এখানে উল্লেখযোগ্য আরেকটি বিষয় হলো, এই প্রোপ্যাগান্ডা চালানোয় অন্যতম ভূমিকা পালন করেছে ইরান নেতৃত্বাধীন শিয়া রাফেজিরা। তারা নিজেদেরকে অ্যামেরিকা ও পশ্চিমাবিরোধী প্রমাণ করতে এই বলে জোরালো প্রচার চালিয়েছে যে, ৯/১১ অ্যামেরিকা নিজেই ঘটিয়েছে, আর আল-কায়েদা তালিবান সবাই অ্যামেরিকার সৃষ্টি!
আর এই প্রচারণায় তাদের সাথে তাল মিলিয়েছে চীন-রাশিয়া ব্লক।
আরব শাসক ও মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের শাসকদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ইরানের নেতৃত্বে শিয়া রাফেজিরা একমাত্র নিজেদেরকেই খাঁটি মুসলিম ও উম্মাহর কল্যাণকামী হিসেবে দাবি ও প্রচার করে। সাধারণ মুসলিমদের অনেকেই আবার ইরানের অ্যামেরিকা-ইসরাইল বিরোধি নানান মুখরোচক কথা-বার্তার কারণে তাদেরকে মুসলিম বিশ্বের ত্রানকর্তা ভেবে বসে।
কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, ৯/১১ পরবর্তী সময়ে অ্যামেরিকার কথিত ‘ওয়ার অন টেররে’র ময়দানে ইরানের অংশগ্রহণ ছিল সরাসরি ও স্পষ্ট। তারা অ্যামেরিকার সাথে মিলে আফগানিস্তানের মাটিতে আগ্রাসন চালিয়েছে, লড়াই করেছে ন্যাটো ও পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত তালিবান মুজাহিদিনের বিরুদ্ধে। ইরাকে অ্যামেরিকার আক্রমণের পর সেখানে শিয়ারা ক্ষমতার মসনদে আসিন হয়েছে; আহলুস সুন্নাহর অনুসারী মুসলিমদের উপর চালিয়েছে বর্বরতম নির্যাতন। ইয়েমেন ও সিরিয়াতেও তারা মুসলিমদের রক্ত ঝরিয়ে যাচ্ছে ক্রমাগত।
আর ইয়েমেনের চতুর্দিকে অ্যামেরিকার ঘাঁটি থাকলেও, সেখানে তারা ইরান সমর্থিত শিয়া হুথি বাহিনীর উপর একটি আক্রমণও চালায়নি; সিরিয়াতেও না।
৯/১১ ও তৎপরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ আমাদের সামনে অ্যামেরিকা-ইসরাইল নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা বিশ্বের সাথে ইরান নেতৃত্বাধীন শিয়া রাফেজিদের গোপন আঁতাতের বিষয়টি কিছুটা স্পষ্ট করে দিয়েছে।
বাস্তবতা হচ্ছে, ইরান মুখে পশ্চিমাবিরোধী কথা বললেও, অ্যামেরিকা মুসলিম বিশ্বের যত জায়গায় হস্তক্ষেপ করেছে, ইরান তথা শিয়া রাফেজিরা ততো জায়গাতেই শক্তিশালী হয়েছে। ইরাক, সিরিয়া ও ইয়েমেন তার জলন্ত দৃষ্টান্ত।
কয়েক মাস আগে ইরান-আফগান সীমান্তে উত্তেজনার সময় সিনিয়র তালিবান কমান্ডার আব্দুল হামিদ খোরাসানি নির্দেশ পেলে চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে ইরান দখলের হুমকি দিয়েছিলেন। পাশাপাশি তিনি এও বলেছেন যে, “ইরান দেখাচ্ছে পশ্চিমাদের সাথে তাদের সম্পর্ক খারাপ। বাস্তবতা হচ্ছে, পশ্চিমাদের সঙ্গে জোট বেধেছে তারা।…”
তাঁর কথাতেও ৯/১১ পরবর্তী পরিক্রমায় পশ্চিমাদের সঙ্গে ইরানের আঁতাতের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
মূলত, ৯/১১ এর ঘটনা ইহুদি-খ্রিস্টান নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থার মূলে আঘাত করে বহুপাক্ষিক বিশ্বব্যবস্থার দ্বার উন্মোচন করে দিয়েছিল। মুসলিম বিশ্ব এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে এবং শত্রু-মিত্র চিনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারলে, হারানো নেতৃত্ব ফিরে পাওয়াটা কেবল সময়ের ব্যাপার। ভবিষ্যৎ ঘটনাপ্রবাহে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখা প্রতিটি মুসলিমের জন্য জরুরী, অবশ্যই কোরআন-হাদিস এবং জ্ঞানীদের জ্ঞানের আলোকে। এটিও ৯/১১ এর তাৎপর্যপূর্ণ আহ্বানসমূহের মধ্যে অন্যতম।
তথ্যসূত্র:
1. 9/11 was an inside job – Iran president
–
https://tinyurl.com/ywe2v8vb2. Debunking Paranoia: ‘9/11 was not an inside job’
–
https://tinyurl.com/22dvf3m53. বিশ্ব মানচিত্র থেকে ইরানকে মুছে ফেলার হুমকি তালেবানের | Taliban |
–
https://www.youtube.com/watch?v=CLW3IWlEk8w4. ৯/১১ অভিযান : জিহাদি মেরুকরণের শক্তিশালী অনুঘটক
–
https://tinyurl.com/bddd9va9