মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা ও কূটনীতিক সরানোর খবর, অস্বীকার ওয়াশিংটনের
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাসদস্য সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে এনবিসি নিউজ। একই সময়ে অঞ্চলটির কয়েকটি দেশে মার্কিন কূটনৈতিক মিশনের কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার খবরও সামনে এসেছে। তবে সৌদি আরব ছাড়া অন্য দেশগুলো থেকে কর্মীদের সরানোর নির্দেশ দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
এএফপি এর বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ও ইয়েমেনের হুতিদের কাছ থেকে বাড়তে থাকা হুমকির মধ্যে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি নীরবে কমানো হচ্ছে। ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যখন ভাবছে, তখনই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরব, বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারে মার্কিন দূতাবাসের কর্মী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের অবিলম্বে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এই দাবি নাকচ করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আপাতত কেবল সৌদি আরবেই জরুরি নয় এমন মার্কিন সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর হামলায় সৌদি আরবের বেসামরিক বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কাকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র বলেছেন, সামরিক প্রস্তুতি ও কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিতভাবে সেনাসদস্য ও সামরিক সরঞ্জামের অবস্থান পরিবর্তন করে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে এ ধরনের স্থানান্তরের বিস্তারিত জানানো হয় না।
এ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ও কূটনৈতিক উপস্থিতি আরও কমানো হচ্ছে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে সব দেশ থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এমন দাবি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নিশ্চিত করেনি।