#education হাসিনার অপরাধ সাম্রাজ্যের একচিলতে কাহিনীঃ
মেঘনা ভার্সিটির ছুটিতে বাড়িতে যাবে বলে বিকাশ থেকে টাকা তোলার জন্য বাইরে বের হয়েছিল--- এবং সাথে কিছু কেনাকাটাও করবে।
কিন্তু বাজারের কাছাকাছি এলে সাদা পোশাকধারী কিছু লোক মেঘনাকে জোর করে মাইক্রোতে তুলে ফেলে--- এরপর চোখ বাঁধে।
মেয়েটা চিৎকার করতে শুরু করলে ওরা তার ঠোঁট টেপ দিয়ে আটকিয়ে দেয়।
মেয়েটা বুঝতে পারে না তাকে কেন এভাবে তুলে নেওয়া হচ্ছে। সে ইশারায় জিজ্ঞেস করতে থাকে কেন তাকে তুলে আনা হলো। কিন্তু কোন উত্তর পায় না।
মাইক্রোটি মিরপুর সনির ওখানে এসে মেঘনার মোবাইল কল দিয়ে মেঘনার বান্ধবী মৌকে ডেকে আনে তাদের কাছে । মৌ কাছে এলে ওকেও ঠিক একই কায়দায় সেখান থেকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে চোখমুখ বেঁধে ফেলে।
তারা দুজন বুঝতে পারে না তাদের সাথে কী হচ্ছে। চোখমুখ বাঁধা থাকায় হাতের আঙ্গুল নেড়ে জিজ্ঞেস করছিল কেন তাদের সাথে এরকম করা হচ্ছে।
কিন্তু এবারেও কোন উত্তর দেয় না দুর্বৃত্তরা ।
অনেকক্ষণ যাবত গাড়ি চালিয়ে তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হয় নরসিংদীর একটা পরিত্যাক্ত বাড়িতে।
সেখানে এনে চোখ মুখের বাঁধন খুলে দেয়।
মেয়ে দুটো কেঁদে কেঁদে আকুতি জানায়- আমরা কিচ্ছু করি নাই, প্লিজ আমাদের ছেড়ে দেন, আমরা বাড়িতে যাব।
দুর্বৃত্তরা কিছু শর্ত দিয়ে তাদেরকে কিছু কাজ করতে বলে। নয়তো বড় ঝামেলায় পড়বে বলে হুমকি দিতে থাকে।
টানা ৩ দিন মেয়ে দুটোকে সেখানে রাখা হয়। চারপাশে মাকড়সার জাল, নোংরা পানি, ঘুটঘুটে অন্ধকার--- নেই বিদ্যুৎ।
৩ দিন পর মেয়ে দুটো দেখতে পায় বাড়িতে ড্রোন পাঠানো হয়েছে।
ভয়ে কাঁদতে কাঁদতে আবারও বাড়িতে যাবার আকুতি জানায় তারা। কিছুক্ষণপরই দেখতে পায় বাইরে পুলিশ, র্যাব, ডিবির শত শত লোকজন দাঁড়িয়ে আছে।
মেয়ে দুটো বুঝতে পারে না কী হচ্ছে ওদের সাথে। ওরা কান্নারত কন্ঠে বারবার বলতে থাকে- প্লিজ, আমাদেরকে বাড়িতে যেতে দেন।
বাইরে থেকে র্যাবের লোকেরা বলে- যেতে দিব, আগে আত্মসমর্পণ করো--- নইলে তোমার স্বামীকে তোমার সামনে গুলি করে মেরে ফেলা হবে।
মেঘনার বিয়ে হয়েছে মাত্র কিছুদিন আগে। স্বামীকে মেরে ফেলার হুমকিতে সে কাঁদতে থাকে অনবরত।
বাইরে থেকে তখনও বারবার বলা হয় আত্মসমর্পণ করো, কীভাবে করতে হবে সেটাও বলে দেয়।
মেয়ে দুটো তাদের নির্যাতন আর চাপের মুখে নিরুপায় হয়ে বারান্দায় এসে ওদের কথামতো হাত উপরে তুলে আত্মসমর্পণের মতো করে।
ভেবেছিল এটা করলেই তাদেরকে ছেড়ে দিবে--- কিন্তু নাহ! এখান থেকেই শুরু হয় তাদেরকে নিয়ে জঙ্গী নাটকের প্রথম ধাপ।
ওইদিনই টিভি, পত্রিকায় রাতারাতি নিউজ হয়- র্যাব, এবং ডিবির চৌকস অভিযানে দুজন নারী জঙ্গী নরসিংদীর পরিত্যক্ত বাসা থেকে ধরা হয়েছে।
অথচ মেয়ে দুটো এসবের কিছুই জানে না।
সেখান থেকে তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হয় পুলিশ লাইনে। পুলিশ লাইন থেকে ডিবির ছোটো ছোটো খোপ খোপ আয়নাঘরে।
সেখানে নিয়ে মেয়ে দুটোকে প্রচন্ড মারধর করা হয়। কখনো জোরে চড় মারে, কখনো মোটা মোটা লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটায়, কখনো আবার টুঁটি চেপে ধরে।
মেয়ে দুটো ব্যথায় যন্ত্রণায় চিৎকার করতে থাকে শুধু। চিৎকার করে বলে- আমরা নিরপরাধ, আমরা কিচ্ছু করি নাই।
ডিবি অফিসাররা বলে- তোরা কিছু করিস নাই সেটা তো আমরাও জানি। কিন্তু দেশের মানুষকে তো বোঝাতে হবে যে তোরা নারী জঙ্গী তাই তোদেরকে এখন মারতে হবে।
তারপর মেরে হ্যান্ডকাফ লাগিয়ে জানালার সাথে ঝুলিয়ে রাখে। ভাত খাওয়ার সময় হলে একটা হাতের হ্যান্ডকাফ খুলে দেয়। সেটা দিয়ে কোনরকম দু এক লোকমা ভাত খেতো মেয়ে দুটো।
এমনকি ওয়াশরুমে গেলেও হ্যান্ডকাফ লাগিয়ে দরজা খুলে রাখে।
কিছুদিন পর তাদের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়ার জন্যে আসে। ১৬৪ ধারা মানে স্বীকারোক্তি দেয়া তারা যে জঙ্গী।
দুজন ডিবির লোক মোটা মোটা লাঠি নিয়ে তাদের সামনে বসে বলে- এই পেপারে সাইন করলে তোদরেকে ছেড়ে দিব। আর না করলে লাঠি দিয়ে পিটাবো।
মেয়ে দুটো বুঝতে পারে না ১৬৪ ধারা কী, এই পেপারেই বা সাইন করতে বলছে কেন?
এতদিনে হিংস্র হায়নাদের ছলাকলা ওরা বুঝতে পারে তাদেরকে ছাড়া হবে না, এই পেপারে সাইন করলে আরও বেশি ক্ষতি হবে। তাই তারা সাইন করতে রাজি হয় না।
তারা ম্যাজিস্ট্রেটকে সবকিছু বলতে গেলেও তাদেরকে বাঁধা দেওয়া হয়। এমনকি জজকেও উপর থেকে কল দিয়ে বলা হতো র্যাব যেভাবে যেভাবে বলবে সেভাবেই রায় দিবেন।
তারপর ডিবির লোকজন তাদের অনবরত চড় থাপৃপর দিতে থাকে, তীব্র চড়ের চোটে মেঘনা নামের মেয়েটার কানের পর্দা ফেটে গিয়ে রক্ত পড়তে থাকে।
লাঠি দিয়ে পিটাতে পিটাতে জোরপূর্বক ওই পেপারে সাইন করিয়ে নেয়।
তারপরই ডিবি অফিসাররা প্রেস ব্রিফিং করে দেশবাসীকে জানায়- নারী জঙ্গী দুজন স্বীকারোক্তি দিয়েছে তারা যে জঙ্গী।
অথচ কীভাবে যে তাদের থেকে এ স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছিল সেটা আর দেশবাসী জানলো না।
এরপর তাদেরকে পাঠানো হয় কারাগারে। কারাগারে গিয়েও শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন করা হয় তাদেরকে।