এই ঘটনাটা আগেও শেয়ার করেছি, আবারও শেয়ার করছি। প্রাসঙ্গিক তাই।
আমার এক ভাগ্নি, তখন তার বয়স কত হবে, ৪ কি ৫। তো একটা কিছু নষ্ট করসে আমার। কিন্তু আমি শিওর না। ধরলাম ওর নাম উমাইয়া। আমি বললাম, উমাইয়া মামনি! এই জিনিসটা এত সুন্দর করে ভাঙসে কে? মুখের এক্সপ্রেশনো ছিল খুব হাসি খুশি! ও বলে, মামা এটা তো আমি করসি!
তারপর আমি আরেকটা এক্সপেরিমেন্ট করার জন্য, খুব কর্কশ ভাষায়, চোখ মুখ-কুঁচকে বডি ল্যাঙ্গুয়েজ খুব এ্যাগ্রেসিভ করে বললাম, উমাইয়া! তুমি একটা মেয়ে! এটা দেখতে যে, ও কি রকম রিএ্যাক্ট করে। দেখলাম, ও খুব চেঁতে গেসে। আমি ওকে কেনো মেয়ে বললাম!! ও নাকি মেয়ে না! আমি নাকি তাকে খারাপ কিছু বলেছি। হাহাহা! এরকম আমি মাঝে মধ্যেই করি। দেখার জন্য, কি রকম রিএ্যাকশন আসে।
তো কি বুঝলেন? সে আসলে শব্দ না, বরং আচরণের ভিত্তিতে রিএ্যাক্ট করছে। এটা শুধু বাচ্চাদের বেলায়ই প্রযোজ্য না, বরং বড়দের বেলায়ও। ছেলেদের বেলায়ও। কিন্তু মেয়েদের বেলায় আরো প্রকটভাবে, কারণ তারা তুলনামূলক বেশী ইমোশন ড্রিভেন। তারা আপনার এ্যাপ্রোচ, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখবে।
তুহিন খানদের দেখবেন যে, কাব্যিক ভাষায় মেয়েদের জামা-কাপড় খুলে ফেলার কথা বলছে। কখনোই আপনি দেখবেন না যে, এই জন্যে মেয়েরা কোন প্রতিবাদ করছে। তুহিন খান বলে কথা না, আরো যারা আছে এরকম সেলিব্রেটি - তাদের এই টাইপের কবিতা-গানের ভক্ত বরং মেয়েরাও কম না। কারণটা কি? কারণটা হল, এ্যাপ্রোচ, এক্সপ্রেশন। আপনি মানুষকে কোমল আচরণের মাধ্যমে ভুল পথে নিতে পারবেন, কিন্তু কঠোর আচরণের মাধ্যমে সৎ পথে নেয়াটা কঠিন।
এজন্য ধরুন আপনি খুব কঠোর ভাবে ভালো কথা বললেন, মানুষ রিএ্যাক্ট করবে। মেয়েরা আরো বেশী করবে, যদি বলেন ওইত তুই পর্দা করস না কেন? পর্দা না করলে এত এত গুনাহ, তুই জাহান্নামে যাবি। হ্যাঁ এই সম্ভাবনা আছে, যদি তাওবা না করে, আল্লাহ তা'আলা করুণ না করেন, কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে যে, আল্লাহ তা'আলা তো ক্ষমাশীল এবং করুণাময়। কিন্তু যাকে বলছেন, সে সম্ভাবনা বেশী যে, আপনার কথা এ্যাসেন্সটা ধরতে পারবে না, বরং শুরুতে আপনার এ্যাপ্রোচটা তাকে হিট করবে। আর আপনি যদি কাছের কেউ না হন, তাহলে তো কথাই নেই। আপনি বলরাই বা কে?
তবে ক্ষেত্র বিশেষে কঠোরতারও দরকার আছে, কিন্তু যেখানে আপনি দায়িত্বশীল না, সেখানে কঠোরতা করা অবান্তর হয়ে যায় অনেক সময়। দায়িত্বশীলের উপর জোর করে হলেও ফরজ আদায় করিয়ে নেবার একটা বিষয় থাকে।
আবার কঠোরতারও, কিংবা অসৎ কাজের নিষেধেরও আর্ট আছে। আপনি কি আল্লাহর জন্য করছেন নাকি, নিজের মনের রাগ, খায়িশাত মিটানোর জন্য করছেন, এটার উপরও তাসির নির্ভর করে। আমি নিজে যে এগুলো খুব মেইন্টেইন করতে পারি, তাও না। তবে করা উচিত। - সংগৃহীত