(পর্বঃ ০২) আমি কি এতই খারাপ? আল্লাহ কি আমাকে ক্ষমা করবেন না??
সমাধান কি? সমাধান অনেক। সমাধান খোঁজার মানসিকতার চেয়ে বেশি জরুরী সমাধানকে সমাধান হিসেবে মেনে নেওয়ার মানসিকতা! নিজেকে আল্লাহর কাছে সঁপে দেওয়া। আন্তরিক তাওবা আর চেষ্টা করা। আল্লাহর কাছে খুব বেশি করে চাওয়া তিনি যেন আমাদেরকে দ্বীনের পথে রাখেন। দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত স্বলাত আদায় করলেই আমাদের অনেকবার সূরা ফাতিহা পাঠ করার সুযোগ হয়। আল্লাহর সামনে বারবার বলার সুযোগ হয় 'ইহদিনাস সিরাতাল মুস্তাকিম।' আবু বকর (রা) রাসূল (সঃ) এর নিকট এসে বললেন, আমাকে একটি দোয়া শিক্ষা দিন যা আমি স্বলাতে পাঠ করতে পারি। রাসূল (সঃ) বললেন, "বল, আল্লাহুম্মা ইন্নি জালামতু নাফসি জুলমান কাছীরান ওয়ালা ইয়াগফুরুজজুনুবা ইল্লা আনতা ফাগফিরলী মাগফিরাতাম মিন ইনদিকা ওয়ারহামনী ইন্নাকা আনতাল গাফুরুর রাহীম। (হে আল্লাহ! আমি আমার নাফসের উপর বেশি বেশি জুলুম করেছি, আর তুমি ব্যতিত গুনাহসমূহ কেউ ক্ষমা করতে পারেনা, সুতরাং তুমি তোমার নিজ গুণে আমাকে মার্জনা করে দাও এবং তুমি আমার প্রতি রহম কর, তুমি তো মার্জনাকারী দয়ালু।"
চিন্তা করুন আবু বকর (রাঃ) যিনি রাসূল (সঃ) এর পর উম্মাহর শ্রেষ্ঠ একজন মুসলিম, যিনি দুনিয়াতেই জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছেন তাকে রাসূল (সঃ) শিখিয়েছেন "হে আল্লাহ! আমি আমার নাফসের উপর বেশি বেশি জুলুম করেছি!" তাহলে আমাদের অবস্থা কেমন হওয়া উচিত? আল্লাহু আকবর! আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন।
আরেকবার সাহাবীদের মধ্যে অন্যতম এবং জ্ঞান গরিমায় উত্তম ব্যক্তিত্ব মুয়ায (রাঃ) কে রাসূল (সঃ) বললেন, "হে মুয়ায! আমি তোমাকে ভালোবাসি।" মুয়ায (রাঃ) বললেন, "এবং আমিও আপনাকে ভালোবাসি হে আল্লাহর রাসূল।" তখন রাসূল (সঃ) বললেন, "প্রতিবার স্বলাতে এই দোয়াটি পড়তে ভুলো না, 'রাব্বি আ'ইন্নি আলা জিকরিকা ওয়া শুকরিকা ওয়া হুসনি ইবাদাতিকা। (হে আল্লাহ আপনার যিকরে, আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনে এবং আপনার ইবাদাত করার কাজে আমাকে সাহায্য করুন।")
দোয়াটির দিকে খেয়াল করলে দেখব যাকে রাসূল (সঃ) অত্যধিক ভালোবাসতেন তাকে বলছেন সে যেন ইবাদাত করার কাজে আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন। কেননা আমরা যদি প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর সাহায্য না পাই তাহলে আমাদের কোন ক্ষমতা নেই আল্লাহর ইবাদাত করার। তাই আমাদের উচিত হবে বেশি বেশি আল্লাহর সাহায্য কামনা করা যাতে তিনি আমাদের উপর যা আরোপিত করেছেন তা যেন আমরা সঠিকভাবে মেনে চলতে পারি। কারণ প্রতিটা মানুষেরই সীমাবদ্ধতা এবং কাঁধে পাপের বোঝা রয়েছে। আল্লাহ বলেন,
"…. মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।" [সূরা নূরঃ ৩১]
"আর তোমরা নিজেদের পালনকর্তা সমীপে ক্ষমা প্রার্থনা কর। অনন্তর তাঁরই প্রতি মনোনিবেশ কর। তাহলে তিনি তোমাদেরকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত উৎকৃষ্ট জীবনোপকরণ দান করবেন এবং অধিক আমলকারীকে বেশি করে দেবেন আর যদি তোমরা বিমুখ হতে থাক, তবে আমি তোমাদের উপর এক মহা দিবসের আযাবের আশঙ্কা করছি
।" [সূরা হুদঃ ৩]
" মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ তাআলার কাছে তওবা কর-আন্তরিক তওবা। আশা করা যায়, তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের মন্দ কর্মসমূহ মোচন করে দেবেন এবং তোমাদেরকে দাখিল করবেন জান্নাতে, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত। সেদিন আল্লাহ নবী এবং তাঁর বিশ্বাসী সহচরদেরকে অপদস্থ করবেন না। তাদের নূর তাদের সামনে ও ডানদিকে ছুটোছুটি করবে। তারা বলবেঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের নূরকে পূর্ণ করে দিন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয় আপনি সবকিছুর উপর সর্ব শক্তিমান।" [সূরা আত তাহরীমঃ ৮]
এই আয়াতগুলো নির্দেশ করছে যে আমরা যদি আল্লাহকে ভয় করে তাঁর কাছ থেকে পুরস্কার আশা করতে চাই তাহলে আমরা যেন আন্তরিক তাওবা করি, পাপ কাজ ছেড়ে দেই, অতীতের পাপের জন্য অনুতপ্ত হই এবং পাপ কাজে আর ফিরে না যাওয়ার ব্যাপারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই। তাহলে মহান আল্লাহ আমাদের জান্নাতে দাখিল করবেন ইনশাআল্লাহ। আর আমরা নিশ্চয় জানি আমাদের রাসূল (সঃ) দিনে শতবারেরও বেশি আল্লাহর কাছে তাওবা করতেন। আল্লাহু আকবর।
তাই পাপ কাজের তাওবা করে আবারও পাপ কাজে ফিরে যাওয়া কিংবা দ্বীন পালনের পাশাপাশি পাপ কাজে লিপ্ত হয়ে গেলে আমাদের উচিত হবে তাওবার মাত্রা বাড়িয়ে দেওয়া। আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে সাহায্য কামনা করা। মুসলিমের একটা হাদিস থেকে আমরা পাই রাসূল (সঃ) বলেছেন, আল্লাহ রাতে তাঁর হাত প্রসারিত করেন যারা দিনে পাপ কাজ করে তাদের তাওবা কবুল করতে। আবার দিনে তাঁর হাত প্রসারিত করেন রাতে যারা পাপ কাজ করে ফেলে তাদের তাওবা কবুল করতে। আল্লাহু আকবর।
সমাধান আরো আছে। যেমন আল্লাহ বলেছেন সূরা আহযাবে,
"হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল।" [৩৩:৭০]
"তিনি তোমাদের আমল-আচরণ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করবে।" [৩৩:৭১]
চলবে ইনশাআল্লাহ
পর্ব২ঃ
https://t.me/TasawwufOfficial/8538