একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, সৌদিতে যে ঘটনায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, সেই অপরাধটি সাম্প্রতিক নয়। ঘটনাটি ঘটেছিল প্রায় তিন বছর আগে। প্রায় তিন বছর ধরে মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলে এবং সাত মাস আগে রায় চূড়ান্ত হয়। বাংলাদেশের মানুষ এখন যে ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা করছে, সেই ঘটনার ভিডিওসহ পুরো সৌদিতে প্রায় এক বছর আগেই ছড়িয়ে পড়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। তাই বাংলাদেশের দূতাবাস এ বিষয়ে কিছুই জানত না—এমন বক্তব্য সত্য নয় বলে মনে করছেন লেখক।
সৌদিতে পতিতাবৃত্তির অভিযোগে অনেক বাংলাদেশি নারীকে প্রায়ই গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু তাঁদের কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে—এমন কথা শোনা যায়নি। বরং তাঁদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়ে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। দীর্ঘ সময় কারাগারে রাখার ঘটনাও খুব বেশি দেখা যায় না বলে লেখকের দাবি। তাঁর মতে, সৌদি সাধারণত অপরাধীদের ছবি বা পরিচয় প্রকাশ করে না। শাস্তি কার্যকরের চেয়ে ক্ষমা করে দেওয়ার ঘটনাই সেখানে বেশি ঘটে।
এবার ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির প্রসঙ্গে আসা যাক। লেখকের দাবি, অপরাধটি সংঘটিত হয়েছিল মক্কার হুদুদে হারাম এলাকায়। এটি এমন একটি পবিত্র এলাকা, যেখানে গাছের পাতা ছেঁড়াও নিষিদ্ধ। তাঁর আরও দাবি, ঘটনাটি সম্ভবত মসজিদুল হারামের সম্প্রসারণ এলাকায় ঘটানো হয়েছিল।
বাংলাদেশের দূতাবাস যদি বলে, তারা এ বিষয়ে কিছুই জানত না, তাহলে প্রশ্ন ওঠে—তারা কেন জানত না? বাংলাদেশের দুই নাগরিকের ভিডিও পুরো সৌদিতে ছড়িয়ে পড়েছে, তাঁরা গ্রেপ্তার হয়েছেন, প্রায় তিন বছর ধরে বিচারিক কার্যক্রম চলেছে, সাত মাস আগে রায় চূড়ান্ত হয়েছে এবং পরশু সেই রায় কার্যকর করা হয়েছে। এত কিছুর পরও দূতাবাস কিছুই জানত না—এমন দাবি কতটা বিশ্বাসযোগ্য?
বাংলাদেশ যদি আলোচনার মাধ্যমে, ক্ষমা চেয়ে কিংবা অন্য কোনো উপায়ে মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিত, তাহলে দেশের কেউ কি তার বিরোধিতা করত? নিশ্চয়ই নয়—এমন প্রশ্ন তুলেছেন লেখক।
উদাহরণ হিসেবে শ্রীলঙ্কার প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেছেন, দেশটির প্রেসিডেন্ট আন্তর্জাতিক আদালতে গেছেন এবং সৌদি আরবে আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাঠিয়েছেন। সেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শ্রীলঙ্কায় ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে তাঁকে নিজ দেশে শাস্তি দেওয়া যায়। এর পর সৌদি আরব তাঁর শিরশ্ছেদ স্থগিত করেছে এবং তাঁকে দেশে পাঠানো হবে কি না, তা বিবেচনা করছে বলে লেখকের বক্তব্য।
তাই অযথা বক্তব্য দেওয়ার আগে এবং নিজেদের ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন করার আগে নিজেদের ব্যর্থতা ও দায় নিয়ে আলোচনা করা উচিত বলে মনে করেন লেখক। তাঁর দাবি, বাংলাদেশের দূতাবাসও ঘটনাটি সম্পর্কে জানত।
সৌদিতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। লেখকের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি এখনো কারাগারে রয়েছেন।
এদিকে, অনেকে হদ ও তাজির নিয়ে আলোচনা করছেন। কিন্তু তাজির কি শরিয়াবহির্ভূত কোনো আইন, যা বেদ বা বাইবেল থেকে নেওয়া হয়েছে? নাকি শরিয়াহর বিধিবিধান অনুসারেই এই আইন নির্ধারিত হয়েছে? সৌদির তাজির-সংক্রান্ত আইনে কি বাংলাদেশের কোনো মসজিদের মুয়াজ্জিনের মতো কেউ নিজের ইচ্ছামতো রায় দিয়েছেন, আর তা বাস্তবায়ন হয়ে গেছে?—এমন প্রশ্নও তুলেছেন লেখক।
@WorldWarReport @WorldWarReport1










