কোটা আন্দোলন 2 Telegram channel photo

কোটা আন্দোলন 2

@kutaand2Public Channel

স্বাধীনতাকামী ছাত্র জনতা। শহীদের অস্ত্র বহন করো

রাজনীতিবাংলাভারত

300

Last views

1.2k (1,176 subscribers)
সদস্য
—
Rating
10
Total Posts
Oct 16, 2026, 5:43 AM
আপডেট হয়েছে
Apr 13, 2026
Created
Stats

আপনি বাংলায় বিষয়বস্তু দেখছেন। অন্যান্য ভাষায় বিষয়বস্তু দেখতে সাইটের ভাষা পরিবর্তন করুন।

Channel Information

Channel Information
Channel Nameকোটা আন্দোলন 2
Username@kutaand2
Categoryরাজনীতি
Languageবাংলা
Countryভারত
সদস্য1,176
Channel TypePublic Channel
Created১৩ এপ্রি, ২০২৬
Last Updated১৬ অক্টো, ২০২৬ • ৭ দিন আগে
StatusActive

র্যাঙ্কিং

বিশ্বব্যাপী র্যাঙ্কিং
#271938-152
ভাষার র্যাঙ্কিং
#623-5
ক্যাটাগরির র্যাঙ্কিং
#6267-2

অংশগ্রহণকারীদের বৃদ্ধি

মোট: 1.2K30 Days growth: -100.8%
09/1709/2209/2710/0210/0710/1210/16
অংশগ্রহণকারীদের বৃদ্ধি - 30 Days
DateSubscribers
17:09:20261,186
18:09:20261,179
19:09:20261,179
20:09:20261,179
21:09:20261,179
22:09:20261,179
23:09:20261,179
24:09:20261,179
25:09:20261,179
26:09:20261,179
27:09:20261,179
28:09:20261,179
29:09:20261,179
30:09:20261,179
01:10:20261,179
02:10:20261,179
03:10:20261,179
04:10:20261,179
05:10:20261,179
06:10:20261,179
07:10:20261,179
08:10:20261,179
09:10:20261,179
10:10:20261,179
11:10:20261,179
12:10:20261,179
13:10:20261,179
14:10:20261,179
15:10:20261,179
16:10:20261,176
অংশগ্রহণকারীদের বৃদ্ধি - Weekly
DateSubscribers
Week of 13:04:20261,285
Week of 20:04:20261,285
Week of 27:04:20261,264
Week of 04:05:20261,264
Week of 11:05:20261,264
Week of 18:05:20261,251
Week of 25:05:20261,251
Week of 01:06:20261,251
Week of 08:06:20261,251
Week of 15:06:20261,251
Week of 22:06:20261,251
Week of 29:06:20261,219
Week of 06:07:20261,219
Week of 13:07:20261,219
Week of 20:07:20261,219
Week of 27:07:20261,219
Week of 03:08:20261,219
Week of 10:08:20261,219
Week of 17:08:20261,199
Week of 24:08:20261,199
Week of 31:08:20261,194
Week of 07:09:20261,186
Week of 14:09:20261,179
Week of 21:09:20261,179
Week of 28:09:20261,179
Week of 05:10:20261,179
Week of 12:10:20261,176
অংশগ্রহণকারীদের বৃদ্ধি - Monthly
DateSubscribers
April 20261,285
May 20261,251
June 20261,251
July 20261,219
August 20261,194
September 20261,179
October 20261,176
অংশগ্রহণকারীদের বৃদ্ধি - Yearly
DateSubscribers
20261,176

Top 10 posts

Most viewed posts from this channel

By views
  1. #1একদিন আমাদের হাতে এক চিঠি আসে। সেটি পড়ার পর অন্তরটা যেন দুমড়ে-মুচড়ে যা300
  2. #2এখানে উল্লেখযোগ্য আরেকটি বিষয় হলো, এই প্রোপ্যাগান্ডা চালানোয় অন্যতম ভূ286
  3. #3– মিসর, সৌদি আরব, ইরাক, জর্ডান, ফিলিপাইন এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো বিভিন্ন270
  4. #4”اے امریکہ اور اس کے اتحادیو! سن لو! کہ ہم امتِ محمد ﷺ اللہ کے سوا کسی261
  5. #5মুসলিমদের বিরুদ্ধে সংঘাতের এই ইতিহাস ১১ সেপ্টেম্বর শুরু হয়নি201
  6. #6Post #607163
  7. #7৯/১১ অভিযান: যে আলোচনা প্রতিষ্ঠিত হওয়া জরুরী154
  8. #8Post #609151
  9. #9এই অঞ্চলগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মুসলমানদেরকে বন্দী, নির্যাতন, হত্য145
  10. #10Post #612106

সাম্প্রতিক পোস্ট

কোটা আন্দোলন 2 logo
কোটা আন্দোলন 2

০৬ সেপ, ২০২৬, ০৬:২২

Photo
একদিন আমাদের হাতে এক চিঠি আসে। সেটি পড়ার পর অন্তরটা যেন দুমড়ে-মুচড়ে যায়, হৃদয়জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে অদ্ভুত এক হাহাকার।

সেই চিঠি পাওয়ার পর আজ কয়েক বছর পেরিয়ে গেল। অবশেষে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, চিঠিটি আপনাদের সাথে শেয়ার করব।

চিঠিটি আগামীকাল রাত ৮টায় উম্মাহ নিউজ টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশ করা হবে, ইনশাআল্লাহ। সবাই এখনই দ্রুত উম্মাহ নিউজ টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে নিন।

টেলিগ্রাম এপের সার্চবার এ নিচের ইউজার নেইমটি টাইপ করুনঃ

https://t.me/ummaahnews

অথবা নিচের লিংকে ক্লিক করে যুক্ত হয়ে নিনঃ
https://t.me/ummaahnews
300000
কোটা আন্দোলন 2 logo
কোটা আন্দোলন 2

০৬ সেপ, ২০২৬, ০৬:২২

– মিসর, সৌদি আরব, ইরাক, জর্ডান, ফিলিপাইন এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো বিভিন্ন অঞ্চলে যখন মুসলিমদের উপর স্বৈরশাসকদের জুলুম নির্যাতন চলছিল, তখন এই সরকারগুলোর অবস্থান মজবুত করতে তাদেরকে সমর্থন দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সেই বছরগুলিতেও ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনা ঘটেনি। উদাহরণ স্বরূপ, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মিশরে আনোয়ার সাদাত এবং হোসনি মুবারকের মতো স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার প্রতি সমর্থন ১৯৭০ থেকে ২০০০ এর দশকের গোড়ার দিক পর্যন্ত অব্যাহত রেখেছিল, ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনা তখনও অনেক বছর দূরে ছিল।
এই অঞ্চলগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মুসলমানদেরকে বন্দী, নির্যাতন, হত্যা, নির্বাসন এবং তাদের সাথে অকল্পনীয় আচরণ করার ক্ষেত্রে এই শাসনব্যবস্থাকে সমর্থন ও শক্তি জুগিয়েছিল। ১১ সেপ্টেম্বরের অভিযান যারা পরিচালনা করেছিলেন, তারা তখনও জন্মগ্রহণ করেনি।

– মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন ৯০-এর দশকে বসনিয়ায় মুসলিম স্বেচ্ছাসেবকদের বিরুদ্ধে অপহরণ, মৃত্যুদণ্ড, নির্বাসন এবং বন্দী করার মিশন চালিয়েছে, ১১ সেপ্টেম্বর কোন অস্তিত্ব তখন ছিল না।
সেপ্টেম্বরের ঘটনাগুলি ১৯৯৩ সাল থেকেও অনেক বছর দূরে ছিল, যখন আমেরিকান সৈন্যরা সোমালিয়ায় প্রবেশ করেছিল, হাজার হাজার মুসলমানকে হত্যা করেছিল এবং তারপর অপমানিত হয়ে পালিয়েও গিয়েছিল।

– যখন একই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৯৬-এর পর আফগানিস্তান সরকারের সর্বোচ্চ নেতা ও এর কর্মকর্তাদের অবস্থানে বোমাবর্ষণ করছিল, বিদ্রোহীদের সহায়তা করছিল, এবং ১৯৯০-এর দশকে ইরাকে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বোমাবর্ষণ করে লক্ষ লক্ষ মানুষ ক্ষুধায় ও রোগে ভুগিয়ে হত্যা করছিল, ১১ সেপ্টেম্বর তখনও ঘটেনি।

– যদি আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমের বাইরে আরেকটু বিস্তৃত হই… তাহলে দেখা যাবে, ইংল্যান্ড আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যে, ফ্রান্স আলজেরিয়া এবং আফ্রিকার বাকি অংশে, রাশিয়া ককেশাসে এবং পূর্ব তুর্কিস্তানে চীন মুসলমানদের প্রতি শত্রুতা ও তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে, তখনও কোন ‘১১ সেপ্টেম্বর’ ছিল না।

এই উদাহরণগুলোর তালিকা আরও দীর্ঘায়িত করার সুযোগ ছিল। তবে এই পর্যন্ত আমাদের আলোচনার ব্যাখ্যায় যে দৃষ্টান্তগুলো এসেছে, আশা করা যায় সেগুলো সচেতন মুসলিম ও বিবেকবান বিশ্ববাসির উপর থেকে মার্কিন প্রোপ্যাগান্ডার প্রভাব দূর করতে যথেষ্ট হবে ইনশাআল্লাহ্‌।

সংক্ষেপে, ইসলামি বিশ্ব ও মুসলমানদের প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং ইসলামের অন্যান্য শত্রুদের বিদ্বেষের কারণ ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনা ছিল না। এই বিদ্বেষ হক্কের প্রতি বাতিলের চিরায়ত বিদ্বেষ, এই বিদ্বেষ রব্বে কারিম প্রদত্ত আসমানি মতবাদের প্রতি মনগড়া কল্পনাপ্রসূত মতবাদের বিদ্বেষ।

ইসলাম এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে অবিশ্বাসীদের এই শত্রুতা পরিচালিত হয়ে আসছে ১১ সেপ্টেম্বরের বহু শতাব্দী আগে থেকেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার প্রক্সিরা, যারা ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনার আগে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সহিংস বৈরিতা প্রদর্শন করেছিল এবং লক্ষ লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছিল, তারা ৯/১১ না ঘটলেও এটি চালিয়ে যেত, বরং এটি আরও গভীর পৌঁছাতো।

১১ই সেপ্টেম্বরের আগে আমেরিকার বিদ্বেষ, আগ্রাসন ও শত্রুতা ১১ সেপ্টেম্বরের পরের ঘৃণা, আগ্রাসন ও শত্রুতার চেয়ে কম ছিল না। উদাহরণস্বরূপ, ইরাকের বিরুদ্ধে ১৯৯০ সালে শুরু হওয়া নিষেধাজ্ঞার কারণে লক্ষ লক্ষ ইরাকি রোগ ও অপুষ্টিতে মারা গিয়েছিল। বিশ্ব এর আগে কখনও এমন নিষেধাজ্ঞা দেখেনি। ঘটে যাওয়া অসংখ্য ঘটনার মাঝে এটি মাত্র একটি উদাহরণ।

যদি আমরা ইতিহাসের দৃষ্টিকোণ থেকে ১১ সেপ্টেম্বরের ভূমিকা মূল্যায়ন করি, তবে আমরা এই ঘটনাকে ১০৭১-এর মানজিকার্ট, ১১৮৭-এর জেরুজালেম বিজয়, ১৪৫৩-তে ইস্তাম্বুল বিজয়ের মতো ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোর সাথে তুলনা করতে পারি। কেননা এর প্রত্যাকটিই মানব ইতিহাসে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটিয়েছে, জালিমদের বিরুদ্ধে নিপিড়ীত জনতাকে ঘুরে দাঁড়াবার সাহস জুগিয়েছে। হারানো ভূমি পুনরুদ্ধারে ঘুমন্ত শার্দূলদের জাগ্রত করেছে। মুসলিমদেরকে কাফেরদের প্রতিটি ক্রিয়ার প্রতিক্রিয়া জানানোর হিম্মত জুগিয়েছে। পরিশেষে, বিশ্বপরাশক্তির লেবাসধারী জালেমদের কবর খুঁড়েছে।

সুতরাং, গ্লোবাল নর্থ, ওয়েস্টার্ন ব্লক, ক্রুসেডার ওয়ার্ল্ড বা পশ্চিম ইউরোপ… আমরা যে নামেই বলি না কেন, ইসলাম এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিশ্বের এই শক্তিগুলোর মনস্তাত্ত্বিক ও সামরিক যুদ্ধ ১০০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসছে। তাই এটি বলা ঠিক হবে না যে, ইসলামি বিশ্বের বিরুদ্ধে এই আগ্রাসনের ইতিহাস ১১ সেপ্টেম্বর, ২০০১-এ শুরু হয়েছে, কিংবা ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনার কারণে মুসলিমরা আজ বিশ্বব্যাপি করুণ পরিণতি বরণ করছে। বরং, এটা তো ছিল মুসলিমদের বেহাল দশার শেষের শুরু, রাতের গভীর অমানিসার শেষপ্রান্তে দিগন্ত চিঁরে উন্মেষ ঘটা এক চিলতে আলো।

মানবতার দুশমনদের জুলুমের প্রদীপ নিভে যাওয়ার আগে দপ করে জ্বলে উঠার গোঙানি-আস্ফালন আর আমাদের ভীত না করুক।
270000
কোটা আন্দোলন 2 logo
কোটা আন্দোলন 2

০৬ সেপ, ২০২৬, ০৬:২২

মুসলিমদের বিরুদ্ধে সংঘাতের এই ইতিহাস ১১ সেপ্টেম্বর শুরু হয়নি

-ত্বহা আলী আদনান
Al Firdaus news
এটা সত্য যে ১১ সেপ্টেম্বর, ২০০১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার এবং ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ ডিফেন্সে (পেন্টাগন) আল-কায়েদার ঐতিহাসিক আক্রমণ সাম্প্রতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়।

সর্বোপরি, আমরা ইতিমধ্যেই ৯/১১-পরবর্তী বিশ্বে বাস করছি। যদিও আমরা এখন আর সরাসরি ১১ সেপ্টেম্বরের প্রভাব অনুভব করি না। তথাপি এই আক্রমণ ও এর ফলাফল বিশ্ব ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। কেননা এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হৃদপিণ্ডে পরিচালিত এমন এক আঘাত ছিলো, যা রাজনৈতিক, সামাজিক এবং সামরিক অঙ্গনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সৃষ্টি করেছে।

তাই এই প্রবন্ধে বিষয়টি নিয়ে লিখা ও বলার পরিবর্তে নতুন বিষয়ে কথা বলা প্রয়োজন বলে মনে করি। কারণ এখন পর্যন্ত গত ২২ বছরে যা বলা যায় প্রায় সবই বলা হয়ে গেছে, হয়তো আরও বলা হবে। এই আক্রমণের এতোবছর পরেও এখনো একটি বিষয় মানুষকে জোরেশোরে গেলানোর চেষ্টা করা হচ্ছে যে, ৯/১১-এর প্রেক্ষিতেই বিশ্বব্যাপী মুসলিমদের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালানো শুরু হয়েছে।
মোদ্দা কথা হল, অনেকেই এখনো এমন ধারণা পোষণ করেন, যেন হক্কের সাথে বাতিলের সংঘাত ১১ সেপ্টেম্বর, ২০০১ থেকে শুরু হয়েছিল। শুধু সাধারণ মানুষই নন, বরং কলমধারী ও পদধারীদের মধ্যেও অনেকই আছেন, যারা ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনাগুলিকে দূরদৃষ্টি দিয়ে বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে তারা ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় এখনো মার্কিনী ও শিয়াদের ছড়ানো এই ধ্যান-ধারণায় প্রভাবিত হয়ে চলেছেন যে, ৯/১১ হামলাই মার্কিন নেতৃত্বাধীন জায়নবাদি জোটকে মুসলিম বিশ্বে আগ্রাসন চালানোর সুযোগ করে দিয়েছে।

১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনাগুলি ইতিহাসের একটি বিন্দু, অবশ্যই এর গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না। আমাদেরকে এসব ঘটনাকে কারণ হিসেবে না দেখে ফলাফল হিসেবে দেখা উচিত।
আমাদের বিশ্বাস, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০০১ তারিখে ইতিহাস শুরুও হয়নি এবং সেদিনের ঘটনাপ্রবাহ এখনো চূড়ান্ত রূপও নেয়নি। বরং ১১ সেপ্টেম্বরে সংঘটিত ঘটনাগুলি লক্ষ লক্ষ ঘটনার মাঝে ইতিহাসের একটি ছোট অংশ মাত্র। আর এই ধরনের ঘটনাগুলো জনগণের কুসংস্কার, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি, ধর্মীয় উপলব্ধি, রাজনীতি এবং মানবতার ইতিহাসে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটায়।

পরিস্থিতির বোধগম্যতা বৃদ্ধিকল্পে আমরা কিছু উদাহরণ পেশ করা সমীচীন মনে করছি।

ইতিহাস ১১ সেপ্টেম্বর শুরু হয়নি
– ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে ইউরোপীয়দের কুসংস্কার ও যুদ্ধ ১১ সেপ্টেম্বরের বহু শতাব্দী আগে শুরু হয়েছে। তুর্কিরা যখন আনাতোলিয়া থেকে বাইজেন্টিয়ানদের বিতাড়িত করেছিল এবং ১৪৫৩ সালে ইস্তাম্বুলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল, তখন সময়টি ছিলো ১১ সেপ্টেম্বরের ৬ শতাব্দী আগে। একইভাবে, যে বছরগুলিতে আরবরা স্পেন থেকে ফ্রান্সে আক্রমণ করেছিল সেগুলিও ১১ সেপ্টেম্বরের ১৩ শতাব্দী আগের।

এই সময়ে ইউরোপে ইসলামের প্রতি নেতিবাচক চিন্তাধারা ও শত্রুতা শুরু হয়। যে বছরগুলিতে আন্দালুসিয়ার পতন হয়েছিল, তখন ইউরোপীয়রা লক্ষ লক্ষ মুসলমানকে নির্যাতন ও হত্যা করে। এটিও ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনাগুলির প্রায় ৭ শতাব্দী আগে ঘটেছিল।

– ইসলামী বিশ্বে আক্রমন করা, ইসলামের সঠিক ব্যাখ্যাকে বিকৃত করা এবং ইসলামী বিশ্বে পুতুল শাসন প্রতিষ্ঠার চিন্তাও ১১ সেপ্টেম্বর, ২০০১ এর প্রায় ২ শতাব্দী আগে শুরু হয়েছিল। মুসলমানদের শেষ স্বাধীন ভূমি ১৯০০ এর দশকের গোড়ার দিকে দখল করা হয়েছিল। এই বছরগুলিতে পতন হয়েছিল খিলাফতের কেন্দ্র ইস্তাম্বুলের। এই বছরগুলিতেই পশ্চিমাদের হাতে ইসলামি ভূমিগুলি বিভক্ত হয়েছিল; ১১ সেপ্টেম্বরের এক শতাব্দী আগে।

– পশ্চিমারা ১১ সেপ্টেম্বরের প্রায় দেড় শতাব্দী আগে, ১৯ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ইসলামী বিশ্বের কেন্দ্রস্থলে একটি কৃত্রিম ইহুদি রাষ্ট্র গড়ার পরিকল্পনা শুরু করে। আর ১১ সেপ্টেম্বরের এক শতাব্দী আগে, ১৯১৭ সালে ব্রিটিশদের দ্বারা প্যালেস্টাইন দখলের সাথে এই পরিকল্পনাগুলি কংক্রিট হয়ে ওঠে। বেলফোর ঘোষণার মাধ্যমে ব্রিটিশরা ইহুদিদের ফিলিস্তিন দিয়েছিল এবং এই অঞ্চল থেকে মুসলমানদের সম্পূর্ণরূপে বিতাড়িত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছিল, সেই ঘটনাও ১১ সেপ্টেম্বরের ৮৪ বছর আগে। এমনিভাবে ইসরায়েল রাষ্ট্রটি ১১ সেপ্টেম্বরের ৫৩ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এখানে মুসলমানদের গণহত্যা শুরু করা হয়েছিল।

– মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটিশদের কাছ থেকে মধ্যপ্রাচ্য দখল করা শুরু করে ১৯৫০-এর দশকে। সেই সাথে ১১ সেপ্টেম্বরের ৫০ বছর আগে থেকেই এই অঞ্চলে কৃত্রিম শাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। আর মুসলিমদের নিপীড়নকারী এই সরকারগুলোকে পুরোপুরি সমর্থন দিতে থাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
একইভাবে, যখন ১১ সেপ্টেম্বর ঘটেনি, তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র লেবাননে ১৯৫৮ সালের গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে। পরবর্তী বছরগুলিতে এটি ইসরায়েলের এক নম্বর বিদেশী সমর্থক ও গণহত্যার পৃষ্ঠপোষক হয়ে ওঠে; ৯/১১-এর অনেক আগেই।
201000
কোটা আন্দোলন 2 logo
কোটা আন্দোলন 2

০৬ সেপ, ২০২৬, ০৬:২২

এখানে উল্লেখযোগ্য আরেকটি বিষয় হলো, এই প্রোপ্যাগান্ডা চালানোয় অন্যতম ভূমিকা পালন করেছে ইরান নেতৃত্বাধীন শিয়া রাফেজিরা। তারা নিজেদেরকে অ্যামেরিকা ও পশ্চিমাবিরোধী প্রমাণ করতে এই বলে জোরালো প্রচার চালিয়েছে যে, ৯/১১ অ্যামেরিকা নিজেই ঘটিয়েছে, আর আল-কায়েদা তালিবান সবাই অ্যামেরিকার সৃষ্টি!
আর এই প্রচারণায় তাদের সাথে তাল মিলিয়েছে চীন-রাশিয়া ব্লক।

আরব শাসক ও মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের শাসকদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ইরানের নেতৃত্বে শিয়া রাফেজিরা একমাত্র নিজেদেরকেই খাঁটি মুসলিম ও উম্মাহর কল্যাণকামী হিসেবে দাবি ও প্রচার করে। সাধারণ মুসলিমদের অনেকেই আবার ইরানের অ্যামেরিকা-ইসরাইল বিরোধি নানান মুখরোচক কথা-বার্তার কারণে তাদেরকে মুসলিম বিশ্বের ত্রানকর্তা ভেবে বসে।

কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, ৯/১১ পরবর্তী সময়ে অ্যামেরিকার কথিত ‘ওয়ার অন টেররে’র ময়দানে ইরানের অংশগ্রহণ ছিল সরাসরি ও স্পষ্ট। তারা অ্যামেরিকার সাথে মিলে আফগানিস্তানের মাটিতে আগ্রাসন চালিয়েছে, লড়াই করেছে ন্যাটো ও পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত তালিবান মুজাহিদিনের বিরুদ্ধে। ইরাকে অ্যামেরিকার আক্রমণের পর সেখানে শিয়ারা ক্ষমতার মসনদে আসিন হয়েছে; আহলুস সুন্নাহর অনুসারী মুসলিমদের উপর চালিয়েছে বর্বরতম নির্যাতন। ইয়েমেন ও সিরিয়াতেও তারা মুসলিমদের রক্ত ঝরিয়ে যাচ্ছে ক্রমাগত।
আর ইয়েমেনের চতুর্দিকে অ্যামেরিকার ঘাঁটি থাকলেও, সেখানে তারা ইরান সমর্থিত শিয়া হুথি বাহিনীর উপর একটি আক্রমণও চালায়নি; সিরিয়াতেও না।

৯/১১ ও তৎপরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ আমাদের সামনে অ্যামেরিকা-ইসরাইল নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা বিশ্বের সাথে ইরান নেতৃত্বাধীন শিয়া রাফেজিদের গোপন আঁতাতের বিষয়টি কিছুটা স্পষ্ট করে দিয়েছে।

বাস্তবতা হচ্ছে, ইরান মুখে পশ্চিমাবিরোধী কথা বললেও, অ্যামেরিকা মুসলিম বিশ্বের যত জায়গায় হস্তক্ষেপ করেছে, ইরান তথা শিয়া রাফেজিরা ততো জায়গাতেই শক্তিশালী হয়েছে। ইরাক, সিরিয়া ও ইয়েমেন তার জলন্ত দৃষ্টান্ত।

কয়েক মাস আগে ইরান-আফগান সীমান্তে উত্তেজনার সময় সিনিয়র তালিবান কমান্ডার আব্দুল হামিদ খোরাসানি নির্দেশ পেলে চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে ইরান দখলের হুমকি দিয়েছিলেন। পাশাপাশি তিনি এও বলেছেন যে, “ইরান দেখাচ্ছে পশ্চিমাদের সাথে তাদের সম্পর্ক খারাপ। বাস্তবতা হচ্ছে, পশ্চিমাদের সঙ্গে জোট বেধেছে তারা।…”
তাঁর কথাতেও ৯/১১ পরবর্তী পরিক্রমায় পশ্চিমাদের সঙ্গে ইরানের আঁতাতের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

মূলত, ৯/১১ এর ঘটনা ইহুদি-খ্রিস্টান নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থার মূলে আঘাত করে বহুপাক্ষিক বিশ্বব্যবস্থার দ্বার উন্মোচন করে দিয়েছিল। মুসলিম বিশ্ব এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে এবং শত্রু-মিত্র চিনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারলে, হারানো নেতৃত্ব ফিরে পাওয়াটা কেবল সময়ের ব্যাপার। ভবিষ্যৎ ঘটনাপ্রবাহে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখা প্রতিটি মুসলিমের জন্য জরুরী, অবশ্যই কোরআন-হাদিস এবং জ্ঞানীদের জ্ঞানের আলোকে। এটিও ৯/১১ এর তাৎপর্যপূর্ণ আহ্বানসমূহের মধ্যে অন্যতম।



তথ্যসূত্র:

1. 9/11 was an inside job – Iran president
– https://tinyurl.com/ywe2v8vb
2. Debunking Paranoia: ‘9/11 was not an inside job’
– https://tinyurl.com/22dvf3m5
3. বিশ্ব মানচিত্র থেকে ইরানকে মুছে ফেলার হুমকি তালেবানের | Taliban |
– https://www.youtube.com/watch?v=CLW3IWlEk8w
4. ৯/১১ অভিযান : জিহাদি মেরুকরণের শক্তিশালী অনুঘটক
– https://tinyurl.com/bddd9va9
Video Thumbnail
286000
কোটা আন্দোলন 2 logo
কোটা আন্দোলন 2

০৬ সেপ, ২০২৬, ০৬:২২

৯/১১ অভিযান: যে আলোচনা প্রতিষ্ঠিত হওয়া জরুরী

-আব্দুল্লাহ্‌ বিন নজর
Al Firdaus news
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর অ্যামেরিকার অর্থনৈতিক (টুইন টাওয়ার), সামরিক(পেন্টাগন) ও রাজনৈতিকভাবে (ক্যাপিটাল হিল) সবচাইতে গুরত্বপূর্ণ ৩টি অবস্থান লক্ষ্য করে একযোগে আক্রমণ চালায় আল-কায়েদা। আর এই হামলার ফাঁদে ফেলেই অ্যামেরিকাকে আফগানের উত্তপ্ত রণাঙ্গনে, ইরাকের মরু প্রান্তরে ও আফ্রিকার দুই প্রান্তে এবং ইয়েমেনে আটকে তাদের শক্তিকে বিক্ষিপ্ত করে ফেলা হয়; ফলশ্রুতিতে অ্যামেরিকা আজ একক বিশ্বমোড়লের পদবি হারানোর দ্বারপ্রান্তে।

আজ আমরা এই আক্রমণের বিরুদ্ধে ইহুদি-খ্রিস্টান মিলিত শক্তির ছড়ানো প্রোপ্যাগান্ডার বিশেষ কয়েকটি দিকের উপর আলোকপাত করবো ইনশাআল্লাহ্; ঘটনাচক্রে যে দিকটি থেকে যাচ্ছে অনেকটা আড়ালেই।

মুসলিমবিরোধী ও অভিযানবিরোধী প্রোপ্যাগান্ডা
৯/১১ অভিযানের আগে ধূর্ত অ্যামেরিকা মুসলিমদের সাথে স্ব-শরীরে যুদ্ধের ময়দানে তেমনভাবে না আসলেও, পরোক্ষভাবে সে প্রতিটি মুসলিম রাষ্ট্রে পরিচালিত হত্যাযজ্ঞের নেতৃত্ব দিয়েছে; যার শিকার হয়েছে ফিলিস্তিন, ইয়েমেন, ইরাক, সুদান, লিবিয়া, সোমালিয়া, চেচনিয়া, বসনিয়াসহ বিশ্বের বহু মুসলিম দেশ। এতোগুলি রাষ্ট্রে আগ্রাসন চালানোর পরেও অ্যামেরিকা বিশ্ববাসীর কাছে ছিলো ‘মানবতাবাদী ও জনদরদী’।

কিন্তু এই অভিযানের পর অ্যামেরিকার কথিত মানবতাবাদী মুখোশ ধীরে ধীরে খসে পরতে শুরু করে। তবে এটা ঠেকাতে প্রোপ্যাগান্ডা ও মিডিয়া আগ্রাসন চালানোর ক্ষেত্রে কোন কমতি করেনি অ্যামেরিকা। অ্যামেরিকার কথিত থিংকট্যাঙ্ক র‍্যান্ড-এর বিভিন্ন নথি ফাঁস হওয়ার পর এসব প্রোপ্যাগান্ডা-ষড়যন্ত্রের অনেক অজানা বিষয় উঠে আসে বিশ্ববাসির সামনে।

ইতিমধ্যে ৯/১১ অভিযান নিয়ে উত্থাপিত প্রায় সকল অভিযোগের জবাবই দিয়েছেন হক্কানি উলামায়ে কেরাম ও মুজাহিদ উমারাগণ। তবে বহুল চর্চিত বিষয়গুলোর মধ্যেই কিছু বিষয় ঢাকা পরে যায় স্মৃতির আড়ালে; ইতিহাসের পালাবদলের সন্ধিক্ষণে যেগুলোর চর্চা জারি থাকা ও বিষয়গুলো প্রতিষ্ঠিত হওয়া জরুরী।

বিশ্বমিডিয়া যেহেতু ইহুদি-খ্রিস্টান জোটের নিয়ন্ত্রণে, এবং পৃথিবীর বেশিরভাগ প্রভাবশালী মিডিয়া আউটলেটের মালিকানায় সরাসরি ইহুদিরা রয়েছে, তাই তারা সাধ্যের সবটুকু দিয়েই মুসলিমদের কোণঠাসা করতে তাদের মিডিয়াযন্ত্রের ব্যবহার করেছে।

৯/১১ হামলায় নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে জায়নবাদী অ্যামেরিকা ইসলামের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা পর্যন্ত বদলে দিতে চেষ্টা চালিয়েছে। ইসলাম অর্থ ‘শান্তি’ আর ইসলামকে তাদের সংজ্ঞানুযায়ী শান্তির ধর্ম আখ্যা দিয়ে তারা মুসলিমদেরকে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করেছে। মুজাহিদদেরকে কলঙ্কিত করতে এবং তাঁদেরকে মুসলিম উম্মাহ থেকে বিচ্ছিন্ন করতেও তারা চেষ্টার কোন ত্রুটি করেনি। আর একারণেই তারা নিজেদের সামরিক সদর দফতর পেন্টাগনে হামলার বিষয়টিকে আড়াল করতে বাণিজ্যিক কেন্দ্র টুইন টাওয়ারে হামলার বিষয়টিকে প্রচারনার পাদপ্রদীপে নিয়ে আসে। মুসলিম ভূমিগুলোতে পশ্চিমাপন্থী দুর্নীতিবাজ শাসকদের বিরুদ্ধে পরিচালিত জিহাদকে কলঙ্কিত করতে তারা কখনো কখনো বেসামরিক মুসলিমদের উপর হামলা চালিয়ে মুজাহিদদের উপর দোষ চাপিয়েছে- এমন অসংখ্য প্রমাণও বিদ্যমান।

৯/১১ পরবর্তী সময়ে অ্যামেরিকার অন্যতম সফল একটি প্রোপ্যাগান্ডা ছিল এই যে, ইহুদি নিয়ন্ত্রিত বিশ্বমিডিয়া এটা প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে যে, এই আক্রমণ আসলে বৈশ্বিক ইসলামি প্রতিরোধ বাহিনী আল-কায়েদা চালায়নি। ‘মুসলিমরা দোর্দণ্ড প্রতাপশালী অ্যামেরিকার মাটিতে আক্রমণ করার সামর্থ্য রাখে না’ – এমন বিশ্বাস প্রতিষ্ঠা করার জন্য তারা এই বলে গুজব রটিয়েছে যে, এই হামলা বুশ নিজেই করিয়েছে! যুগ যুগ ধরে অমুসলিমদের শাসনাধীনে থাকা মুসলিম উম্মাহর উপর জেঁকে বসা পরাজিত মানসিকতার সুযোগ তারা ভালভাবেই কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছে।

তাদের এই প্রচারণাটি এতই প্রভাব সৃষ্টিকারী ছিল যে, এমনকি খ্যাতনামা অনেক মুসলিম স্কলার পর্যন্ত এই প্রচারণায় জড়িয়ে পড়েছে। কোন বিমান কোন দিক দিয়ে হামলা করেছে, কোন বিল্ডিং কোন দিকে হেলে পড়েছে, ইঞ্জিনিয়াররা কি বলছে – ইত্যাদি নানা যুক্তি-পাল্টাযুক্তি দেখিয় তারা প্রমান করার চেষ্টা করেছেন যে, মুসলিমরা এই হামলা করে নি, বরং এটা বুশ নিজেই আভ্যন্তরীণভাবে করিয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ঘটনার সম্পর্কে নীরব থাকলেও, আল-কায়েদা নেতৃত্ব পরবর্তীতে নিজেদের নানান লেখনি ও বার্তায় ইতিহাসের দিক পরিবর্তনকারী এই হামলায় দায় স্বীকার ও নিজেদের জড়িত থাকার তথ্য প্রমাণ পেশ করেছেন।

শিয়ারা কেন এই প্রোপ্যাগান্ডা চালায়?
৯/১১ তথা অপারেশন ম্যানহাটন সম্পর্কে ইহুদি-খ্রিস্টান জোটের প্রোপ্যাগান্ডা চালানোর কারণ সম্পর্কে ইতিমধ্যে আলোচনা এসেছে। মুসলিমদের পরাজিত মানসিকতার মধ্যে জিইয়ে রাখা, জিহাদ ও মুজাহিদদেরকে কলুষিত করার চেষ্টা করা, নিজেদের শক্তিশালী হিসেবে জাহির করা – ইত্যাদি নানা কারণেই তারা বিশেষ এই ধরণের প্রোপ্যাগান্ডা চালিয়েছে।
154000
কোটা আন্দোলন 2 logo
কোটা আন্দোলন 2

০৬ সেপ, ২০২৬, ০৬:২২

Video
”اے امریکہ اور اس کے اتحادیو! سن لو! کہ ہم امتِ محمد ﷺ اللہ کے سوا کسی کے سامنے جھکنے والے نہیں۔ ہم اللہ کی راہ کے مجاہد ہیں، ہم اپنی تنگی و آسانی، غمی و خوشحالی اور زندگی و موت کو نہیں دیکھتے، ہم تو بس اس وحدہ لاشریک کے سوا نہ کسی کے سامنے سر تسلیم خم کرتے ہیں اور نہ ہی ہم اس کے سوا کسی سے ڈرتے ہیں“

فضیلة الشیخ ایمن الظواہری

🔈 https://t.me/MediaWar1_bot
261000
কোটা আন্দোলন 2 logo
কোটা আন্দোলন 2

০৬ সেপ, ২০২৬, ০৬:২২

এই অঞ্চলগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মুসলমানদেরকে বন্দী, নির্যাতন, হত্যা, নির্বাসন এবং তাদের সাথে অকল্পনীয় আচরণ করার ক্ষেত্রে এই শাসনব্যবস্থাকে সমর্থন ও শক্তি জুগিয়েছিল। ১১ সেপ্টেম্বরের অভিযান যারা পরিচালনা করেছিলেন, তারা তখনও জন্মগ্রহণ করেনি।

– মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন ৯০-এর দশকে বসনিয়ায় মুসলিম স্বেচ্ছাসেবকদের বিরুদ্ধে অপহরণ, মৃত্যুদণ্ড, নির্বাসন এবং বন্দী করার মিশন চালিয়েছে, ১১ সেপ্টেম্বর তখনো ঘটে নি।

সেপ্টেম্বরের ঘটনাগুলি ১৯৯৩ সাল থেকেও অনেক বছর দূরে ছিল, যখন আমেরিকান সৈন্যরা সোমালিয়ায় প্রবেশ করেছিল, হাজার হাজার মুসলমানকে হত্যা করেছিল এবং তারপর অপমানিত হয়ে পালিয়েও গিয়েছিল।

– যখন একই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৯৬-এর পর আফগানিস্তান সরকারের সর্বোচ্চ নেতা ও এর কর্মকর্তাদের অবস্থানে বোমাবর্ষণ করছিল, বিদ্রোহীদের সহায়তা করছিল, এবং ১৯৯০-এর দশকে ইরাকে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বোমাবর্ষণ করে লক্ষ লক্ষ মানুষ ক্ষুধায় ও রোগে ভুগিয়ে হত্যা করছিল, ১১ সেপ্টেম্বর তখনও ঘটেনি।

– যদি আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমের বাইরে আরেকটু বিস্তৃত হই… তাহলে দেখা যাবে, ইংল্যান্ড আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যে, ফ্রান্স আলজেরিয়া এবং আফ্রিকার বাকি অংশে, রাশিয়া ককেশাসে এবং পূর্ব তুর্কিস্তানে চীন মুসলমানদের প্রতি শত্রুতা ও তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে, তখনও কোন ‘১১ সেপ্টেম্বর’ ছিল না।

এই উদাহরণগুলোর তালিকা আরও দীর্ঘায়িত করার সুযোগ ছিল। তবে এই পর্যন্ত আমাদের আলোচনার ব্যাখ্যায় যে দৃষ্টান্তগুলো এসেছে, আশা করা যায় সেগুলো সচেতন মুসলিম ও বিবেকবান বিশ্ববাসির উপর থেকে মার্কিন প্রোপ্যাগান্ডার প্রভাব দূর করতে যথেষ্ট হবে ইনশাআল্লাহ্‌।

সংক্ষেপে, ইসলামি বিশ্ব ও মুসলমানদের প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং ইসলামের অন্যান্য শত্রুদের বিদ্বেষের কারণ ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনা ছিল না। এই বিদ্বেষ হক্কের প্রতি বাতিলের চিরায়ত বিদ্বেষ, এই বিদ্বেষ রব্বে কারিম প্রদত্ত আসমানি মতবাদের প্রতি মনগড়া কল্পনাপ্রসূত মতবাদের বিদ্বেষ।

ইসলাম এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে অবিশ্বাসীদের এই শত্রুতা পরিচালিত হয়ে আসছে ১১ সেপ্টেম্বরের বহু শতাব্দী আগে থেকেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার প্রক্সিরা, যারা ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনার আগে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সহিংস বৈরিতা প্রদর্শন করেছিল এবং লক্ষ লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছিল, তারা ৯/১১ না ঘটলেও এটি চালিয়ে যেত, বরং এটি আরও গভীরে পৌঁছাতো।

১১ই সেপ্টেম্বরের আগে আমেরিকার বিদ্বেষ, আগ্রাসন ও শত্রুতা ১১ সেপ্টেম্বরের পরের ঘৃণা, আগ্রাসন ও শত্রুতার চেয়ে কম ছিল না। উদাহরণস্বরূপ, ইরাকের বিরুদ্ধে ১৯৯০ সালে শুরু হওয়া নিষেধাজ্ঞার কারণে লক্ষ লক্ষ ইরাকি রোগ ও অপুষ্টিতে মারা গিয়েছিল। বিশ্ব এর আগে কখনও এমন নিষেধাজ্ঞা দেখেনি। ঘটে যাওয়া অসংখ্য ঘটনার মাঝে এটি মাত্র একটি উদাহরণ।

যদি আমরা ইতিহাসের দৃষ্টিকোণ থেকে ১১ সেপ্টেম্বরের ভূমিকা মূল্যায়ন করি, তবে আমরা এই ঘটনাকে ১০৭১-এর মানজিকার্ট, ১১৮৭-এর জেরুজালেম বিজয়, ১৪৫৩-তে ইস্তাম্বুল বিজয়ের মতো ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোর সাথে তুলনা করতে পারি। কেননা এর প্রত্যাকটিই মানব ইতিহাসে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটিয়েছে, জালিমদের বিরুদ্ধে নিপীড়িত জনতাকে ঘুরে দাঁড়াবার সাহস জুগিয়েছে। হারানো ভূমি পুনরুদ্ধারে ঘুমন্ত শার্দূলদের জাগ্রত করেছে। মুসলিমদেরকে কাফেরদের প্রতিটি ক্রিয়ার প্রতিক্রিয়া জানানোর হিম্মত জুগিয়েছে। পরিশেষে, বিশ্বপরাশক্তির লেবাসধারী জালেমদের কবর খুঁড়েছে।

সুতরাং, গ্লোবাল নর্থ, ওয়েস্টার্ন ব্লক, ক্রুসেডার ওয়ার্ল্ড বা পশ্চিম ইউরোপ… আমরা যে নামেই বলি না কেন, ইসলাম এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিশ্বের এই শক্তিগুলোর মনস্তাত্ত্বিক ও সামরিক যুদ্ধ ১০০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসছে। তাই এটি বলা ঠিক হবে না যে, ইসলামি বিশ্বের বিরুদ্ধে এই আগ্রাসনের ইতিহাস ১১ সেপ্টেম্বর, ২০০১-এ শুরু হয়েছে, কিংবা ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনার কারণে মুসলিমরা আজ বিশ্বব্যাপি করুণ পরিণতি বরণ করছে। বরং, এটা তো ছিল মুসলিমদের বেহাল দশার শেষের শুরু, রাতের গভীর অমানিসার শেষপ্রান্তে দিগন্ত চিঁরে উন্মেষ ঘটা এক চিলতে আলো।

মানবতার দুশমনদের জুলুমের প্রদীপ নিভে যাওয়ার আগে দপ করে জ্বলে উঠার গোঙানি-আস্ফালন আর আমাদের ভীত না করুক।
145000

Showing 10 of 10 posts

রেটিং

লগইন প্রয়োজন

Frequently Asked Questions

কোটা আন্দোলন 2 টেলিগ্রাম চ্যানেল কী বিষয়ে?+

কোটা আন্দোলন 2 (@kutaand2) tgdio-এ রাজনীতি ক্যাটাগরিতে তালিকাভুক্ত একটি টেলিগ্রাম চ্যানেল। র‍্যাঙ্কিং, রেটিং, রিভিউ ও সাম্প্রতিক পোস্ট দেখে সাবস্ক্রাইব করার আগে সিদ্ধান্ত নিন। এখন tgdio-এ প্রায় ১,১৭৬ সাবস্ক্রাইবার আছে।

আমি কীভাবে কোটা আন্দোলন 2 (@kutaand2) জয়েন করব?+

tgdio-এ চ্যানেল প্রোফাইল খুলে Join / Open in Telegram দিয়ে @kutaand2-এ বিনামূল্যে সাবস্ক্রাইব করুন।

কোটা আন্দোলন 2 কি ভালো রাজনীতি চ্যানেল?+

tgdio-এ জয়েনের আগে কোটা আন্দোলন 2-এর রেটিং, রিভিউ, র‍্যাঙ্কিং ও পোস্ট দেখুন। এখন tgdio-এ প্রায় ১,১৭৬ সাবস্ক্রাইবার আছে। একই রাজনীতি চ্যানেলের সাথে তুলনা করুন।

কোটা আন্দোলন 2-এর স্ট্যাটস ও পোস্ট কোথায় দেখব?+

tgdio-এ @kutaand2 পেজ খুলুন — সাবস্ক্রাইবার স্ট্যাটস, র‍্যাঙ্কিং, রেটিং ও পোস্ট। Stats লিঙ্ক দিয়ে গ্রোথ চার্ট দেখুন।