জাহান্নাম পর্যবেক্ষণ
সফরকালে নবী (সা.) জান্নাতের নেয়ামত এবং জাহান্নামের ভয়াবহ শাস্তি প্রত্যক্ষ করেন। তিনি সুদখোর, ব্যভিচারী, গীবতকারী এবং এতিমের সম্পদ আত্মসাৎকারীদের বিভিন্ন শাস্তির দৃশ্য দেখেন।
নবুওয়াতের দশম বর্ষ (৬২০ খ্রিষ্টাব্দ), ২৭ রজব রাত; উর্ধ্বাকাশ ভ্রমণ চলাকালীন।
পার্থিব পাপের ভয়াবহ পরিণতি এবং ইবাদতের পুরস্কার সম্পর্কে সরাসরি জ্ঞান লাভ। গীবত, সুদ ও ব্যভিচার থেকে উম্মতকে সতর্ক করার শিক্ষা।
সহীহ বুখারী, হাদিস নং ৭০৪৭ ও ৭৫১৭; জামে তিরমিযী, হাদিস নং ৩১৩১; মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং ১২২১১।
মানুষের মস্তিষ্কের দৃশ্যমান উপলব্ধি এবং প্যারালাল ইউনিভার্স বা ভিন্ন মাত্রার জগতের অস্তিত্বের সম্ভাবনা দিয়ে অলৌকিক এই পর্যবেক্ষণকে ব্যাখ্যা করা যায়।
[1, 3, 4, 7]
সালাত ফরজ হওয়া ও উপহার লাভ
নবী (সা.) আল্লাহর একান্ত সান্নিধ্যে উপনীত হন এবং কোনো মাধ্যম ছাড়াই কথোপকথন করেন। সেখানে উম্মতের জন্য প্রথমে ৫০ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হয়, যা পরবর্তীতে মূসা (আ.)-এর পরামর্শে কয়েক ধাপে আবেদন করার পর ৫ ওয়াক্তে নির্ধারিত হয়।
নবুওয়াতের দশম বর্ষ (৬২০ খ্রিষ্টাব্দ), ২৭ রজব রাত; আরশে মুয়াল্লা ও সিদরাতুল মুনতাহার নিকটবর্তী স্থান।
৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করলে ৫০ ওয়াক্তের সওয়াব পাওয়া যাবে। এছাড়াও সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত এবং শিরককারী ব্যতীত উম্মতের গুনাহ মাফের সুসংবাদ উপহার হিসেবে লাভ করেন।
সূরা আন-নাজম (৫৩): ১০; সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ১৭৩; সহীহ বুখারী, হাদিস নং ৩৮৮৭।
আলোর গতির চেয়েও দ্রুততর কোনো আধ্যাত্মিক যোগাযোগের মাধ্যমে সময়ের সীমাবদ্ধতা জয় করে স্রষ্টার সাথে কথোপকথন সম্ভব বলে বিশ্বাসীদের যুক্তি।
[1, 3, 4]
[1] অগ্রপথিক – মার্চ ২০২১
[2] আল-আকসা মসজিদ - উইকিপিডিয়া
[3] ইসরা ও মি'রাজ: বিশ্বনবী ﷺ এর সর্বশ্রেষ্ঠ মুজেযা - Islamonweb Bangla
[4] কুরআন-হাদীসে ইসরা ও মিরাজ : বর্ণনা ও শিক্ষা - মাসিক আলকাউসার
[5] বাইতুল মামুর কী করে আসমানে কাবা ঘরের ঠিক উপরে থাকতে পারে যেখানে পৃথিবী নিজ অক্ষের উপরে ঘুরছে? - response-to-anti-islam
[6] বিজ্ঞানের আলোকে লায়লাতুল মেরাজ - চ্যানেল আই অনলাইন
[7] মেরাজের রাতে নবীজি জান্নাত ও জাহান্নামে কী দেখেছিলেন -
http://Dhakapost.com/