Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা) Telegram channel photo

Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা)

@fatayatalhudaPublic Channel

Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা) shares ধর্ম updates and media on Telegram. Join to stay updated.

ধর্মবাংলাভারত

95

Last views

2.2k (2,218 subscribers)
সদস্য
—
Rating
51
Total Posts
Oct 17, 2026, 11:54 PM
আপডেট হয়েছে
May 10, 2026
Created
Stats

আপনি বাংলায় বিষয়বস্তু দেখছেন। অন্যান্য ভাষায় বিষয়বস্তু দেখতে সাইটের ভাষা পরিবর্তন করুন।

Channel Information

Channel Information
Channel NameFatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা)
Username@fatayatalhuda
Categoryধর্ম
Languageবাংলা
Countryভারত
সদস্য2,218
Channel TypePublic Channel
Created১০ মে, ২০২৬
Last Updated১৭ অক্টো, ২০২৬ • ৪ দিন আগে
StatusActive

র্যাঙ্কিং

বিশ্বব্যাপী র্যাঙ্কিং
#34218+103
ভাষার র্যাঙ্কিং
#126+3
ক্যাটাগরির র্যাঙ্কিং
#451কোনো পরিবর্তন নেই

অংশগ্রহণকারীদের বৃদ্ধি

মোট: 2.2K30 Days growth: +1979.7%
09/1809/2309/2810/0310/0810/1310/17
অংশগ্রহণকারীদের বৃদ্ধি - 30 Days
DateSubscribers
18:09:20262,021
19:09:20262,021
20:09:20262,023
21:09:20262,023
22:09:20262,023
23:09:20262,023
24:09:20262,023
25:09:20262,023
26:09:20262,023
27:09:20262,023
28:09:20262,023
29:09:20262,023
30:09:20262,023
01:10:20262,023
02:10:20262,023
03:10:20262,023
04:10:20262,023
05:10:20262,023
06:10:20262,023
07:10:20262,023
08:10:20262,023
09:10:20262,023
10:10:20262,023
11:10:20262,023
12:10:20262,023
13:10:20262,023
14:10:20262,023
15:10:20262,023
16:10:20262,023
17:10:20262,218
অংশগ্রহণকারীদের বৃদ্ধি - Weekly
DateSubscribers
Week of 04:05:20261,809
Week of 11:05:20261,809
Week of 18:05:20261,809
Week of 25:05:20261,809
Week of 01:06:20261,809
Week of 08:06:20261,809
Week of 15:06:20261,809
Week of 22:06:20261,809
Week of 29:06:20261,809
Week of 06:07:20261,856
Week of 13:07:20261,856
Week of 20:07:20261,856
Week of 27:07:20261,856
Week of 03:08:20261,856
Week of 10:08:20261,856
Week of 17:08:20261,967
Week of 24:08:20261,967
Week of 31:08:20261,990
Week of 07:09:20262,021
Week of 14:09:20262,023
Week of 21:09:20262,023
Week of 28:09:20262,023
Week of 05:10:20262,023
Week of 12:10:20262,218
অংশগ্রহণকারীদের বৃদ্ধি - Monthly
DateSubscribers
May 20261,809
June 20261,809
July 20261,856
August 20261,967
September 20262,023
October 20262,218
অংশগ্রহণকারীদের বৃদ্ধি - Yearly
DateSubscribers
20262,218

Top 10 posts

Most viewed posts from this channel

By views
  1. #1একদিন আমি এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যাব। তখন আমার সন্তানরা আমাকে কীভাবে স্মরণ2.4K
  2. #2এক বন্ধুর বাসায় গিয়েছিলাম। ড্রয়িংরুমে কিছুক্ষণ বসার পর সে তার সাত মাস 1.4K
  3. #3🌿 আলহামদুলিল্লাহ, রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর প্রাত্যহিক সুন্নাহ নিয়ে আমাদের —“1.2K
  4. #4"দাম্পত্য জীবন সুখময় রাখা বিষয়ে শরয়ী নির্দেশনা" সিরিজের সকল পর্বের লিং1.1K
  5. #5এই দুনিয়ার জীবনে কোনো স্থিরতা নেই। নেই কোনো পূর্ণতা। এটা মেনে নিলেই দি990
  6. #6দ্বীনে ফেরার পর প্রায় সবাই কিছু না কিছু জাহিলিয়্যাত নিয়ে ফিরে। কেউ চিন975
  7. #7ভাতের মাড় ফেলবেন কিন্তু লুছনী খুঁজে পাচ্ছেন না, গোসলে যাবেন গামছা খুঁজ971
  8. #8যারা বিয়ে-শাদীর চিন্তা করছেন, তারা এই সিরিজের লেখাগুলো পড়ে নিলে বেশ উপ920
  9. #9আল্লাহ যিনা হারাম করলেন, আমরা তার জন্য ক্লাব খুলে দিলাম।870
  10. #10তৃষ্ণায় শীতল পানির চেয়েও প্রিয়822

সাম্প্রতিক পোস্ট

Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা) logo
Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা)

২১ অক্টো, ২০২৬, ১৩:১১

Photo1/2
আগামীকাল দশমী! অর্থাৎ পূজা ডুবানোর দিন। যারা জিন-জাদুর পেশেন্ট, তাদের জন্য এই পুরো দিন এবং রাতটি ভয়ংকর থেকেও ভয়ংকর (মাআযাল্লাহ)। আল্লাহর কাছে দু'আ করার সময় এসব নিয়েও গুরুত্বের সাথে দু'আ করবেন আল্লাহ যেন কখনও—(বদ নজর, হাসাদ, সিহর, কিংবা জিন জনিত সমস্যা…
95000
Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা) logo
Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা)

২১ অক্টো, ২০২৬, ১৩:১১

আগামীকাল দশমী! অর্থাৎ পূজা ডুবানোর দিন।

যারা জিন-জাদুর পেশেন্ট, তাদের জন্য এই পুরো দিন এবং রাতটি ভয়ংকর থেকেও ভয়ংকর (মাআযাল্লাহ)।

আল্লাহর কাছে দু'আ করার সময় এসব নিয়েও গুরুত্বের সাথে দু'আ করবেন আল্লাহ যেন কখনও—(বদ নজর, হাসাদ, সিহর, কিংবা জিন জনিত সমস্যা দিয়ে) আপনাকে কখনও পরীক্ষায় না ফেলেন।

➤প্রতিরক্ষা হিসেবে সর্বদা সকাল-সন্ধ্যা হেফাজতের আমল গুরুত্বের সাথে চালিয়ে যান।

➤যাদের সমস্যা সারাদিন জুড়ে সূরা বাকারা তিলাওয়াতের পাশাপাশি, আজকেই রুকইয়াহ সাপ্লিমেন্ট তৈরি করে রাখতে পারেন।

────────
❖তৈরীর নিয়ম
────────

প্রথমে ওযু করে নিন।
এরপর বিসমিল্লাহ ও দুরূদ পাঠ করে নিয়ত করুন—
“সমস্ত ধরনের জিন ও মানুষের বদ নজর, বদ প্রভাব, সিহর ও হাসাদ থেকে হিফাজত ও সার্বিক সুস্থতার নিয়তে এই রুকইয়াহ সাপ্লিমেন্ট তৈরি করছি।”

এরপর সামনে এক বোতল পানি ও অলিভ অয়েল নিয়ে পাঠ করুন:

●সূরা ফাতিহা

●আয়াতুল কুরসি

●চার কূল (সূরা ইখলাস, ফালাক, নাস, কাফিরুন)

●আয়াতে শিফা - (সূরা তাওবাহ্ আয়াত-১৪, সূরা ইউনুস আয়াত-৫৭, সূরা নাহল আয়াত-৬৯, সূরা বানী ইসরাইল আয়াত-৮২, সূরা হা মিম সাজদা আয়াত-৪৪)

এই সবগুলোই তিনবার/সাতবার করে পড়ুন ও প্রতিবার পড়া শেষে পানি এবং অলিভ অয়েলে ফুঁ দিন।

──────────
❖ব্যবহারের নিয়ম
──────────

●এসময় রাতে খারাপ স্বপ্ন দেখলে বা ভয় পেলে ঘুম থেকে উঠেই এক গ্লাস রুকইয়াহ পানি পান করুন।

●যাদের সমস্যা রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে এসময় মাথা বা শরীরের কোন স্থানে অতিরিক্ত ব্যথা অনুভব হলে এবং ওষুধেও কাজ না করলে আক্রান্ত স্থানে তৈরি করা রুকইয়াহ অলিভ অয়েল ব্যবহার করুন।

●বাসার খুব নিকটে পূজা মণ্ডপ হলে বা এসময় বাসায় সমস্যা অনুভব করলে সকাল-সন্ধ্যা তৈরি করা রুকইয়াহর কিছুটা পানি চারদিকে ছিটিয়ে দিন।
.
.
এসবের পরও যদি কারও সমস্যার মাত্রা বেশি হয়ে যায়, তবে অবশ্যই দেরি না করে কোনো রুকইয়াহ কনসালটেন্টের পরামর্শ নিন অথবা বিশ্বস্ত কোনো রাকির শরণাপন্ন হোন।

✎Hazera Farhad Sayma

বির্ধমীদের আয়োজন আলোচনা - ৮
• পূজার সময় আমাদের করণীয়
• বিধর্মীদের তৈরি খাবার খাওয়ার বিধান
• পূজায় দেখতে যাওয়া, চাঁদা দেয়া, কমিটি করা এসবের বিধান কি শরীয়তে?
• লিখিত মাসয়ালা
• পূজায় অংশ গ্রহণ, পূজার কোনও উপরকণ বিক্রয় ,ভাড়া প্রদান
• হিন্দুদের পূজা উপলক্ষে ফার্নিচার, মাইক, সিসি ক্যামেরা, গাড়ি ইত্যাদি ভাড়া দেয়া জায়েজ আছে কি?
• অমুসলিম পূজার জন্য ফুল চাইলে তাকে তা দিলে কি গুনাহ হবে?
• দুর্গা পুজা দেখতে যাওয়া বা পুজার শুভেচ্ছা জানানো কি উদারতা?

@FatayatalHuda
93001
Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা) logo
Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা)

২০ অক্টো, ২০২৬, ১৭:৪৩

Photo1/2
যারা বিয়ে-শাদীর চিন্তা করছেন, তারা এই সিরিজের লেখাগুলো পড়ে নিলে বেশ উপকৃত হবেন, ইনশাআল্লাহ।

বন্ধন সিরিজের সকল পর্বের লিংক:

• পর্ব-১ (বিয়েতে মেয়েদের পছন্দের গুরুত্ব কতটুকু?)

• পর্ব-২ (যারা জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে ধার্মিকতা ও সৌন্দর্য দুটোই চান)

• পর্ব-৩ (গরিব-অস্বচ্ছল ছেলেকে বিয়ে না করলে কি গুনাহ হবে)

• পর্ব-৪ (পাত্র/পাত্রী দ্বীনদার কি না, সেটি বুঝার কিছু উপায়)

• পর্ব-৫ (কেমন মেয়ে বিয়ে করবেন)

• পর্ব-৬ (বর-কনের মধ্যে কারো যদি খারাপ অতীত থাকে)

• পর্ব-৭ (বিয়েতে কুফু বা সমতা)

• পর্ব-৮ (কনে দেখার পদ্ধতি)

• পর্ব-৯ (ছেলের শারীরিক ও আর্থিক সামর্থ্যের সীমারেখা)

• পর্ব-১০ (বিয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে ইস্তিখারার আমল)

• পর্ব-১১ (নির্দিষ্ট কাউকে চাওয়া)

• পর্ব-১২ (বিয়ের মোহরানা কেমন হওয়া উচিত)

• পর্ব-১৩ (বিয়ের সময় দেওয়া গয়না কি মোহরানার অংশ)

• শেষ পর্ব (বিবাহবহির্ভূত নারী-পুরুষের প্রেমের বিধান এবং রিলেশনে থাকা ব্যক্তিদের করণীয়)

এই সিরিজের লেখাগুলো গুরুত্বপূর্ণ মনে করলে অন্যদের সাথে শেয়ার করতে পারেন। তাহলে অনেকেই উপকৃত হবে, ইনশাআল্লাহ।

@FatayatalHuda
920005
Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা) logo
Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা)

১৯ অক্টো, ২০২৬, ১৮:৪৪

কাঁদতে বারিরার পেছনে মদিনার অলিতে-গলিতে ছোটাছুটি করছে আর তার দাড়ি বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে!

মুগিসের এই ভালোবাসার পাগলামি দেখে স্বয়ং নবিজি পর্যন্ত বারিরাকে বলেছিলেন, ‘‘তুমি যদি তার কাছে আবার ফিরে যেতে!’’ তখন বারিরাহ (রা.) বলেন, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি কি আমাকে এই বিষয়ে আদেশ দিচ্ছেন?’ (কারণ নবিজির আদেশ মানা ফরজ)। তখন নবিজি বলেন, ‘‘না, আমি কেবল সুপারিশ করছি।’’ তখন বারিরাহ বলেন, ‘তাকে আমার দরকার নেই।’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৫২৮৩]

[বারিরাহ এবং মুগিস দুজনই ছিলেন ক্রীতদাস-ক্রীতদাসী সাহাবি। বিধান হলো, কোনো ক্রীতদাসী নারী স্বাধীন হয়ে গেলে আর তার স্বামী তখনও ক্রীতদাস থেকে গেলে, সেই নারীর এই এখতিয়ার থাকতো যে, সে চাইলে ক্রীতদাস স্বামীর সংসার করতে পারে আবার বিচ্ছেদও ঘটাতে পারে। তবে, এই বিচ্ছেদ ঘটানোর পর অন্য পাত্রকে বিয়ে না করেও আগের বিয়ে নবায়ন করা যায়। মূলত বারিরাহ (রা.) স্বাধীন হওয়ার পরই তাঁর স্বামীর সাথে বিচ্ছেদ ঘটান। তিনি স্বামীর সাথে আর থাকতে চাচ্ছিলেন না আর স্বামী তাকে পাগলের মতো ভালোবাসতেন এবং একসাথেই থাকতে চাচ্ছিলেন। (ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ৩৬৭২)]

এই ঘটনার উল্লেখযোগ্য দিক হলো, নবিজি মুগিসকে তার পাগলামি থামাতে বলেননি, অথচ মুগিস তখন বারিরার জন্য নন-মাহরাম। কারণ এটা এমন পর্যায়ের পাগলামি, যেটাতে ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণ থাকে না। এমন অবস্থায় যদি সরাসরি কোনো হারামে না জড়ায় (যেমন: স্পর্শ, নির্জনে সাক্ষাৎ, চুমুু খাওয়া ইত্যাদি) তাহলে আশা করা যায়, আল্লাহ এই লোকদের উযর (অপারগতা-অক্ষমতা) ক্ষমা করবেন।

পরবর্তীতে খুলাফায়ে রাশেদিন এবং অন্যান্য রহমদিল ব্যক্তিগণও এই ধরনের লোকদের পক্ষে সুপারিশ করতেন এবং বিয়ের মাধ্যমে তাদের মিলিয়ে দিতেন। এদের পাগলামি তাঁদের মনকে নাড়া দিতো। একবার এক বেদুইন এক নারীর জন্য বেদনায় কাতরাচ্ছিলো আর মনের মাধুরী মিশিয়ে মেয়েটির জন্য কবিতা পড়ছিলো। তখন তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন চতুর্থ খলিফা আলি (রা.)। তিনি সব শুনে তার সাথে মেয়েটির বিয়ের ব্যবস্থা করে দেন। [ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম, আদ-দা ওয়াদ দাওয়া (রোগ এবং তার প্রতিকার), পৃষ্ঠা: ৫৫৯]

প্রাচীন আরবের আরেকটি ঘটনা লোকদের মুখে বেশ প্রসিদ্ধ ছিলো। চাচাতো বোন আফরার প্রতি উরওয়ার ভালোবাসা ছিলো সীমাহীন। আফরার বাবা উরওয়ার বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে অন্য ব্যক্তির সাথে আফরাকে বিয়ে দিয়ে দেন। এই শোকে উরওয়া কাঁদতে কাঁদতে শেষ পর্যন্ত মারা গেছে! উমর (রা.) একবার বলেছিলেন, ‘আমি আফরা ও উরওয়াকে পেলে তাদের দুজনকে (বিয়ের মাধ্যমে) মিলিয়ে দিতাম!’ [ইমাম ইবনুল জাওযি, যাম্মুল হাওয়া, পৃষ্ঠা: ৪২০]


🍀 শেষ কথা: এসব ঘটনা থেকে কেউ হারাম প্রেমের সমর্থন খুঁজবেন না। পর-নারীর সাথে নির্জনে দেখা-সাক্ষাৎ করা, কথা বলা, স্পর্শ করা, চুমু খাওয়া সবই হারাম কাজ। এমনকি অন্তরে তার ব্যাপারে অবৈধ কামনা-বাসনা (যেমন: কল্পনায় চুমু খাওয়া, জড়িয়ে ধরে থাকা ইত্যাদি) রাখাও জায়েয নেই। তবে, সাধ্যমত প্রচেষ্টার পরও যদি মন থেকে তার প্রতি কামনা-বাসনাকে কোনোভাবে সরানো না যায়, তাহলে আল্লাহ ক্ষমা করবেন বলে আশা করা যায়। ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহ.)-সহ আলিমগণের মত এটাই। আর, কোনো মুসলিম মেয়ে বা ছেলেকে জীবনসঙ্গী হিসেবে শুধু মনে মনে পছন্দ করা বা তার ভালোর জন্য দু‘আ করা কিংবা তাকে পাওয়ার জন্য দু‘আ করা জায়েয, যদি চিন্তা ও কল্পনায় অবৈধ কামনা-বাসনা না থাকে। তবে, নির্দিষ্ট কাউকে না চেয়ে আল্লাহর কাছে নিজের জন্য যে ব্যক্তির মধ্যে কল্যাণ আছে, তাকে চাওয়াই উচিত এবং উত্তম। আগের পর্বে এ নিয়ে আলোচনা করেছি।

• বন্ধন (শেষ পর্ব)

• পর্ব-১৩ (বিয়ের সময় দেওয়া গয়না কি মোহরানার অংশ)

এর মধ্য দিয়ে আমাদের বন্ধন সিরিজটি সমাপ্ত হলো, আলহামদুলিল্লাহ।

• Nusus
411005
Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা) logo
Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা)

১৯ অক্টো, ২০২৬, ১৮:৪৪

নারী-পুরুষের প্রেম-ভালোবাসা কি হারাম? যারা বিবাহবহির্ভূত হারাম সম্পর্কে জড়িত, তাদের ব্যাপারে কিছু সমাধানমূলক কথা:

সমস্যা নিয়ে কথা বলা তো খুব সহজ, কিন্তু সমাধান দেখিয়ে দেওয়ার কাজটা বেশ কঠিন।

(১) সাধারণভাবে মানুষ ঈমানি দুর্বলতার কারণে পাপে জড়ায়। বিবাহবহির্ভূত হারাম সম্পর্কও একটি পাপ। প্রেমে পড়লে প্রেমিক-প্রেমিকাদের মধ্যে নিচের হাদিসে উল্লিখিত বিষয়গুলোর এক বা একাধিক ঘটে। 

নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘‘নিঃসন্দেহে দু’চোখের ব্যভিচার হলো তাকানো, দু’কানের ব্যভিচার হলো (কামনার সাথে) শোনা, জিহ্বার ব্যভিচার হলো (কামনামিশ্রিত) কথোপকথন করা, হাতের ব্যভিচার হলো স্পর্শ করা, পায়ের ব্যভিচার হলো (কামনা চরিতার্থে) হেঁটে যাওয়া, অন্তরের ব্যভিচার হলো কামনা-বাসনা করা। আর লজ্জাস্থান একে সত্য করে বা মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। (অর্থাৎ, ফাইনালি লজ্জাস্থানের মাধ্যমেই চূড়ান্ত ঘটনা ঘটে)।’’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ৬৬৪৭]

(২) যদি কেউ কোনোভাবে কারও প্রেমে পড়ে যায়, তাহলে তার কর্তব্য হলো, সে এ থেকে নিজেকে বিরত রাখবে। কোনোভাবেই তার দিকে তাকাবে না, তার সাথে প্রেমালাপ করবে না, নির্জনে দেখা-সাক্ষাৎ করবে না।

নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘‘কোনো পুরুষ যখন কোনো নারীর সাথে নির্জনে একত্র হয়, তখন সেখানে তৃতীয়জন হয় শয়তান।’’ [ইমাম আহমাদ, আল-মুসনাদ: ১৭৭; ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ১১৭১; হাদিসটি সহিহ]

আল্লাহ তা‘আলা রাসুলের স্ত্রীগণকে (সকল মুসলিম নারীর ব্যাপারেও হুকুম একই) উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘‘তোমরা (পর-পুরুষের সাথে) কোমল কণ্ঠে এমনভাবে কথা বলো না, যার কারণে—যার অন্তরে রোগ আছে— সে প্ৰলুব্ধ (লালায়িত) হয়, বরং তোমরা ন্যায়সংগত (স্বাভাবিক) কথা বলবে।’’ [সুরা আহযাব, আয়াত: ৩২]

(৩) প্রেম হলো রোগ আর চিকিৎসা হলো বিয়ে!

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘‘একে অপরের প্রতি ভালোবাসা পোষণকারী দুজনের মাঝে বিবাহের মতো (উত্তম) আর কিছু নেই।’’ [ইমাম ইবনু মাজাহ, আস-সুনান: ১৮৪৭; হাদিসটি সহিহ]

• দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বিবাহবহির্ভূত হারাম সম্পর্কের ব্যাপারে আমরা অনেকে লোকদের সতর্ক করলেও এই হাদিসটির আলোকে সমাধানের কথা তেমন বলি না। অথচ এটি একটি বিশুদ্ধ ও যথার্থ সমাধানমূলক হাদিস। একবাক্যে ব্রেকআপ করাকেই একমাত্র সমাধান হিসেবে প্রচার করি।

(৪) যারা ইতোমধ্যে হারাম প্রেমে জড়িয়ে গেছেন, একে অপরকে প্রকৃত অর্থেই ভালোবাসেন এবং তাদের দ্বীনদারির ব্যাপারে ভালো আশা রাখেন, তাদের কর্তব্য হলো: বিয়ের মাধ্যমে নিজেদের সম্পর্কটাকে হালাল করা ও পূর্ণতা দেওয়া।

(ক) অনেকে বাসায় বিয়ের কথা বলতে লজ্জা পায় আর নিজের পক্ষে সাফাই দেয়, ‘এই মুহূর্তে আমাদের পরিবার আমাদের বিয়ে সমর্থন করবে না।’ এটা উচিত নয়। হারাম থেকে বাঁচতে প্রয়োজনে বেহায়ার মতো বারবার বিয়ের কথা বলবেন অথবা অন্যদের দিয়ে বলাবেন।

(খ) যদি অনেক চেষ্টার পরও অভিভাবককে রাজি করাতে না পারেন, তাহলে হানাফি মাযহাব মতে, তাদের অনুমতি ব্যতীত বিয়ে করে নিলে সেটি বৈধ হবে। তবে, সামগ্রিক কল্যাণ বিবেচনায় আমরা এটিতে নিরুৎসাহিত করি। কারণ অনেক ক্ষেত্রেই এর ফলাফল ভালো হয় না। বিশেষ করে, গোপন বিয়েতে প্রায়ই নারীরা ভোক্তভোগী হয়।

(৫) হারাম সম্পর্কে জড়িত, কিন্তু অভিভাবক একদমই রাজি না, তাই বিয়ে করতে পারছেন না, এমন যারা আছেন, তাদেরকে অবশ্যই থামতে হবে। আল্লাহর দেওয়া সীমারেখা লঙ্ঘন করা যাবে না। বিয়ের আগ পর্যন্ত দেখা-সাক্ষাৎ, কথা-বার্তা, একান্তে মিলিত হওয়া ইত্যাদি কাজ থেকে বিরত থাকবেন। নিজেদের যৌনকামনা নিবারণের জন্য বেশি বেশি নফল রোজা রাখবেন, সবর করবেন এবং আল্লাহর সাহায্য চাইবেন। তাহলে আল্লাহ ধৈর্যধারণের জন্য নেকি দেবেন, যেমনটি বলেছেন ইবনুল কায়্যিম (রাহ.)।

যদি তাকেই বিয়ে করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হন, তাহলে পারিবারিকভাবে বা মাহরামের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখবেন। নিজের আগ্রহের বিষয়টি তাদের মাথায় দিয়ে রাখবেন। কোনোভাবেই ছেলে-মেয়ে পরস্পর অবাধ (সরাসরি) যোগাযোগ রাখবেন না (অনলাইন বা অফলাইনে) এবং সামনাসামনি দেখা-সাক্ষাৎও করবেন না। ছেলের বেকারত্বের কারণে পরিবার একদমই রাজি না থাকলে, মেয়ের কাছে তার কোনো মাহরামের মাধ্যমে এই প্রস্তব দিয়ে রাখতে পারেন যে, রিযিকের ব্যবস্থা হলে বা হালাল কোনো কর্মসংস্থান হলে সরাসরি প্রস্তাব নিয়ে যাবেন। তাহলে তিনি চাইলে সে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারবেন। এই অপেক্ষার বিষয়টি হারাম হবে না। তবে, আবারও বলছি, দুজনের মাঝে কোনো সরাসরি যোগাযোগ বা দেখা-সাক্ষাৎ থাকবে না। এই পয়েন্টে যা বলা হলো, তা খুবই মার্জিনাল বিষয়। তাই, হারামে যেন জড়িত না হতে হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।

(৬) প্রেম-ভালোবাসা অনেক সময় মানুষকে উন্মাদ বানিয়ে দেয়।প্রেমিক-প্রেমিকারা হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়ে। যেমনটি আমরা দেখি নবিজির সাহাবি মুগিস (রা.)-এর বেলায়। তাঁর সাথে তাঁর স্ত্রী বারিরার বিচ্ছেদ ঘটলে তিনি পাগলের মতো হয়ে যান! সাহাবি ইবনু আব্বাস (রা.) বলেন, যেন আমি এখনও দেখতে পাচ্ছি সেই দৃশ্য যে, মুগিস কাঁদতে
335002
Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা) logo
Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা)

১৮ অক্টো, ২০২৬, ১৮:৫০

ভাই, আপনি এখন থেকেই মোহরানার জন্য টাকা জমাতে থাকুন। পুরুষ হয়েছেন, সুতরাং দায়িত্ব আর চ্যালেঞ্জের বোঝা আপনাকে বহন করতেই হবে। প্রিয় জীবনসঙ্গীনীকে সম্মানজনক মোহরানার মাধ্যমে ঘরে তুলুন। বাসর রাতে কাপুরুষের মতো মিউ মিউ করে মাফ চাইতে যাবেন না। প্রয়োজনে সময় চেয়ে নিন। বিয়ের বৈঠকে ফর্মালিটিজ আর আত্মসম্মানের ভয়ে বিশাল অংকের মোহরানা মেনে নেবেন না। বরং যেটুকু আপনার সাধ্যে হবে, সেটুকু নির্ধারিত করুন। আল্লাহ সাহায্য করবেন।

• বন্ধন (ত্রয়োদশ পর্ব)
• পর্ব-১২ (বিয়ের মোহরানা কেমন হওয়া উচিত)

~ Nusus

@FatayatalHuda
357006
Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা) logo
Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা)

১৮ অক্টো, ২০২৬, ১৮:৫০

💌 বিয়ের সময় দেওয়া গয়না কি মোহরানার অংশ? বাসর রাতে মোহরানার টাকা মাফ চাওয়া যায় কি? মোহরানার ব্যাপারে ভাই ও বোনদের প্রতি কিছু জরুরি পরামর্শ থাকলো।

◉ বিয়ের গয়না কি মোহরানার অংশ?

মুফতি তাকি উসমানি বলেন, ‘স্বামীর পক্ষ হতে নববধুকে যে গয়নাগাটি দেওয়া হয়, মোহরের সাথে তার সরাসরি সম্পর্ক নেই। আমাদের সামাজিক প্রচলন মতে স্ত্রী এই অলংকারের মালিক হয় না; বরং সেগুলো তাকে ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়। ফলে স্ত্রী সেই অলংকার স্বামীর অনুমতি ছাড়া বিক্রি করতে পারে না এবং কাউকে উপহারও দিতে পারে না। আর এ কারণেই—আল্লাহ না করুন—তালাকের ঘটনা ঘটলে স্বামী এসব গয়নাগাটি ফিরিয়ে নেয়। এ ধরনের অলংকার দ্বারা মোহর আদায় হয় না। তবে, স্বামী যদি স্ত্রীকে স্পষ্টভাবে বলে যে, ‘আমি এই অলংকার মোহরস্বরূপ তোমাকে দিয়েছি এবং তুমি এর মালিক’ তাহলে সেই অলংকার মোহর হিসেবে গণ্য হবে। সেক্ষেত্রে সেই অলংকারের উপর স্ত্রীর পূর্ণ অধিকার থাকবে এবং কোনো অবস্থাতেই তা স্ত্রীর নিকট থেকে ফেরত নেওয়া যাবে না।’ [মাসিক আল কাউসার, মে-২০১১ সংখ্যা]

◉ সুন্নাতি মোহরানা বলতে কিছু আছে?

না, কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ মোহরানাকে শরয়ি মর্যাদার সুন্নাত বলেননি আলিমগণ। নবিজির স্ত্রী এবং কন্যাদের মোহরানার পরিমাণ (৫০০ দিরহাম)-কে সুন্নাত বলা না গেলেও, কেউ যদি শুধু নবিজির প্রতি ভালোবাসা দেখিয়ে এই পরিমাণকে নির্ধারণ করে, তাহলে ‘নবিজির প্রতি ভালোবাসা’ প্রদর্শনের জন্য নেকি পাবে। মোহরানার ব্যাপারটি অত্যন্ত প্রশস্ত। সাহাবিগণ নিজেরাও নবিজির পরিমাণে মোহরানা আদায় করেননি। কারণ স্থান, কাল, পাত্রভেদে মানুষের রুচি ভিন্ন ভিন্ন হয়। বর ও কনেপক্ষ মিলেই মোহরানা ঠিক করবে। তবে, সাধারণভাবে সহজ মোহরানাকে হাদিসে উৎসাহিত করা হয়েছে, যা আমরা আগের পর্বে লিখেছি। আর উত্তম মোহরানা হিসেবে আলিমগণের মতামত হলো: মোহরে মিসাল। অর্থাৎ কনের বোন, মা, খালা, কাজিনদের মোহরানার কাছাকাছি রাখা। অর্থাৎ কনেপক্ষের অন্যান্য নারীদের মোহরানার প্রায় সমপরিমাণ (কিছু কম-বেশি) রাখা উত্তম। এতে করে নতুন কনের মর্যাদা সমুন্নত থাকে। তবে, এটি জরুরি কিছু নয়।

◉ মোহরানা আদায় না করা বা গড়িমসি করা:

যে স্বামীর মনে মোহর আদায় করার ইচ্ছা থাকে না, হাদিসে তাকে ‘ব্যভিচারী’ বলা হয়েছে। [শায়খ আলবানি, সহিহুত তারগিব: ১৮০৭; অন্যান্য শাহিদ (সাক্ষী) হাদিসের ভিত্তিতে আলবানি (রাহ.) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন]

স্বামী যদি চাপ দিয়ে বা কৌশলে পূর্ণ মোহর বা কিছু অংশ মাফ করিয়ে নেয়, তাহলে আল্লাহর বিচারে তা মাফ হবে না। [ইমাম জাসসাস, আহকামুল কুরআন: ২/৫৭-৫৮; ইমাম ইবনু কাসির, তাফসিরুল কুরআনিল আযিম: ১/৪৪২]

◉ মোহরানাকে কঠিন বানিয়ে ফেলা:

উমর (রা.) বলেন, ‘তোমরা নারীদের মোহরানার ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না।...কখনও অধিক মোহরানা স্বামীর উপর বোঝা হয়ে দদাঁড়ায়।’ [ইমাম ইবনু মাজাহ, আস-সুনান: ১৮৮৭; হাদিসটি হাসান সহিহ]

◉ স্ত্রী কর্তৃক মোহরানা মাফ করা বা কমানো:

যদি কোনো স্ত্রী স্বেচ্ছায় (কোনো চাপে না পড়ে) তার মোহরানা মাফ করে দেয়, তাহলে সেটি স্বামীর প্রতি বিরাট অনুগ্রহ। আবার সে চাইলে মোহরানার কিছু অংশ মাফ করতে পারে। তবে, এটি একান্তই তার ইচ্ছার ব্যাপার।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘তোমরা নারীদেরকে তাদের মোহর দাও খুশিমনে স্বপ্রবৃত্ত হয়ে। এরপর তারা যদি স্বেচ্ছায় নিজের আগ্রহে তোমাদের জন্য কিছু অংশ ছেড়ে দেয়, তাহলে তা স্বাচ্ছন্দে ভোগ করো।’’ [সুরা নিসা, আয়াত: ০৪]

● বোনদের প্রতি আমাদের পরামর্শ:

মোহরানার সম্পূর্ণ অংশ মাফ করা উচিত নয়। স্বামীর প্রতি অনুগ্রহ করে কিছু পরিমাণ মাফ করতে পারেন, যদি স্বামীর জন্য এটা কঠিন হয়ে পড়ে। মোহরানার টাকা বা সম্পদকে আপনি যত্ন করে রেখে দিতে পারেন। ভবিষ্যতে এ থেকে আপনি নিজের বাবা-মা, ভাই-বোন ও আত্মীয়-স্বজনকে সাহায্য করতে পারেন। দান-সাদাকাহ করতে পারবেন। এমনকি নিজের স্বামী-সন্তানকে বা বান্ধবীদেরকে মাঝেমধ্যে উপহার দিতে পারেন। এরকম আরও অনেক কিছুই করতে পারেন। আরে ভাই, টাকা তো দরকারি জিনিস। অনেক কাজেই মোহরানার টাকা ব্যবহার করে আপনি উপকৃত হতে পারেন এবং অনেককে খুশি করতে পারেন। আবার ধরেন, স্বামী বিপদে পড়েছে, তাহলে তাকে ধারও দিতে পারেন। তবে, এতসব চিন্তা মাথায় নিয়ে যদি বিশাল অংকের মোহরানা স্বামী বেচারার উপর চাপিয়ে দেন, তাহলে সেটি দুঃখজনক। এমনিতেই বিয়ের বাজারে জামাইদেরকে ধরে ছিলে দেওয়া হয়। সুতরাং এখানে আদল-ইনসাফ কাম্য। ‘তালাক যাতে না দিতে পারে’ এই চিন্তা নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত মোহরানা হাঁকিয়ে আল্লাহর বরকত ও রহমত আশা করা যায়? শুধু মোহরানা দিয়ে সংসার আটকে রেখে উভয়ের জীবন জাহান্নাম বানিয়ে দিনশেষে লাভটা কার?

● ভাইদের প্রতি পরামর্শ:
371004
Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা) logo
Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা)

১৮ অক্টো, ২০২৬, ০৬:৩০

Photo1/2
🌿 আলহামদুলিল্লাহ, রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর প্রাত্যহিক সুন্নাহ নিয়ে আমাদের —“প্রাত্যহিক সুন্নাহ” সিরিজের সমাপ্তি হলো।সুন্নাহ শুধু জানার বিষয় নয়; বরং ভালোবাসা দিয়ে জীবনে ধারণ করার বিষয়।আমাদের প্রতিদিনের ছোট ছোট কাজগুলোই যখন রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নাহ অনুযায়ী হয়…
364004
Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা) logo
Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা)

১৮ অক্টো, ২০২৬, ০৬:৩০

🌿 আলহামদুলিল্লাহ, রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর প্রাত্যহিক সুন্নাহ নিয়ে আমাদের —“প্রাত্যহিক সুন্নাহ” সিরিজের সমাপ্তি হলো।সুন্নাহ শুধু জানার বিষয় নয়; বরং ভালোবাসা দিয়ে জীবনে ধারণ করার বিষয়।আমাদের প্রতিদিনের ছোট ছোট কাজগুলোই যখন রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নাহ অনুযায়ী হয়, তখন সেই সাধারণ জীবনও হয়ে ওঠে ইবাদতময়।

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
“যে আমার সুন্নাহকে জীবিত করল, সে যেন আমাকে ভালোবাসল। আর যে আমাকে ভালোবাসল সে আমার সাথেই জান্নাতে থাকবে।”
— জামে‘ আত-তিরমিজি, ২৬৭৮

সিরিজের সবগুলো পোস্ট একসাথে দেওয়া হলো। পড়ুন ,আমল করুন, জীবনটা সুন্নাহময় করে তুলুন এবং সাদাকায়ে জারিয়ার জন্য প্রিয় মানুষদের কাছে পৌঁছে দিন। ইং শা আল্লাহ্।

• পর্ব-০১ (পোশাক পরিধানের সুন্নাহ)
• পর্ব-০২ (খাবার গ্রহণের সুন্নাহ)
• পর্ব-০৩ (ঘুমানোর সুন্নাহ ও আদব)
• পর্ব-০৪ (ঘুম থেকে ওঠার সুন্নাহ)
• পর্ব-০৫ (ইস্তিঞ্জার সুন্নাহ)
• পর্ব-০৬ (গোসলের আদব ও সুন্নাহ)
• পর্ব-৭ (আতর ব্যবহারের সুন্নাহ)
• পর্ব-৮ (মিসওয়াকের সুন্নাহসমূহ)
• পর্ব-৯ (যানবাহনে আরোহণের সুন্নাহ সমূহ)
• পর্ব-১০(দস্তরখানের আমল এর সুন্নাহসমূহ)
• পর্ব-১১(সালাম দেওয়ার আদব ও সুন্নাহ সমূহ)
• পর্ব-১২ (কুরআন তিলাওয়াতের আদব ও সুন্নাহ সমূহ)
• পর্ব-১৩ (ফজরের পর না ঘুমানো)
• পর্ব-১৪ (আতিথেয়তার সুন্নাহসমূহ)
• পর্ব-১৫ (আযান সংক্রান্ত সুন্নাহসমূহ)
• পর্ব-১৬ (বৃষ্টি সংক্রান্ত সুন্নাহসমূহ)
• পর্ব-১৭ (দাওয়াত দেওয়া ও গ্রহণের সুন্নাহ)
• পর্ব-১৮ (মসজিদ থেকে বের হওয়ার সুন্নাহসমূহ)
• পর্ব-১৯ (মুসাফাহার সুন্নাহসমূহ)
• পর্ব-২০ (রোগী দেখার আদব ও সুন্নাহ)
• পর্ব-২১ ( বিয়ে সংক্রান্ত সুন্নাহসমূহ)
• পর্ব-২২ (সন্তান জন্মের পর সুন্নাহসমূহ)
• পর্ব-২৩ (জুম'আর দিনের সুন্নাহসমূহ)
• পর্ব -২৪ ( বাড়তি কিছু সুন্নাহ)

@FatayatalHuda
1,160003
Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা) logo
Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা)

১৭ অক্টো, ২০২৬, ১৮:৪০

১৮৮৪৯৬ (প্রায় ১ লাখ ৮৯ হাজার) টাকা।

মোহরানার ব্যাপারে আরেকটি পর্বে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা থাকবে, ইনশাআল্লাহ।

• বন্ধন (দ্বাদশ পর্ব)

~ Nusus

🍀 বিঃদ্রঃ এই পোস্টটি আরও ৪ বছর আগে Nusus পেইজের লেখা। এজন্য বর্তমানে রূপার মূল্যের সাথে মিলবে না। আপনারা বর্তমান মূল্য অনুসারে হিসাব করবেন ইন শা আল্লাহ।

• পর্ব-১১ (নির্দিষ্ট কাউকে চাওয়া)

@FatayatalHuda
370005
Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা) logo
Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা)

১৭ অক্টো, ২০২৬, ১৮:৪০

💌 বিয়ের মোহরানা কেমন হওয়া উচিত? ফাতেমী মোহরানা বলতে কী বুঝায়? মোহরানা সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ কত হবে? (দলিলের আলোকে)


(১) বিয়ের মোহরানা সম্পর্কে ইসলামের নীতি:

বিয়ের মোহরানা হলো একজন নারীর সম্মানের বিষয়। স্বামী এটি তাকে উপহার দিয়ে সম্মানিত করে। তাই, এটি দিতে হয় খুশিমনে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘তোমরা নারীদেরকে তাদের মোহরানা দাও খুশিমনে, স্বপ্রবৃত্ত হয়ে।’’ [সুরা নিসা, আয়াত: ০৪]

(২) নবিজির মোহরানা কেমন ছিলো?

আবু সালামা ইবনে আবদুর রহমান বলেন, আমি আয়িশা (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক মোহরানা কত ছিলো? তিনি বললেন, ‘নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদেরকে সাড়ে ১২ উকিয়া অর্থাৎ পাঁচ শ’ দিরহাম মোহরানা দিয়েছেন।’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ৩৩৮০]

তখনকার সময়ে কারও কাছে ৫ উকিয়া থাকলেই যাকাত ফরজ হতো। সুতরাং সাড়ে ১২ উকিয়া যথেষ্ট পরিমাণ মোহর এবং সম্মানজনক মাল ছিলো। ৫০০ দিরহামের একটা হিসাব করা যাক।

১ দিরহাম = ২.৯৭ গ্রাম, সুতরাং ৫০০ দিরহাম = প্রায় ১৪৮৮ গ্রাম রৌপ্য। [এই হিসাবটি নেওয়া হয়েছে শায়খ মুহাম্মাদ সলিহ আল মুনাজ্জিদ (ফা. আ.) পরিচালিত islamqa(dot)info থেকে]

তবে, নবিজির এই পরিমাণটি আমাদের জন্য শরয়ি সুন্নাত নয়। কেউ চাইলে এটির উপর আমল করতে পারেন আবার নাও করতে পারেন। কারণ সালাফে সালিহিন হুবহু নবিজির নির্দিষ্ট মোহরানাকে স্ট্যান্ডার্ড ধরেননি। কেউ এর চেয়ে বেশি দিয়েছেন, কেউ কমও দিয়েছেন। একজন সাহাবি ১ লক্ষ দিরহামে বিয়ে করেছিলেন। [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ২১১৭; হাদিসটি সহিহ]

আবার বউকে কুরআন শেখানোর পরিশ্রমের বিনিময় হিসেবেও একজন হতদরিদ্র সাহাবিকে বিয়ে দিয়েছেন নবিজি। তাঁর কাছে এককথায় কিছুই ছিলো না। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৫০২৯]

এমনিতে সাহাবিগণের মাঝে ৪০০ দিরহামে মোহরানার মোটামুটি প্রচলন ছিলো। [ইমাম নাসায়ি, আস-সুনান: ৩৩৪৮; হাদিসটি সহিহ]
অর্থাৎ, এই বিষয়টি শরিয়তে অনেক প্রশস্ত।

(৩) মোহরানার সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন পরিমাণ:

মোহরানা সর্বোচ্চ কত হবে, তা ইসলাম ফিক্সড করে দেয়নি। সুতরাং কেউ যদি ৫০ কোটি টাকাও মোহর নির্ধারণ করে, তবে সেটি নাজায়েয হবে না। তবে, সাধারণভাবে ইসলাম বিয়েকে সহজ করতে বলে এবং মোহরানাও সহজ করতে বলে।

নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘সেই মোহরানা উত্তম, যেটি সহজতর।’’ [ইমাম বাইহাকি, সুনানুল কুবরা: ১৩৪৩১; শায়খ আলবানি, সহিহুল জামি’: ৩২৭৯; হাদিসটি সহিহ]

নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘নারীর সৌভাগ্যের/বরকতের অন্যতম বিষয় হলো: তার বিয়ে সহজ হওয়া, তার মোহরানা সহজ হওয়া এবং তার গর্ভধারণ সহজ হওয়া।’’ [ইমাম আহমাদ, আল-মুসনাদ: ২৪৪৭৮; শায়খ আলবানি, সহিহুল জামি’: ২২৩৫; হাদিসটি হাসান]

আর সর্বনিম্ন মোহরানা কত হবে, এটি নিয়ে আলিমদের মাঝে কিছু মতভিন্নতা আছে। তবে, সেগুলো বেশ কাছাকাছি। আলিমগণের বড় একটি অংশ বলেছেন, খুব সামান্য পরিমাণ মাল দিয়েও মোহরানা আদায় হয়ে যাবে। যেমন: একটি হাদিসে আমরা দেখি, একজন হতদরিদ্র সাহাবিকে মোহরানার জন্য সামান্য লোহার আংটি জোগাড় করতে বলেছেন। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৫০২৯]

আবার ইমাম আবু হানিফা (রাহ.) বলেছেন, কমপক্ষে ১০ দিরহাম হতে হবে। এটি প্রায় ৩০ গ্রাম রৌপ্যের সমান। টাকার হিসাবে এটি বর্তমান বাজারমূল্যে প্রায় ১৭০০ টাকা। তিনি আকলি ও নকলি একাধিক দলিল দিয়েছেন এই পরিমাণের পক্ষে। যাহোক, মূলকথা হলো, সর্বনিম্ন মোহরানার পরিমাণ সব আলিমের মতেই যৎসামান্য।

মুফতি তাকি উসমানি (হা.) বলেন, ‘সর্বনিম্ন পরিমাণ মোহর নির্ধারিত থাকার অর্থ এই নয় যে, এত সামান্য পরিমাণ মোহর নির্ধারণ করা শরিয়তে প্রশংসনীয়; বরং উদ্দেশ্য হলো, তার চেয়েও কম মোহরে বিয়েতে স্ত্রী রাজি থাকলেও সেটি শরিয়তসম্মত হবে না। কারণ এর দ্বারা মোহরের মূল উদ্দেশ্য পূরণ হয় না। তাছাড়া মোহরের এই সর্বনিম্ন পরিমাণও রাখা হয়েছে আর্থিকভাবে দুর্বল লোকদের কথা বিবেচনা করে, যাতে তারাও নারীর সম্মতির শর্তে এই পরিমাণ অর্থ দ্বারা বিবাহ করতে পারে।’ [মাসিক আল কাউসার, মে-২০১১ সংখ্যা]

(৪) ফাতেমী মোহর বলতে আসলে কী বুঝায়?

সহজ কথায় বললে, নবিজির কন্যা ফাতিমা (রা.) ও আলি (রা.)-এর বিয়েতে যে মোহরানা ছিলো, সেটিই ফাতেমী মোহর। এর পরিমাণ ছিলো, ৫০০ দিরহাম। অর্থাৎ, নবিজি তাঁর স্ত্রীদের যে পরিমাণ মোহরানা দিতেন, সেই পরিমাণ। [ইমাম ইবনু আবি শাইবাহ, আল-মুসান্নাফ: ১৬৬৩০; ইমাম ইবনু সা’দ, তবাকাতুল কুবরা: ৮/২২; ইমাম হাকিম, আল-মুসতাদরাক: ২৭৪২]

অন্য বর্ণনামতে, ৪৮০ দিরহাম। [ইমাম হাইসামি, মাজমাউয যাওয়াইদ: ৪/২৮৩]

আমরা ৫০০ দিরহামকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছি। বর্তমানে প্রাচীন ১২ গ্রামের তোলার পরিবর্তে ১০ গ্রাম তোলার হিসাবে বেচাকেনা হয়। সেই হিসাবে ১৫৪ তোলা রৌপ্য হলো বর্তমানে ফাতেমী মোহরানা। বর্তমান বাজারে ১ তোলা রুপার মূল্য (২২ ক্যারেটে) ১৫১৬ টাকা। সেই হিসেবে ১৫৪ তোলা রুপার মূল্য হয় ১৫৪*১৫১৬ = ২৩৩৪৬৪ (প্রায় ২ লাখ ৩৪ হাজার) টাকা। ১৮ ক্যারেটের রুপার হিসাবে হলে এই পরিমাণটা হয়
406005
Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা) logo
Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা)

১৭ অক্টো, ২০২৬, ০৬:৪৪

Photo1/2
হযরত আবুদ দারদা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন—

❝যে ব্যক্তি সূরা কাহফের প্রথম দশ আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের ফেতনা থেকে রক্ষা পাবে।❞

❪সহীহ মুসলিম, হাদীস ৮০৯❫
@FatayatalHuda
374009
Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা) logo
Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা)

১৬ অক্টো, ২০২৬, ১৮:৫০

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বান্দাকে পরিতৃপ্ত করেন। এটুকু বিশ্বাস রাখতে হবে যে, আল্লাহর জন্য এটা কোনো ব্যাপারই না যে, তিনি উত্তম কাউকে মুহূর্তের মধ্যেই মিলিয়ে দিতে পারেন। অতএব, আল্লাহ্ ‘আযযা ওয়া জাল্লার উপর পূর্ণ ভরসা রাখতে হবে।

হাদিসে কুদসিতে মহান আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেন, ‘‘আমার ব্যাপারে বান্দা যেমন ধারণা রাখে, আমি তার সাথে তেমনই (আচরণ করি)। আর সে যখন আমার নিকট দু‘আ করে, তখন আমি তার সাথেই থাকি (সাড়া দিই)।’’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ৬৭২২]

অতএব, আল্লাহর সক্ষমতার সামনে নিজের আবেগ, মুগ্ধতা, বাস্তবতা—সবকিছুকে তুচ্ছজ্ঞান করতে হবে এবং তাঁর (আল্লাহর) ব্যাপারে সর্বোত্তম ধারণা রেখে উত্তম জীবনসঙ্গীর জন্য অবিরত দু‘আ করে যেতে হবে। পাশাপাশি, নিজেকেও সেভাবে প্রস্তুত করতে হবে। নেককার জীবনসঙ্গী চাওয়ার বিভিন্ন দু‘আ কুরআন-হাদিসে আছে। সেগুলো আমল করতে হবে। পাশাপাশি সকল গুনাহ, অবৈধ চ্যাটিং, কথা-বার্তা, কুদৃষ্টি থেকে বেঁচে থাকতে হবে। আল্লাহ্ আমাদের নেক মনোবাসনা পূর্ণ করুন। আমিন।

(যারা ইতোমধ্যে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে আছেন, বের হতে পারছেন না, তাদের জন্য একটি পর্বে ইতিবাচক আলোচনা করা হবে, ইনশাআল্লাহ।)

• বন্ধন (একাদশ পর্ব)
• পর্ব-১০ (বিয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে ইস্তিখারার আমল)


~ Nusus

@FatayatalHuda
398004
Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা) logo
Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা)

১৬ অক্টো, ২০২৬, ১৮:৫০

💌 জীবনসঙ্গী নির্বাচন করতে গিয়ে আমরা অনেকেই একটি বড় ভুল করি। সেটি হলো, কারো বাহ্যিক দ্বীনদারি/ভালোমানুষী দেখে তার ব্যাপারে প্রচণ্ড মুগ্ধ হয়ে যাওয়া। এ প্রসঙ্গে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা:

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেন—

وَعَسَىٰ أَن تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ ۖ وَعَسَىٰ أَن تُحِبُّوا شَيْئًا وَهُوَ شَرٌّ لَّكُمْ ۗ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ

‘‘তোমাদের কাছে হয়তো কোনো একটি বিষয় পছন্দনীয় নয়, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হয়তো কোনো একটি বিষয় তোমাদের কাছে পছন্দনীয়, অথচ তোমাদের জন্য তা অকল্যাণকর। বস্তুত আল্লাহই জানেন, তোমরা জান না।’’ [সুরা বাকারা, আয়াত: ২১৬]

• এক.
যে ছেলেকে বাহ্যিকভাবে দেখে আপনি দুর্বল হয়ে গেছেন, তার অভ্যন্তরীণ দ্বীনদারির অবস্থা তেমন ভালো না-ও হতে পারে। হতে পারে, সে নামাজের ব্যাপারে উদাসীন। বিশেষত ফরজের বাইরে সুন্নাতে মুয়াক্কাদা নামাজের ব্যাপারে তার মধ্যে হয়তো তেমন সিরিয়াসনেস নেই। হতে পারে, সে দৃষ্টির হেফাজত করে না, গাইরে মাহরাম মেন্টেইন করে না। এমনও হতে পারে, সে আসলে প্রচণ্ড অহংকারী—স্ত্রীর মতামতকে ভবিষ্যতে পাত্তাও দেবে না। অপরদিকে এমনও হতে পারে: আপনার বাছাইকৃত মেয়েটি গায়রে মাহরাম মেন্টেইন করে না। হয়তো সে গিবত করাকে নিজের অভ্যাসে পরিণত করেছে। হতে পারে, সে বিভিন্ন সিরিয়াল দেখায় মারাত্মকভাবে আসক্ত। এমনও হতে পারে, সে বাবা-মারই আনুগত্য করে না; ভবিষ্যতে আপনার কথা শুনবে, তারও নিশ্চয়তা নেই। এমন অনেক অজানা সমস্যা থাকতে পারে, যেগুলো জানতে পারলে তার প্রতি আপনার মুগ্ধতা থাকবে না।

• দুই.
এ-তো গেলো, তার অভ্যন্তরীণ দ্বীনদারির অবস্থা। তার দুনিয়ার জীবনেও হয়তো বড় কোনো দুর্বলতা আছে, যা আপনি বাহ্যিকভাবে বুঝতে পারছেন না। হতে পারে, তার চোখ দুটো দুনিয়াবি কামনা-বাসনায় পরিপূর্ণ, যা সে অন্যকে বুঝতে দেয় না। তার মধ্যে থাকতে পারে বিরক্তিকর কোন বদ-অভ্যাস, যা তার সাথে গভীরভাবে না মেশা পর্যন্ত কেউ বুঝতে পারবে না।

• তিন.
শুরুর কথাগুলোতে ফিরে যাই। যার বাহ্যিক দ্বীনদারি দেখে আপনি মুগ্ধ, তার অজানা অনেক সমস্যা আপনি জানেন না। ফলে আপনার মুগ্ধতা দিনে দিনে এতটাই বেড়ে যাচ্ছে যে, আপনি ভাবতেও পারছেন না—আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা তার চেয়েও দ্বীনদার, কল্যাণকর এবং বেটার কাউকে আপনার জন্য মিলিয়ে দিতে পারেন। ব্যক্তিবিশেষের প্রতি মুগ্ধতার কারণে আপনি নিজেকে এক পর্যায়ে খুবই সস্তা ভাবতে শুরু করবেন। এমনকি আপনার ভেতর থেকে আত্মমর্যাদাবোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ গুণটি নিঃশেষ হতে থাকবে।

• চার.
তাহলে সমাধান কী?

ইসলামই সমাধান। ইসলাম আমাদের শিক্ষা দিয়েছে, ব্যক্তিবিশেষের জন্য পাগলপারা হওয়া যাবে না; বরং চক্ষুশীতলকারী (قُرَّةُ أَعْيُنْ) কাউকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে চাইতে হবে।

চক্ষুশীতলকারী মানে কি? এর মানে, যাকে দেখলে আপনার চোখ শীতল হয়ে যাবে! আপনি তাকে দেখলে তৃপ্তি পাবেন। তার সাহচর্যকে নিয়ামত মনে করবেন। ‘চক্ষুশীতলকারী’ এমন একটি ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ, যা ব্যক্তির মধ্যে দ্বীনি ও দুনিয়াবি কল্যাণসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে। এক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তিবিশেষকে নয়, সাধারণভাবে এই গুণবিশিষ্ট কাউকে আল্লাহর নিকট চাইতে হবে বেশি করে। মাথা থেকে এই ধারণা সরাতে হবে যে, ‘অমুকের চেয়ে ভালো কীভাবে পাব? অমুক তো আমার পরীক্ষিত’ ইত্যাদি। আল্লাহর কাছে বলুন, ‘আল্লাহ! আমার জন্য যে উত্তম হবে, তাকেই মিলিয়ে দিন।’ আরো বলবেন, ‘এমন কাউকে মিলিয়ে দিন, যার উপর আপনি সন্তুষ্ট এবং আমরা নিজেরাও একে অপরের উপর সন্তুষ্ট থাকবো।’ এভাবে কাউকে নির্দিষ্ট না করে ব্যাপকভাবে আল্লাহর কাছে চান। নিজে নির্দিষ্ট কাউকে চেয়ে পরে নিজেই আফসোস করার দরকার নেই।

🍀 প্রশ্ন আসতে পারে : তাহলে কি ‘নির্দিষ্ট’ কাউকে আল্লাহর কাছে চাওয়া জায়েয নেই? উত্তরে আলিমগণ বলেন, হ্যাঁ জায়েয। বিশেষত, কারও ব্যাপারে খুব ভালো জানাশোনা থাকলে, তাকে আল্লাহর কাছে চাওয়াতে দোষের কিছু নেই। কিন্তু সমস্যা হলো, আমরা অনেকেই এক্ষেত্রে আবেগের কাছে হেরে যাই। বাহ্যিক কিছু বৈশিষ্ট্য দেখে ফিদা হয়ে যাই। তাই, নিরাপদ হলো, আল্লাহর কাছেই নিজের পছন্দকে সোপর্দ করে দেওয়া। তার মানে কিন্তু এই না যে, আমরা খোঁজখবর নেবো না। অবশ্যই নেবো। আর, অবশ্যই ইস্তিখারা না করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবো না।

• পাঁচ.
আল্লাহর নির্ধারিত তাকদিরকে কেউ অতিক্রম করতে পারবে না। স্বাভাবিক দৃষ্টিতে যতই সম্ভাবনাময় মনে হোক-না কেন, তাকদিরের ফয়সালা না থাকলে নির্দিষ্ট কাউকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়া সম্ভব নয়। এমতাবস্থায়, আমরা যখন কাউকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করি, আর সেই স্বপ্নটা ভাগ্যের বাস্তবতায় এসে ভেঙে যায়, তখন হতাশ হয়ে পড়ি। এজন্য আমাদের কখনই উচিত নয়—নির্দিষ্ট কাউকে নিয়ে স্বপ্নের রাজ্যে হারিয়ে যাওয়া বা নির্দিষ্টভাবে শুধু তার জন্যই মালিকের দরবারে দু‘আ করা; বরং আমরা সাধারণভাবে ‘চক্ষুশীতলকারী’ কাউকে কামনা করবো এবং তার জন্য আল্লাহর নিকট ফরিয়াদ জানাবো। নিঃসন্দেহে
418003
Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা) logo
Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা)

০২ সেপ, ২০২৬, ২২:১৩

❑ আমল, আদাব ও আখলাকের প্রতি সজাগ দৃষ্টি

ইলম তখনই নাফে’ (উপকারি), ফলপ্রসূ ও পরিপূর্ণ সাব্যস্ত হয় যখন তার সঙ্গে যুক্ত হয় আমল, উত্তম আদাব ও আখলাক। সালাফের নারীগণ এ বিষয়েও ছিলেন যত্নবান।

ইমাম সুফিয়ান ছাওরী রাহ. এর আম্মাজান তাঁকে বলতেন—

يا بني، إذا كتبت عشرة أحاديث فانظر هل ترى في نفسك زيادة في مشيتك وحلمك ووقارك، فإن لم تر ذلك فاعلم أنه يضرك ولا ينفعك.

দেখো বাবা, যখন তুমি ১০টি হাদীস শিখবে, দেখবে যে তোমার চালচলন, সহনশীলতা ও গাম্ভীর্যে কোনো উন্নতি আসছে কিনা। যদি এমনটা অনুভব না করো তাহলে জেনে রেখো এ ইলমে তোমার কোনো লাভ নেই। [তারীখে জুরজান পৃষ্ঠা : ৪৯২]

ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল রাহ. (২৪১ হি.) গর্ভে থাকা অবস্থায়ই বাবাকে হারান। মায়ের ছায়াতলেই কাটে তাঁর অনাথ শৈশব। মায়ের তরবিয়তে তিনি শৈশবেই অনন্য হয়ে ওঠেন। আবু সিরাজ বলেন, আমি আর আহমাদ একসঙ্গে মক্তবে পড়তাম। পাড়ার মহিলারা —যারা লিখতে জানত না— উস্তাযজীর কাছে সংবাদ পাঠাতেন, আমাদের চিঠির উত্তর লিখে দেয়ার জন্য আহমাদকে পাঠিয়ে দিন। মহিলাদের কাছে গেলে আহমাদ তাদের দিকে চোখ তুলেও তাকাত না। আমার আব্বু তার চালচলন ও আদব দেখে মুগ্ধ হয়ে বলতেন, আমি আমার ছেলের তরবিয়তের পেছনে এত এত খরচ করি, ভালো ভালো শিক্ষক আনি, তবুও তারা সফল হচ্ছে না। অথচ দেখো, এ এতীম ছেলেটার চালচলন কত সুন্দর! [মানাকিবে আহমাদ রাহ., ইবনুল জাওযী, পৃ. ২৩]

• সালাফদের নারীগণ (পর্ব-৪)

•
716009
Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা) logo
Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা)

০২ সেপ, ২০২৬, ২২:১৩

❑ ইলমের পথে সন্তানকে পেশ করা

ইমাম সুফিয়ান বিন সাঈদ ছাওরী রাহ. (১৬১হি.) ছিলেন হাদীস, ফিকহ, দুনিয়াবিমুখতা ও আল্লাহভীতিতে এ উম্মতের উজ্জ্বল নক্ষত্র। উম্মত তাঁকে হাদীস শাস্ত্রের আমীরুল মুমিনীন উপাধি দিয়েছে। তাঁর উজ্জ্বল জীবনে রয়েছে এক দরিদ্র অথচ আকাশসম হিম্মতের অধিকারী মায়ের অবদান। শৈশবেই আল্লাহ তাআলা ইমাম ছাওরী রাহ. এর অন্তরে ইলমের স্পৃহা ঢেলে দিয়েছিলেন। কিন্তু সংসারে ছিল অভাব ও দারিদ্র্য। তাঁর নেককার মা বললেন—

يا بني، اطلب العلم وأنا أكفيك من مغزلي.

বাবা, তুমি ইলম তলব করে যাও, আমি সুতো কেটে তোমার খরচ বহন করব। [তারীখে জুরজান, পৃষ্ঠা: ৪৯২]

সুবহানাল্লাহ! মা নিজেই সন্তানের খরচের দায়িত্ব নিয়ে তাঁর ইলম তলবের পথ সুগম করে দিলেন! মায়ের এ প্রেরণাদান ইমাম ছাওরী রাহ. এর উদ্দীপনায় তরঙ্গ সৃষ্টি করল। সকল অভাবের বাধ ভেঙ্গে তিনি ইলমের পথে এগিয়ে চলেন।

সে যুগে ইলম তলব আজকের মতো সহজসাধ্য ছিল না। ইলমের জন্য মাতৃভূমি ছেড়ে দূর-দূরান্তের যাত্রা করতে হত। চষে বেড়াতে হত একের পর এক ইলমের কেন্দ্র-শহরগুলো। যাত্রা ছিল বিপৎসংকুল ও কষ্টের। ইলমের জন্য ঘর থেকে বের হলে মাস দুমাস নয়, বহু বছর পর ফেরা হত। উপরন্তু ছিল না আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা। এ লম্বা সময়গুলো মায়েরা অত্যন্ত সবর ও কুরবানির সঙ্গে কাটাতেন। একটি দৃষ্টান্ত পেশ করছি।

ইমাম আলী ইবনুল মাদীনী রাহ. (২৩৪ হি.) ছিলেন হাদীস শাস্ত্রের বড় কাণ্ডারি। তিনি বলেন, একবার আমি মাতৃভূমি বসরা থেকে ইলম অন্বেষণের উদ্দেশ্যে ইয়েমেনের পথে যাত্রা করলাম। তিন বছরের মতো বসরা থেকে দূরে ছিলাম। আমার মা তখন জীবিত ছিলেন। ফেরার পর মা আমাকে বললেন, বাবা, জেনে রেখো, অমুক তোমার বন্ধু, অমুক তোমার শত্রু।

আমি বললাম, মা আপনি কীভাবে জানলেন?

তিনি বললেন, তুমি যখন ইলমের সফরে ঘরের বাইরে ছিলে, তোমার জন্য আমার মন অনেক কাঁদত। তখন অমুক অমুক আমাকে এসে সালাম দিয়ে সান্ত্বনা দিত এবং বলত, সবর করুন, দেখবেন যেদিন আপনার সন্তান ফিরে আসবে সেদিন তাঁর অর্জন করা ইলম দেখে আল্লাহ আপনাকে খুশি করে দেবেন। তখন বুঝলাম এরা তোমার কল্যাণকামী বন্ধু। আর অমুক অমুক আমাকে এসে বলত, আপনি তাকে বারবার চিঠি লিখে ফিরে আসতে বলেন, যেন সে ফিরে আসতে বাধ্য হয়।  [সিয়ারু আ’লামিন নুবালা ১১ : ৪৯]

• সালাফদের নারীগণ (পর্ব-৩)
•
6720011
Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা) logo
Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা)

০২ সেপ, ২০২৬, ২২:১৩

শৈশবে মায়ের দায়িত্ব, তার আদর্শ তরবিয়তের গুরুত্ব এবং সুদূরপ্রসারী প্রভাবকে মুফাককিরে ইসলাম হযরত আবুল হাসান আলী নদভী রাহ. তাঁর মর্মস্পর্শী বক্তব্যে কত চমৎকারভাবে উপস্থাপন করেছেন! হযরত বলেন, ‘মায়েদের দায়িত্ব এটুকুতেই শেষ নয় যে, বাচ্চাকে আল্লাহ-রাসূলের নাম শিখিয়ে দেবে, সময় হলে নামায পড়া এমনকি কুরআন শরীফ পড়াও শিখিয়ে দেবে, মাতৃভাষাও রপ্ত করিয়ে দেবে..., এ গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর বাইরে তাদের এও জরুরি দায়িত্ব যে, তারা এ বাচ্চাদের কোমল অন্তরে কুফর-শিরকের প্রতি ঘৃণা তৈরি করবে। তাওহীদের সঙ্গে ভালোবাসা, এর ওপর গর্ববোধ এবং ইসলাম ও মুসলিম পরিচয়ে আনন্দ ও মর্যাদার অনুভূতি সঞ্চার করবে। দ্বীনের প্রতি গায়রত ও আত্মমর্যাদাবোধ, আল্লাহর আনুগত্য ও আখেরি পয়গম্বর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি হৃদয়নিংড়ানো ও মন উজাড় করা ভালোবাসা জাগরুক করবে। গুনাহের প্রতি বিদ্বেষ সৃষ্টি করবে। পার্থিব জৌলুসকেই জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য এবং উন্নতি ও সফলতার মাপকাঠি ভাবা থেকে রক্ষা করবে। তার মাঝে ন্যায়পরায়নতা ও সত্যবাদিতার অভ্যাস গড়ে তুলবে। পরার্থপরতা, সৃষ্টিসেবা ও দেশপ্রেমের জযবা বদ্ধমূল করবে। এসব মায়েদেরই দায়িত্ব ও তাদেরই করার কাজ। এসব গুণ ও অনুভূতি যদি শৈশবে এবং ঘরের পরিবেশে জন্ম না নেয়, তাহলে পৃথিবীর বড় থেকে বড় জ্ঞানকেন্দ্র এবং সরকারি বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কোনো শিক্ষালয় এ কাজ করতে অক্ষম।’

হযরত আরও বলেন, ‘সত্য কথা হলো, হৃদয়ের মণিকোঠায়, মনের গহিনে ও অন্তরের উর্বর জমিতে সে শক্তিশালী বীজ মায়েরা এবং ঘরের পর্দানশীনরাই বপন করতে পারেন। এ বীজ যখন পরিণত হয়ে যায়, তখন কোনো মহাশক্তিই তা নির্মূল করতে পারে না। ইতিহাস এমন হাজারো দৃষ্টান্ত পেশ করেছে যে, মা-বোনদের থেকে পাওয়া শিক্ষা, তাদের শেখানো দ্বীন, তাদের জাগিয়ে দেয়া চেতনা ও অনুভূতি বড় বড় মুজাহিদের দৃঢ়তা ও অবিচলতার কারণ হয়েছে। আপনি যদি ভালোভাবে অনুসন্ধান ও তত্ত্বতালাশ করেন, তাহলে জানতে পারবেন, এ অবিচলতা ও জযবার গোড়ায় রয়েছে মায়েদের অবদান। এমন অনেক নজির আছে যে, বড় অনেক উলামায়ে ইসলাম গত হয়েছেন যাঁদের পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান ছিল মায়েদের। মায়েরাই তাঁদেরকে জীবনের অন্তিম নিঃশ্বাস পর্যন্ত ইসলামের ওপর অবিচল থাকার শক্তি ও প্রেরণা জুগিয়েছেন। আপনি প্রায় প্রত্যেক মনীষীর জীবনপাতা উল্টে দেখুন, তাঁদের তরবিয়তে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল মায়েদের, বড়বোনদের, ঘরওয়ালিদের।’ [ইসলাম মেঁ আওরাত কা দারাজা পৃষ্ঠা : ২৩৬, ২৪০]

এই প্রবন্ধে আমরা এমন কিছু মনীষীর জীবনে তাঁদের মায়েদের ভূমিকা পেশ করব, যাঁরা ছিলেন ইলম ও আমলে উম্মতের সমুজ্জ্বল নক্ষত্র।

•
6520013
Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা) logo
Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা)

০২ সেপ, ২০২৬, ২২:১৩

🌸 সালাফের নারীগণ -২

• শৈশবেই ঈমানের বীজ বপন

শিশুর দ্বীনী মানসিকতা গঠনে মায়ের শিক্ষা ও তরবিয়তের তুলনা হয় না। শৈশব হল ভিত্তিস্থাপন ও বীজ বপনের বয়স। এ বয়সে মায়েরাই পারেন সন্তানের উর্বর হৃদয়ে এমন বীজ বপন করতে, যা আল্লাহ চাহে তো বিশাল, মজবুত ও ফলদায়ক বৃক্ষে পরিণত হতে পারে। সালাফের যুগে শিশুরা মায়ের সুশীতল পাঠশালা থেকেই পেতো ঈমান-তাওহীদের প্রাথমিক ধারণা। শিখত তাকওয়া, উত্তম আদাব-আখলাক ও ফরজে আইন ইলম। মায়ের কোল থেকেই সন্তানরা পেত ঈমানী চেতনা ও মর্যাদাবোধ, গুনাহ ও অন্যায়ের প্রতি ঘৃণার দীক্ষা। শৈশব থেকেই মায়েরা সন্তানকে ইবাদতে অভ্যস্ত করে তুলতেন।

হযরত উম্মে সুলাইম রা. যখন ইসলামের আলোয় আলোকিত হন, তখন তাঁর স্বামী মালিক বিন নাদর সফরে। মালিক ছিলেন মুশরিক। সফর থেকে ফেরার পর তিনি উম্মে সুলাইম রা.কে ধমক দিয়ে বললেন, তুমি ধর্মত্যাগী হয়ে গেছ?

উম্মে সুলাইম রা. উত্তর দিলেন, ‘আমি ধর্মত্যাগী হইনি, বরং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর ঈমান এনেছি।’

তাদের সংসারে আনাস নামক এক দুধের শিশু ছিল, যার সবে মুখ ফুটেছে। উম্মে সুলাইম রা. তাঁর এ সন্তানকেও আলোকিত করে গড়ে তোলার প্রত্যয় গ্রহণ করলেন। তাই এ বয়সেই তাকে শেখাতেন, বাবা, বলো, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। বলো, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ।

শিশুটিও আধোআধোভাবে বলত। এভাবে উম্মে সুলাইম রা. তাঁর শিশু আনাসের অস্তিত্বে ঈমানের আভা ছড়াতেন। তার মুশরিক পিতা এসব দেখে রাগান্বিত হয়ে বলত, আমার ছেলেকে নষ্ট করছ কেন?

উম্মে সুলাইম রা. উত্তর দিতেন, আমি তাকে নষ্ট করছি না।

কিছুদিন পরেই মালিক মৃত্যুবরণ করলে উম্মে সুলাইম রা. এ শিশুর তরবিয়ত ও খেদমতের জন্য নিজেকে ওয়াক্ফ করার ওয়াদা করেন। বলেন—

আমি ওয়াদা করলাম, যতক্ষণ পর্যন্ত আনাস বেঁচে থেকে নিজেই দুধ না ছাড়বে, ততক্ষণ তার দুধ ছাড়াব না। আনাস বড় হয়ে যদি নিজেই আমাকে বিয়ে বসতে না বলে আমি বিয়েও বসব না।

উম্মে সুলাইম রা. ছিলেন বানূ নাজ্জার গোত্রের সম্ভ্রান্ত নারী। তাই দ্বিতীয় বিয়ের প্রস্তাব সহজেই পেতেন। কিন্তু এ সন্তানের জন্য তিনি ত্যাগ স্বীকারের সংকল্প করেন। মায়ের এ ত্যাগের কথা হযরত আনাস রা. স্মরণ করে বলতেন—

আল্লাহ আমার মাকে উত্তম প্রতিদান দিন, তিনি আমার কত সুন্দর প্রতিপালন করেছেন। [তাবাকাতে ইবনে সা’দ ১০ : ৩৯৬]

শতাব্দীর পর শতাব্দীজুড়ে উম্মতের মাঝে সমাদৃত এক মাযহাবের প্রণেতা ইমাম মুহাম্মাদ বিন ইদরীস আশ্-শাফিয়ী রাহ. (২০৪ হি.)। তাঁর জন্ম হয় গাজা শহরে। তাঁর পিতা সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। মায়ের কোলই এ শিশুর একমাত্র আশ্রয়। কিন্তু এ শিশু তো কুরাইশ বংশের সন্তান। তাকে তো এ বংশের লাজ রাখতে হবে। এ বংশের আদর্শের ধারক হতে হবে। গাজার পরিবেশ এর অনুকূল নয়। তাই তার বয়স যখন দুই বছর মা তার বংশপরিচয় বিলীন হয়ে যাওয়ার আশংকায় তাকে নিয়ে কুরাইশের কেন্দ্র্রস্থল পবিত্র মক্কায় পাড়ি জমান। [সিয়ারু আ’লামিন নুবালা ১০ : ৬]

লক্ষ্য করুন, যে বয়সে অনেক মা শিশুর দ্বীনী তরবিয়তের ফিকির করেন না, তখন থেকেই ইমাম শাফিয়ী রাহ. এর আম্মাজান এ দুধের শিশুর আদর্শ তরবিয়তের জন্য অনুকূল পরিবেশের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে ফিলিস্তিন থেকে সুদূর মক্কায় পাড়ি জমিয়েছেন। মক্কায় স্বামীহারা এ নারীর জীবন ছিল অভাব-অনটনের। সংসারের খরচ নিজেই চালাতেন। তবুও এ দৈন্যদশা আদর্শ সন্তান গঠনে বাধা হতে পারেনি।
5980010
Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা) logo
Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা)

০২ সেপ, ২০২৬, ২২:১৩

কোরআনে একটা আয়াত যখনই পড়ি তখনই আমি আত্নবিশ্বাসী হই।

আল্লাহ বলেছেন — "নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম গঠনে।" (সূরা ত্বীন, ৯৫:৪)
"সর্বোত্তম" মানে এর ওপরে আর কিছু নেই। অথচ আমরা নিজেদের চেহারা বা অবয়ব নিয়ে সবচেয়ে অসন্তুষ্ট জাতি হয়ে উঠছি।

একটা প্রশ্ন করি।
যখন আয়না ছিল না, তখন মানুষ কী করত?

হাজার হাজার বছর মানুষ নিজের মুখ ঠিকমতো দেখতেই পেত না। পানির প্রতিফলন, নয়তো ধাতুর পালিশ করা টুকরো — এতটুকুই। মানুষ তখন বাঁচত নিজের চেহারা নিয়ে না ভেবে।

তারপর এলো আয়না। মানুষ প্রথমবার স্পষ্ট করে নিজেকে দেখল। আর দেখা শুরু করতেই — নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে গেল। কীভাবে আরও সুন্দর হওয়া যায়, কীভাবে এই দাগটা ঢাকা যায়, কীভাবে ওকে টেক্কা দেওয়া যায় — চিন্তাটা এখান থেকেই শুরু।

প্রথমে এলো মেকআপ। যা আছে, তার ওপর রং চাপিয়ে দেওয়া। আসল মুখটা ঢেকে একটা "উন্নত" মুখ দেখানো।
তারপর এলো ফিল্টার। মেকআপেরও ডিজিটাল সংস্করণ — এক ট্যাপে ত্বক মসৃণ, নাক সরু, চোখ বড়, রং ফর্সা।

কী অদ্ভুত যাত্রা, খেয়াল করেছেন? আয়না বানানো হয়েছিল সত্য দেখতে। কিন্তু সেই সত্যটা আমাদের এত অপছন্দ হলো যে আমরা এমন জিনিস বানালাম, যা মিথ্যে বলে।

ভয়ংকর বিষয় হল, এটা এখন আর রং বা ফিল্টারে থেমে নেই।

পশ্চিমে নিজের চেহারা পরিবর্তন করা মহামারির রূপ নিয়েছে। ঠোঁটে জেল ভরানো, চোয়াল কেটে ছোট করা, নাকের আকার বদলানো, চামড়া সাদা করার ইনজেকশন, নিজেকে জীবন্ত পুতুল বানানো। মানুষ ছুরির নিচে শুয়ে পড়ছে — একটা কাল্পনিক "নিখুঁত" মুখের জন্য।

না, নিজেদের ভালো ভাবার প্রয়োজন নেই। এটা এখন শুধু ওদের সমস্যা না

ঢাকাতেই এখন সারি সারি ক্লিনিক। ঠোঁটে ফিলার, মুখের আকার বদলানো, ফর্সা হওয়ার ইনজেকশন — সবই এখন হাতের নাগালে, বিজ্ঞাপনসহ। আমাদের ঘরেও ঢুকে গেছে।

কেন হচ্ছে এমন?
কারণ ছোটবেলা থেকে আমাদের সুন্দর হওয়ার ছাঁচ গিলিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ভেবে দেখুন — নাটক-সিনেমার নায়ক কি কখনো কালো হয়? বোঁচা নাক? শুকনো? হয় না। নায়িকাও না। ইন্ডাস্ট্রি একটা "সুন্দর"-এর সংজ্ঞা বানিয়ে রেখেছে — ফর্সা, লম্বা, নিখুঁত।

আর গত পঁচিশ-তিরিশ বছর ধরে আমরা ওই একটা বিজ্ঞাপনই তো দেখে আসছি — "ফর্সা হও, তবেই সুন্দর।" সাবান থেকে ক্রিম, শ্যাম্পু থেকে সিনেমা — গোটা ইন্ডাস্ট্রি মিলে একটা ছাঁচ বানিয়েছে।

তারপর কেউ সেই ছাঁচে খাপ না খেলে নিজেকে কুৎসিত ভাবে। আর তখনই ছোটে মেকআপে, ফিল্টারে, ক্লিনিকে, সার্জারীতে।
অথচ ছাঁচটাই তো মিথ্যে।

এবার আসল কথাটা শুনুন।

আল্লাহর একটা সুন্দর নাম আছে — আল-মুসাওয়্যির। অর্থ: যিনি রূপদান করেন, আকৃতি দেন। যিনি প্রতিটা মুখ আলাদা করে, নিজ হাতে, নিখুঁতভাবে গড়েন।

মায়ের গর্ভে আপনার চোখ কোথায় বসবে, নাক কেমন হবে, ঠোঁটের বাঁক কতটা — প্রতিটা সিদ্ধান্ত তাঁর। কোটি কোটি মানুষ, অথচ একটা মুখও আরেকটার মতো না। এই বৈচিত্র্যটাই তো তাঁর শিল্পের প্রমাণ।

এখন ভাবুন। যে মুখটা আল-মুসাওয়্যির নিজ হাতে গড়েছেন, সেটাকে "অসুন্দর" বলে ঢেকে ফেলা, কেটে বদলানো — এটা আসলে কার সিদ্ধান্তকে প্রশ্ন করা?

আপনার এই চেহারাটাই — যেটা নিয়ে আপনি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আফসোস করেন — এটাই আপনার স্রষ্টার হাতে গড়া সেরা মাস্টারপিস। আপনার গায়ের রং, আপনার নাকের গড়ন, আপনার উচ্চতা — কোনোটাই ভুল না। এগুলো একজন মহাশিল্পীর সিদ্ধান্ত। আর তাঁর সিদ্ধান্তে ভুল থাকে না।

টিভির হিরো আপনার সৌন্দর্যের সংজ্ঞা ঠিক করে না।
সৌন্দর্যের সংজ্ঞাটা আসমান থেকে লেখা হয়ে এসেছে — "সর্বোত্তম গঠনে"।

মেকআপ মুছে যায়। ফিল্টার সরে যায়। সার্জারির দাগ থেকে যায়। কিন্তু তিনি যে রূপ দিয়েছেন, সেটাই আসল, সেটাই স্থায়ী, সেটাই সুন্দর।

আল্লাহ আমাদের নিজেদের রূপে সন্তুষ্ট থাকার, আর তাঁর সৃষ্টিকে সম্মান করার তাওফিক দিন।

আমীন। 🤍

- সংগৃহীত
6690024
Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা) logo
Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা)

০২ সেপ, ২০২৬, ২২:১৩

❑ সালাফের নারীগণ -১

সালাফের নারীগণ সন্তান জন্মের পূর্ব থেকেই সন্তানকে আদর্শ সন্তান হিসেবে গড়ে তোলার ফিকির ও পরিকল্পনা করতেন। এর জন্য পূর্বপ্রস্তুতি নিতেন। কুরআন মাজীদে উম্মে মারয়াম রা. এর মহান মান্নতের ঘটনা এর সমুজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মহান রবের দরবারে তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠাপূর্ণ ও হৃদয়নিংড়ানো আকুতি নিয়ে বললেন—

رَبِّ إِنِّي نَذَرْتُ لَكَ مَا فِي بَطْنِي مُحَرَّرًا فَتَقَبَّلْ مِنِّي إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ.

হে আমার রব, আমার গর্ভে যে সন্তান আছে, আমি আপনার জন্য তার ব্যাপারে মান্নত করলাম যে, তাকে মুক্ত রাখা হবে। অতএব আপনি আমার পক্ষ থেকে কবুল করুন। [সূরা আলে ইমরান, (৩) : ৩৫]

অর্থাৎ দুনিয়ার সমস্ত ব্যস্ততা, ঝায়-ঝামেলা ও দায়দায়িত্ব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত, আল্লাহর ইবাদত ও বাইতুল মাকদিসের সেবার জন্য ওয়াক্ফকৃত। আকাক্সক্ষার বিপরীতে যখন কন্যাসন্তান জন্মলাভ করে, তিনি নিরাশ হননি। আল্লাহর ওপর ভরসা করে মান্নত পূর্ণ করলেন এবং বললেন,

وَإِنِّي سَمَّيْتُهَا مَرْيَمَ وَإِنِّي أُعِيذُهَا بِكَ وَذُرِّيَّتَهَا مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ.

আমি তার নাম রাখলাম মারয়াম এবং তাকে ও তার বংশধরগণকে অভিশপ্ত শয়তান থেকে হেফাজতের জন্য তোমার আশ্রয়ে অর্পণ করলাম। [সূরা আলে ইমরান, (৩) : ৩৬]

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মায়ের এ নিষ্ঠা ও কুরবানিকে কী সাদরে মূল্যায়ন করলেন!

فَتَقَبَّلَهَا رَبُّهَا بِقَبُولٍ حَسَنٍ وَأَنْبَتَهَا نَبَاتًا حَسَنًا وَكَفَّلَهَا زَكَرِيَّا.

সুতরাং তাঁর প্রতিপালক তাঁকে (মারয়ামকে) উত্তমভাবে কবুল করলেন এবং তাঁকে উৎকৃষ্ট পন্থায় প্রতিপালন করলেন। এবং তাঁকে যাকারিয়ার তত্ত্বাবধানে সোপর্দ করলেন। [সূরা আলে ইমরান, (৩) : ৩৭]

বলাবাহুল্য, এ কন্যাসন্তান মারিয়াম রা. ও তাঁর অস্তিত্বে সুপ্ত হযরত ঈসা আ. কত বরকতপূর্ণ ছিলেন। হযরত উম্মে মারয়াম রা. তাঁর এ ইখলাস ও কুরবানির মাধ্যমে মায়েদের জন্য রেখে গেলেন আল্লাহর ওপর ভরসা করে আল্লাহর তরে সন্তানকে ওয়াক্ফ করার উজ্জ্বল শিক্ষা। মাওলানা মানযূর নুমানী রাহ. বলেন, “ইমাম আবু বকর জাস্সাস রাযী রাহ. ‘আহকামুল কুরআন’ কিতাবে এ আয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গে লিখেছেন, সন্তানকে আল্লাহর জন্য ওয়াক্ফ করার এ ধারা শরীয়তে মুহাম্মাদীতেও বহাল রয়েছে, তবে শরীয়তে মুহাম্মাদীর স্বভাব ও প্রকৃতি অনুুযায়ী তার রূপ সংশোধন করা হয়েছে। অর্থাৎ যারা সন্তানকে আল্লাহর জন্য ওয়াক্ফ করতে চায়, তারা এভাবে নিয়ত করবে যে, এই সন্তানকে আমি আল্লাহর জন্য এবং তাঁর দ্বীনের খিদমতের জন্য ওয়াক্ফ করলাম। এতে সে ইলমে দ্বীন হাসিল করা এবং দ্বীনের খেদমত করার জন্য ওয়াক্ফ হয়ে যাবে। তবে আমাদের শরীয়তে মুহাম্মাদীতে এজন্য তার সংসার ত্যাগ করার প্রয়োজন নেই এবং অনুমতিও নেই। জীবনকে সে আল্লাহর নামে উৎসর্গ করবে, জীবনের অঙ্গনে অবস্থান করে। প্রয়োজনে সে উপার্জন ও জীবিকার পথ গ্রহণ করবে, বিবাহ-সংসার নির্বাহ করবে এবং সন্তান-সন্ততির তরবিয়ত করবে, এমনকি মা-বাবার সেবা-দায়িত্বও পালন করবে, কিন্তু তার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হবে ইলমের তলব, দ্বীনের খেদমত এবং আল্লাহ তাআলার রিযা ও সন্তুষ্টি অর্জন। জীবনের অঙ্গনে অবস্থান করেও এ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের পথেই হবে তার জীবন ও মরণ।” [তালিবানে ইলমের রাহে মনযিল পৃ. ২২-২৩]
7790012
Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা) logo
Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা)

০২ সেপ, ২০২৬, ২২:১৩

এই দুনিয়ার জীবনে কোনো স্থিরতা নেই। নেই কোনো পূর্ণতা। এটা মেনে নিলেই দিল শান্ত হবে।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা তো নিজেই বলেছেন, তিনি তাঁর বান্দাকে পরীক্ষা করবেন বারবার। কখনো দিয়ে, কখনো কেড়ে নিয়ে। কেউ থাকবে অসুস্থতার পরীক্ষায়। কেউ বা থাকবে অভাবে। কাউকে পরীক্ষা করা হবে জীবনসঙ্গী দিয়ে। কেউ কেউ নিঃসন্তান হয়ে জীবন কাটাবে। আবার সেই পরীক্ষাগুলো শেষ হওয়ার পর নতুন করে নতুন রূপে,নতুন নতুন পরীক্ষা আসবে। এটাই যে জীবন!

খেয়াল করলে দেখবেন,যাদের জীবনে পূর্ণতা আসে,তাদের জীবন থেকে কোনো না কোনো মানুষের বিদায় হয়। মৃত্যু এসে সব লন্ডবন্ড করে। কিংবা কোনো মরণব্যাধি ধরা পড়ে। এটাই আল্লাহর ইচ্ছে। আর মাবুদের ইচ্ছেকে সবরের সাথে মেনে নেওয়াই গোলামের কর্তব্য!

সব পরিস্থিতিতে, সব হালতে কেবলমাত্র আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়াতেই মুক্তি। সবর ও সালাতের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য চাওয়ার মাধ্যমেই জীবন সহজ হয়। ইহকাল ও পরকালে মুক্তি মেলে।

সবশেষে, আমরা তো আল্লাহর জন্য এবং তাঁর কাছেই ফিরে যাবো।

~ Tahia Islam
9900017
Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা) logo
Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা)

০২ সেপ, ২০২৬, ২২:১৩

একদিন আমি এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যাব। তখন আমার সন্তানরা আমাকে কীভাবে স্মরণ করবে?
তারা কি বলবে আমাদের আব্বু/আম্মু গভীর রাতে তাহাজ্জুদ পড়তেন, কুরআন তিলাওয়াত করতেন, আল্লাহর কাছে অনেক দোয়া করতেন।
নাকি বলবে আমাদের আব্বু/আম্মু রাত জেগে মোবাইল চালাতেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কাটাতেন, কিন্তু নামাযের জন্য উঠতে পারতেন না।

একটু নিজের বিবেককে জিজ্ঞেস করুন, আপনি আপনার সন্তানদের জন্য কোন স্মৃতিটি রেখে যেতে চান?

আমরা প্রায়ই সন্তানদের নসীহত করি, বাবা, পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ো। কিন্তু সে কি কখনো দেখেছে যে, আজান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা সব কাজ ফেলে মসজিদের দিকে ছুটে গেছি?
আমরা বলি, বাবা, মোবাইল কম দেখো। কিন্তু আমাদের নিজের হাতেই কি সারাক্ষণ মোবাইল থাকে না?
আমরা বলি, মিথ্যা বলা মহাপাপ। কিন্তু নিজেদের প্রয়োজনে কি আমরা ছোট-বড় মিথ্যাকে সহজভাবে গ্রহণ করি না?
আমরা চাই সন্তান ভদ্র হোক, অথচ আমাদের মুখে রাগ, গালি ও কঠোর ভাষা। আমরা চাই সন্তান সত্যবাদী হোক, অথচ আমাদের কথার সঙ্গে কাজের মিল নেই।

মনে রাখতে হবে, সন্তান কেবল আমাদের উপদেশ শোনে না; সে আমাদের জীবন পড়ে। সে আমাদের প্রতিটি আচরণ, প্রতিটি অভ্যাস এবং প্রতিটি সিদ্ধান্ত নীরবে শিখে নেয়। এ কারণেই বলা হয়, সন্তান হলো মা-বাবার জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। মূল ছবিতে যা থাকবে, প্রতিচ্ছবিতেও তাই ফুটে উঠবে।

তাই যদি আমরা চাই আমাদের সন্তানরা আল্লাহভীরু, সৎ, নামাযী, কুরআনপ্রেমী, চরিত্রবান ও আদর্শ মানুষ হোক, তাহলে প্রথমে নিজেদের জীবনকেই বদলাতে হবে।

-খুতুবাত
2,3700016
Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা) logo
Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা)

০২ সেপ, ২০২৬, ২২:১৩

ভাতের মাড় ফেলবেন কিন্তু লুছনী খুঁজে পাচ্ছেন না, গোসলে যাবেন গামছা খুঁজে পাচ্ছেন না সাথে সাথে আল্লাহকে বলবেন যে, আল্লাহ খুঁজে পাচ্ছিনা পাইয়ে দাও। যদিও এগুলো জিনিস হাতের কাছেই থাকে একটু খুঁজলেই পাওয়া যায় তবুও আগে আল্লাহকে বলবেন।

আমার ছেলে ঘুমের মধ্যে পুরো বিছানা গড়াগড়ি করে, খাটের মাথায় গিয়ে বাড়ি খায় নয়তো নিচে পড়ে যায় এইজন্য দুই পাশে কোল বালিশ দিয়ে রাখি। রাতে ঘুমের মধ্যে হঠাৎ হাত দিয়ে দেখি এক পাশে বালিশ নাই। ঘুমের মধ্যেই উঠে বিছানার চারপাশে খুঁজলাম পেলাম না পরে বিরক্ত হয়ে শুয়ে পড়লাম। তখনই মনে খেয়াল আসলো, আল্লাহ তো জুতার ফিতাও চাইতে বলছেন আচ্ছা আল্লাহকেই বলি। বলে আবার খুঁজা শুরু করলাম। আলহামদুলিল্লাহ পেয়ে গেলাম অথচ সেই একই জায়গায় মাত্রই দেখেছি কিন্তু পাইনি।

বড় বড় বিপদ ছাড়া আল্লাহকে বলার অভ্যাস নাই আমাদের কিন্তু বলা উচিত তাহলে জীবন সহজ হয়ে যায়। কারণ লুছনী বলেন বা গামছা প্রত্যেকটা জিনিসের মালিক আল্লাহ। এই ছোট্ট জিনিসটাও আল্লাহর ইচ্ছে ছাড়া ফিরে পাওয়া সম্ভব না। যতই নাগালে থাকুক, চোখের সামনে থাকুক। তাই খুঁজবেন কিন্তু আল্লাহকে বলে নিবেন।

একটা আইসক্রিম খেতে চাইলেও হাজব্যান্ড বা বাবাকে বলার আগে আল্লাহকে বলবেন। এই ছোট্ট জিনিসটা কিনে দিতে কোনো বাবা বা হাজব্যান্ডই না করবেন না। কিন্তু এমন হতে পারে যে, তাদের আনার কথা মনে থাকলোনা কিংবা আনার পথে হারিয়ে গেলো বা কোনোভাবে নষ্ট হয়ে গেলো। কিন্তু আল্লাহ ইচ্ছে করলে যেভাবেই হোক আপনার হাতে পৌঁছে যাবে।

সবচেয়ে বড় ফায়দা হলো, এই ধরনের ছোট ছোট বিষয়ে বলার অভ্যাস থাকলে আল্লাহর সাথে স্ট্রং একটা কানেকশন তৈরি হয়ে যায় তখন বড় বড় বিপদে মাথা ঠান্ডা থাকে। নয়তো আমরা প্যানিক করে ফেলি, হসপিটালে দৌড়াই টাকা ঢালতে থাকি, এর কাছে বলি ওর কাছে দৌড়াই, এই সেক্টরে পরিচিত উচ্চপদস্থ কে আছে খুঁজতে থাকি। সবশেষে যখন কোন কাজ হয়না তখন আল্লাহকে বলি অথচ শুরুতেই আল্লাহকে বললে আল্লাহ বিষয়টা সবচেয়ে সুন্দরতম উপায়ে সহজ করে দিতেন।

- সংগৃহীত
9710030
Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা) logo
Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা)

০২ সেপ, ২০২৬, ২২:১৩

তৃষ্ণায় শীতল পানির চেয়েও প্রিয়

আলী রাযিয়াল্লাহু কে জিজ্ঞেস করা হল যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আপনারা কেমন ভালোবাসতেন?

জবাবে তিনি বলেন,
كَانَ وَاللَّهِ أَحَبُّ إِلَيْنَا مِنْ أَمْوَالِنَا وَأَوْلَادَنَا، وآبائِنَا وَأُمَّهَاتِنَا، وَمِنَ الْمَاءِ الْبَارِدِ عَلَى الظَّما
আল্লাহর কসম! তিনি আমাদের নিকট আমাদের ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি, পিতৃ ও মাতৃকুল এবং প্রচন্ড তৃষ্ণার সময় ঠান্ডা পানি যেমন প্রিয়, তার চাইতেও অধিক প্রিয় ছিলেন।
(আশ-শিফা বি তা'রীফি হুকুক্বিল মুস্তাফা: ২/৫২)

সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

- খুতুবাত

🍀জুমার রাত, দুরুদ আর সূরা কাহাফ এর আমল ভুলব না...
822009

Showing 30 of 51 posts

রেটিং

লগইন প্রয়োজন

Frequently Asked Questions

Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা) টেলিগ্রাম চ্যানেল কী বিষয়ে?+

Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা) (@fatayatalhuda) tgdio-এ ধর্ম ক্যাটাগরিতে তালিকাভুক্ত একটি টেলিগ্রাম চ্যানেল। র‍্যাঙ্কিং, রেটিং, রিভিউ ও সাম্প্রতিক পোস্ট দেখে সাবস্ক্রাইব করার আগে সিদ্ধান্ত নিন। এখন tgdio-এ প্রায় ২,২১৮ সাবস্ক্রাইবার আছে।

আমি কীভাবে Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা) (@fatayatalhuda) জয়েন করব?+

tgdio-এ চ্যানেল প্রোফাইল খুলে Join / Open in Telegram দিয়ে @fatayatalhuda-এ বিনামূল্যে সাবস্ক্রাইব করুন।

Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা) কি ভালো ধর্ম চ্যানেল?+

tgdio-এ জয়েনের আগে Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা)-এর রেটিং, রিভিউ, র‍্যাঙ্কিং ও পোস্ট দেখুন। এখন tgdio-এ প্রায় ২,২১৮ সাবস্ক্রাইবার আছে। একই ধর্ম চ্যানেলের সাথে তুলনা করুন।

Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা)-এর স্ট্যাটস ও পোস্ট কোথায় দেখব?+

tgdio-এ @fatayatalhuda পেজ খুলুন — সাবস্ক্রাইবার স্ট্যাটস, র‍্যাঙ্কিং, রেটিং ও পোস্ট। Stats লিঙ্ক দিয়ে গ্রোথ চার্ট দেখুন।