Hope Telegram channel photo

Hope

@hope24hoursPublic Channel

আল্লাহ আপনার দুনিয়ার কষ্ট দূর করে দিক, আখিরাত সহজ করে দিক, আমীন। প্রয়োজনে: @HopeDM আমাদের সব চ্যানেলঃ https://t.me/Hope24hours/1215 এনোনিমাস মেসেজ পাঠাতে: https://chithi.me/Hope24hours উত্তর: https://t.me/a_teardrop

244

Last views

18.4k (18,445 subscribers)
সদস্য
—
Rating
70
Total Posts
Oct 21, 2026, 12:49 AM
আপডেট হয়েছে
Apr 1, 2026
Created
Stats

আপনি বাংলায় বিষয়বস্তু দেখছেন। অন্যান্য ভাষায় বিষয়বস্তু দেখতে সাইটের ভাষা পরিবর্তন করুন।

Channel Information

Channel Information
Channel NameHope
Username@hope24hours
Categoryআধ্যাত্মিকতা
Languageবাংলা
Countryভারত
সদস্য18,445
Channel TypePublic Channel
Created১ এপ্রি, ২০২৬
Last Updated২১ অক্টো, ২০২৬ • ২৩ ঘণ্টা আগে
StatusActive

র্যাঙ্কিং

বিশ্বব্যাপী র্যাঙ্কিং
#208470-65320
ভাষার র্যাঙ্কিং
#497-124
ক্যাটাগরির র্যাঙ্কিং
#1308-474

অংশগ্রহণকারীদের বৃদ্ধি

মোট: 18.4K30 Days growth: -260.1%
09/2109/2610/0110/0610/1110/1610/20
অংশগ্রহণকারীদের বৃদ্ধি - 30 Days
DateSubscribers
21:09:202618,471
22:09:202618,471
23:09:202618,471
24:09:202618,471
25:09:202618,471
26:09:202618,471
27:09:202618,471
28:09:202618,471
29:09:202618,471
30:09:202618,471
01:10:202618,471
02:10:202618,471
03:10:202618,471
04:10:202618,471
05:10:202618,471
06:10:202618,471
07:10:202618,471
08:10:202618,471
09:10:202618,471
10:10:202618,471
11:10:202618,471
12:10:202618,471
13:10:202618,457
14:10:202618,457
15:10:202618,457
16:10:202618,457
17:10:202618,457
18:10:202618,457
19:10:202618,457
20:10:202618,445
অংশগ্রহণকারীদের বৃদ্ধি - Weekly
DateSubscribers
Week of 30:03:202617,989
Week of 06:04:202617,966
Week of 13:04:202617,970
Week of 20:04:202617,955
Week of 27:04:202617,955
Week of 04:05:202617,955
Week of 11:05:202617,890
Week of 18:05:202617,890
Week of 25:05:202617,890
Week of 01:06:202617,835
Week of 08:06:202617,835
Week of 15:06:202617,835
Week of 22:06:202617,795
Week of 29:06:202617,795
Week of 06:07:202617,795
Week of 13:07:202617,750
Week of 20:07:202617,750
Week of 27:07:202617,719
Week of 03:08:202617,719
Week of 10:08:202617,719
Week of 17:08:202617,685
Week of 24:08:202617,667
Week of 31:08:202618,343
Week of 07:09:202618,343
Week of 14:09:202618,471
Week of 21:09:202618,471
Week of 28:09:202618,471
Week of 05:10:202618,471
Week of 12:10:202618,457
Week of 19:10:202618,445
অংশগ্রহণকারীদের বৃদ্ধি - Monthly
DateSubscribers
March 202618,054
April 202617,955
May 202617,890
June 202617,795
July 202617,731
August 202617,667
September 202618,471
October 202618,445
অংশগ্রহণকারীদের বৃদ্ধি - Yearly
DateSubscribers
202618,445

Top 10 posts

Most viewed posts from this channel

By views
  1. #1🌸সূরা আল-বাকারাহ্ এর প্রথম দশ আয়াতের তাফসীর গুলো একসাথে-1.8K
  2. #2আল কুরআন: আল-বাকারাহ্ ২:১৪1.7K
  3. #3❝ আপনি কি কুরআন শুদ্ধভাবে পড়তে পারেন? ❞1.7K
  4. #4আল কুরআন: আল-বাকারাহ্ ২:১৩1.7K
  5. #5জীবনে যদি অনেক বেশি বিপদে থাকেন। ঠিকঠাক মত আমল ও হচ্ছে না, দুআ, তাহাজ্1.6K
  6. #6গোপন পাপ1.5K
  7. #7আল কুরআন: আল-বাকারাহ্ ২:৩1.5K
  8. #8আল কুরআন: আল-বাকারাহ্ ২:১৫1.4K
  9. #9দুআ কবুলের উত্তম সময় চলছে, বেশি বেশি দুরুদ আর দুআ করি ইন শা আল্লাহ। আশ1.4K
  10. #10কখনো কখনো মানুষের জীবনে বিপদ আসে। অধিকাংশ মানুষ বিপদকে নেতিবাচক দৃষ্টি1.4K

সাম্প্রতিক পোস্ট

Hope logo
Hope

১৮ অক্টো, ২০২৬, ০৫:৪৫

জীবন আসলে বেশ ছোট। এই ছোট্ট জীবনে চাইলেও দুনিয়ার সব বই তো পড়া সম্ভব না, এজন্য পড়তে চাইলে একটু বাছবিচার করেই পড়তে হবে। তবে এরপরও পড়তে হবে অনেক।
অর্থাৎ কাজ দুটা:
১) বেছে পড়া,
২) তবে অনেক পড়া।
.
ইলমের বৈশিষ্ট্যই এটা, যত অর্জন করবেন তৃষ্ণা তত বাড়বে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
"منهومان لا يشبعان منهوم في العلم لا يشبع منه، ومنهوم في الدنيا لا يشبع منها
.
"দুই লোভী তৃপ্ত হয় না: জ্ঞানলোভী কখনো জ্ঞানার্জন করে তৃপ্ত হয় না আর দুনিয়ালোভী কখনো দুনিয়া পেয়ে তৃপ্ত হয় না"। [১]
.
যদি দেখা যায় যে জ্ঞান তৃষ্ণা আরও বাড়ছে না, তাহলে তো বিষয়টা প্রবলেমেটিক। অবশ্য কখনো কখনো রিডারস ব্লক লাগে। তখন কাটানোর চেষ্টাও করতে হয়।
.
একবার এমন ব্লকে ছিলাম, তখন শাইখ আলবানীর [রাহ.] এর রেকর্ড থেকে শুনেছিলাম যে তিনি ১০ হাজার বই পড়েছেন, যেগুলোতে শতাধিক খণ্ডের বইও আছে। অর্থাৎ এই শতাধিক খণ্ডের বইকে তিনি এক বই ধরে কাউন্ট করেছেন! এভাবে ১০ হাজার বই, সুবহানআল্লাহ।
এতে কিন্তু তাঁর ইলম পিপাসা কমে যায় নি।
আলহামদুলিল্লাহ এটা শুনে আমার নিজের ব্লক ছুটে গিয়েছিল।
.
কাজেই নিজেকে উদ্দীপ্ত করুন ও চাঙ্গা রাখুন, পড়তে ও জানতে থাকুন। অনেক বেশি না পারলেও অন্তত অল্প করে নিয়মিত পড়ুন, এতে পড়ার অভ্যাস জারি থাকবে ইন শা আল্লাহ।
.
[১) ইমাম বাইহাক্বী (রাহ.), শুআবুল ঈমান, হা: ৯৭৯৮, শাইখ আলবানীর (রাহ.) মতে হাদিসটি সহীহ, হিদায়াতুর রুওয়াত: ১/১৬৯]
244009
Hope logo
Hope

১৮ অক্টো, ২০২৬, ০৫:৪৫

আমার ছোট ভাইদের আমি পরামর্শ দেব যে ছাত্রজীবন থেকেই দয়া করে পাঠাভ্যাস গড়ে তুলুন। অনেকে ভাবেন যে একসময় চাকরি বা ব্যবসা করব, তখন হাতে ফ্রি টাইম থাকবে, সেসময় আমি বিভিন্ন দ্বীনি বিষয়ে জ্ঞানার্জন করব ইন শা আল্লাহ।
এটা চিন্তা হিসেবে সুন্দর তবে প্রায়োগিক না। বয়সের সাথে সাথে ঘাড় যেমন ভারি হয়ে যাবে, ফলে আগের মত মুখ গুজে বইয়ের মাঝে পড়ে থাকতে পারবেন না, তেমনি বিভিন্ন দায়িত্ব-কর্তব্যের ভিড়ে পড়ার সময় করে ওঠা অনেক কঠিন হবে।
যার অল্প বয়সে পড়ার অভ্যাস গড়ে ওঠে না, সে আসলে পরে আর সেভাবে গড়ে তুলতেও পারেনা।
.
কাজেই করণীয় হচ্ছে ছাত্র জীবনকে মূল্যায়ন করা। অবশ্যই নিজের একাডেমিক পড়াশোনাকে প্রায়োরিটি দিতে হবে। তবে এর পাশাপাশি সময় বের করে সিলেবাস বানিয়ে বা সিরিয়াল ধরে একের পর এক বই পড়ে যেতে হবে।
যদি এটা করতে পারেন তাহলে ইন শা আল্লাহ পরবর্তী জীবনেও আপনি জ্ঞান অন্বেষণ সর্বদা জারি রাখতে পারবেন।
কেননা আপনি কিছু অসাধারণ স্কিল ছাত্র জীবনেই শিখে ফেলেছেন যা আপনাকে পরেও এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে। যেমন:
১) কাজের ফাঁকে সময় বের করা,
২) অধিক পঠন,
৩) প্রায়োরিটি সেট আপ,
৪) নিজের জন্য সিলেবাস বানানো ও টার্গেট নির্ধারণ,
৫) পড়াকে নিজের পাসটাইম বানানো ইত্যাদি।
228000
Hope logo
Hope

১৭ অক্টো, ২০২৬, ২১:২৮

Video
Young Brothers & Sisters
4440010
Hope logo
Hope

১৭ অক্টো, ২০২৬, ১৬:১৫

কারও ওপর যখন কোনো বিপদ আসে, সেই বিপদ থেকে মুক্তি ও স্বস্তি পাওয়ার একটি পদ্ধতি হলো, সে যেন বিপদটাকে আরও বড় কোনো বিপদে আপতিত হওয়ার চেয়ে ছোট মনে করে। সে হয়তো এর চেয়ে আরও বড় বিপদে আপতিত হতে পারত। তার আরও বেশি ক্ষতি হতে পারত। তারপর বিপদে ধৈর্যধারণের প্রতিদানের কথা স্মরণ করবে। আর আশা করা যায়, বিপদটি অতি দ্রুত চলেও যাবে। জীবনে বিপদ আসেই। জীবন কখনো নিরবচ্ছিন্ন সুখের দ্বারা ভরে থাকে না। সুখ ও দুখের এই পর্যায়ক্রমিক ধারাবাহিকতা না থাকলে শান্তি ও সুখ অনুভব করাও সম্ভব হতো না।

এ কারণে তার নিকট বিপদের অবস্থানকে সে যেন একজন মেহমানের অবস্থানের মতো মনে করে। এটা তো সাময়িক ও তাৎক্ষণিক। এর আগে সে কত কত সময় আনন্দে ও উল্লাসে কাটিয়েছে। কত কত মজলিস উৎসব ও সুখের জায়গায় গিয়েছে। এখন এই কষ্টের মেহমানকে একটু সয়ে নিতেই হবে।

এভাবে বিপদের সময় মুমিন তার অন্য সময়গুলোর কথাও স্মরণ করা উচিত। খুব ধৈর্যের সাথে আঘাত সয়ে নেবে। সামান্য অসতর্কতায় যেন মুখ থেকে কোনো খারাপ কথা বের না হয়। অন্তরে যেন কোনো ক্ষোভ বা ক্রোধের সৃষ্টি না হয়। এই বিপদ চলে যাবে। এই তো আবার ফজর উদিত হলো বলে, তখন রাতের এই অন্ধকার মিলিয়ে যাবে। অন্ধকার কেটে রাতের এই ভ্রমণকারী বেদনার অবসান হবে। এবং ধৈর্যের প্রতিদানের সূর্য উদিত হতেই সবাই নিরাপত্তার গৃহে আশ্রয় নেবে।

[হৃদয়ের দিনলিপি : ১৪০]
6270012
Hope logo
Hope

১৭ অক্টো, ২০২৬, ০৫:৫১

এই মুহূর্তে অভিযান চালালে দেশের পর্যটন স্পটগুলোতে অন্তত ১০ হাজার ছেলে মেয়ে পাওয়া যাবে, যাদের বয়স ১১ থেকে ১৮ বছর। অর্থাৎ যাদের আপনারা আন্ডার-এইজ (অপ্রাপ্তবয়স্ক) বলেন। এরা অধিকাংশই সহপাঠীর জন্মদিন বা বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে প্রেমিক কিংবা জাস্ট ফ্রেন্ড নিয়ে হোটেলে রাত যাপন করছে। শুধু কক্সবাজারেই পাওয়া যাবে দুই হাজারের বেশি।
.

বলা যায়, ইতোমধ্যে এদের অনেকেই নিজেদের সতীত্ব হারিয়েছে এবং তা আরও বেশি করে হারানোর নেশায় উন্মত্ত হয়ে আছে। এদের চলাফেরা দেখলে পরিষ্কার বোঝা যায়, এরা নিজেদের স্পর্শকাতর অঙ্গগুলো ইচ্ছে করে মেলে ধরে, যেন অন্যরা আগ্রহী হয়ে ওঠে।
.

ঢাকা থেকে কক্সবাজার, সাজেক, বান্দরবান ও কুয়াকাটা রুটে যেসব বাস চলাচল করে, সেসব বাসে ওঠার সাহস হারিয়েছি অনেক আগেই। বাসে এদের আচরণ এতটাই আপত্তিকর যে, বাসের পাশাপাশি সিটে বসে এরা সব ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়, এমনকি প্রকাশ্যেও। এছাড়া বেশ কিছু সমকামীকেও বাসে অসংলগ্ন আচরণ করতে দেখেছি। ডাবল ডেকোর ও স্লিপার বাসগুলো যেন একেকটি অনুমোদিত পতিতালয়—যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। মেট্রোতেও ইদানিং চোখে পড়ছে। একটু সুযোগ পেলেই— শুরু করে দিচ্ছে।
.

বিগত বিশ বছর ধরে সহশিক্ষা, এনজিও বয়ান, নারীবাদ ও মুক্ত স্বাধীনতার নামে আমেরিকা ও জাতিসংঘের যে বয়ান এখানে ফুল প্রেসারে লোড করা হয়েছে—তা রিহার্সাল পর্ব শেষ করে এখন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। কতটা বাস্তব রূপ নিয়েছে, তার সামান্য উদাহরণ কুমিল্লার ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন।
.

বিগত কয়েক দশক ধরে এখানে প্রচারিত পশ্চিমা সাংস্কৃতিক ও সামাজিক রূপান্তরের স্থায়ী সমাধান না হলে এসব সামাজিক সংকট থামবে না; মজার বিষয় হলো; এসব ঘটনা ঘটার পর আমরা তাদের শেখানো ‘বুলি‘ দিয়েই একে-অপরকে দোষারোপ করতে থাকব।

.

"কুরআনের শিক্ষা হলো—এর বিপরীতে দৃঢ় সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা ছাড়া এসব প্রক্রিয়া থামানো সম্ভব নয়। তাই কোনো আলেম যখন সেক্যুলার রাষ্ট্রের আশ্বাসের ওপর নির্ভর করে এসব সমস্যার সমাধান করতে চান, তখন প্রশ্ন জাগে—তারা কি সামাজিক ও বৈশ্বিক কাঠামোর এই বাস্তবতা বোঝেন না, নাকি স্বচেতনভাবে কুরআনের স্পষ্ট বয়ানকে এড়িয়ে যেতে চাচ্ছেন?

.
কুরআন বলছে:

وَلَا يَزَالُونَ يُقَـٰتِلُونَكُمْ حَتَّىٰ يَرُدُّوكُمْ عَن دِينِكُمْ إِنِ ٱسْتَطَـٰعُوا۟

তরজমা:

"তারা তোমাদের বিরুদ্ধে যু/দ্ধ করতেই থাকবে, যতক্ষণ না তারা তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন থেকে ফিরিয়ে দেয়—যদি তারা সক্ষম হয়।" (সূরা বাকারা, আয়াত ২১৭ এর অংশ)
.

ইবনে কাসীর (রহ.) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেছেন যে, কাফির ও মুশরিকদের মূল লক্ষ্য এবং অন্তরের চিরন্তন বাসনা হলো মুসলিম উম্মাহকে তাদের সত্য দ্বীন (ইসলাম) থেকে বিচ্যুত করা। (প্রয়োজনে যু/দ্ধ করে হলেও)। তাদের এই শত্রুতা ও ষড়যন্ত্র কোনো সাময়িক বিষয় নয়, বরং এটি একটি ধারাবাহিক ও দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া।

.
যাই হোক, জাতি দীর্ঘদিন ধরে চলা বুদ্ধিবৃত্তিক কুফরি আগ্রাসনের নেতিবাচক ফল এখন টের পাচ্ছে। তারা বুঝতে পারছে, তাদের অজান্তেই তাদের অনেক কিছু বদলে গেছে; কিন্তু কী করবে, তা বুঝে উঠতে পারছে না।
.

ঠিক এই মুহূর্তে প্রয়োজন কুফরি শক্তির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কুফরি সমাজবিজ্ঞানের বিরুদ্ধে গণজাগরণ সৃষ্টি করা। মসজিদের মিম্বর থেকে নরম আলোচনা বাদ দিয়ে স্পষ্টভাবে বলা প্রয়োজন যে— সমতাবাদ কুফর, মুক্তচিন্তা কু/ফর, নারীবাদ কু/ফর, এবং কু/ফর। - আফসার ভাই
6990012
Hope logo
Hope

১৬ অক্টো, ২০২৬, ২১:৪৪

কারো অন্তরে যখন দুনিয়া ঢুকে পড়ে তখন সবকিছুকে সে দুনিয়ার চশমা দিয়ে দেখে, দ্বীনটাকেও। দ্বীনের মাঝেও সে সুযোগ খুঁজবে কিভাবে দুই পয়সা ধান্ধা করা যায়। সুযোগ পেলে দ্বীনটা বেচেও দিবে। দ্বীন বেচা মানে বাজারে বসে দর কষাকষির পর নির্ধারিত মূল্যে দ্বীন কারো কাছে বেচে আসা, ব্যাপারটা এমন কিছু নয়। দ্বীন বেচা মানে হলো আখিরাতের চিন্তা অন্তর থেকে মুছে যাওয়া। দ্বীন বেচা মানে নির্ঝঞ্জাট একটা জীবন কাটিয়ে দেওয়ার স্বপ্নে প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠা, আরো একটু দুনিয়া কীভাবে অর্জন করা যায় সেই দুশ্চিন্তা মাথায় নিয়ে প্রতিদিন ঘুমোতে যাওয়া। দ্বীন বেচা মানে হলো দ্বীনের কথা আসলে--"একদম সময় পাই না"। দ্বীন বেচা মানে হলো-- 'আমি খুব ব্যস্ত'।
7740017
Hope logo
Hope

১৬ অক্টো, ২০২৬, ১৩:৪২

ইয়াহইয়া ইবনে মুআযের কাছে বসে একজন কুরআন তিলাওয়াত করছিলো। সূরা ত্বহার এই আয়াতটা এলো যে আয়াতে আল্লাহ তায়ালা মূসা ও হারুন আলাইহিমাস সালামকে ফিরআউনের কাছে পাঠানোর সময় নসীহত দিচ্ছিলেন:

فقولا له قولا لينا

তোমরা দুজন যাও। গিয়ে তাকে নরম ভাষায় বলো (যা কিছু বলার)।

ইয়াহইয়া কেঁদে ফেললেন আয়াতটা শুনে। লোকজন জানতে চাইলো কাঁদার কারণ কী? তিনি বললেন:

আমার আল্লাহ এমন পবিত্র সত্তা যিনি এমন লোকের সাথে নম্র হবার নসীহত দিচ্ছেন যে কিনা নিজেকে দাবী করে বলেছে 'আমিই আল্লাহ'। তাহলে ঐ ব্যক্তির সাথে আমার রব কেমন নরম হবেন যে কিনা আমার রবকে রব হিসেবে মেনে স্বীকৃতি দিয়ে বলে: তুমিই আল্লাহ। তুমি ছাড়া ইলাহ নাই।

[তাফসীরে বাগাভী]

কি সুন্দর কথা! আল্লাহ তায়ালা কত মহান কত দয়ালু সত্ত্বা আমাদের কল্পনায় এর কোনো স্থানই নেই। কোনো পরিমাপ নেই যা দিয়ে মাপজোখ করা যায়। আল্লাহ তায়ালার রহম এত সুবিশাল। আমাদের জিন্দেগীর প্রত্যেকটা রহস্যে আল্লাহ তায়ালার রহম আছে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের কল্যাণ ছাড়া কিছুই করেন না। কিছুই চান না। নইলে বান্দার এত এত নাফরমানির পরও কেন আল্লাহ তায়ালা বারংবার চান বান্দা ফিরে আসুক!

🌸দুআ কবুলের উত্তম সময় - জুমার দিনের আসর থেকে মাগরিব। হাতের কাজ গুছিয়ে দুআ করতে বসব, আর সূরা কাহাফ কি পড়েছি?
8640015
Hope logo
Hope

১৬ অক্টো, ২০২৬, ০৫:৪৫

এই ঘটনাটা আগেও শেয়ার করেছি, আবারও শেয়ার করছি। প্রাসঙ্গিক তাই।

আমার এক ভাগ্নি, তখন তার বয়স কত হবে, ৪ কি ৫। তো একটা কিছু নষ্ট করসে আমার। কিন্তু আমি শিওর না। ধরলাম ওর নাম উমাইয়া। আমি বললাম, উমাইয়া মামনি! এই জিনিসটা এত সুন্দর করে ভাঙসে কে? মুখের এক্সপ্রেশনো ছিল খুব হাসি খুশি! ও বলে, মামা এটা তো আমি করসি!

তারপর আমি আরেকটা এক্সপেরিমেন্ট করার জন্য, খুব কর্কশ ভাষায়, চোখ মুখ-কুঁচকে বডি ল্যাঙ্গুয়েজ খুব এ্যাগ্রেসিভ করে বললাম, উমাইয়া! তুমি একটা মেয়ে! এটা দেখতে যে, ও কি রকম রিএ্যাক্ট করে। দেখলাম, ও খুব চেঁতে গেসে। আমি ওকে কেনো মেয়ে বললাম!! ও নাকি মেয়ে না! আমি নাকি তাকে খারাপ কিছু বলেছি। হাহাহা! এরকম আমি মাঝে মধ্যেই করি। দেখার জন্য, কি রকম রিএ্যাকশন আসে।

তো কি বুঝলেন? সে আসলে শব্দ না, বরং আচরণের ভিত্তিতে রিএ্যাক্ট করছে। এটা শুধু বাচ্চাদের বেলায়ই প্রযোজ্য না, বরং বড়দের বেলায়ও। ছেলেদের বেলায়ও। কিন্তু মেয়েদের বেলায় আরো প্রকটভাবে, কারণ তারা তুলনামূলক বেশী ইমোশন ড্রিভেন। তারা আপনার এ্যাপ্রোচ, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখবে।

তুহিন খানদের দেখবেন যে, কাব্যিক ভাষায় মেয়েদের জামা-কাপড় খুলে ফেলার কথা বলছে। কখনোই আপনি দেখবেন না যে, এই জন্যে মেয়েরা কোন প্রতিবাদ করছে। তুহিন খান বলে কথা না, আরো যারা আছে এরকম সেলিব্রেটি - তাদের এই টাইপের কবিতা-গানের ভক্ত বরং মেয়েরাও কম না। কারণটা কি? কারণটা হল, এ্যাপ্রোচ, এক্সপ্রেশন। আপনি মানুষকে কোমল আচরণের মাধ্যমে ভুল পথে নিতে পারবেন, কিন্তু কঠোর আচরণের মাধ্যমে সৎ পথে নেয়াটা কঠিন।

এজন্য ধরুন আপনি খুব কঠোর ভাবে ভালো কথা বললেন, মানুষ রিএ্যাক্ট করবে। মেয়েরা আরো বেশী করবে, যদি বলেন ওইত তুই পর্দা করস না কেন? পর্দা না করলে এত এত গুনাহ, তুই জাহান্নামে যাবি। হ্যাঁ এই সম্ভাবনা আছে, যদি তাওবা না করে, আল্লাহ তা'আলা করুণ না করেন, কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে যে, আল্লাহ তা'আলা তো ক্ষমাশীল এবং করুণাময়। কিন্তু যাকে বলছেন, সে সম্ভাবনা বেশী যে, আপনার কথা এ্যাসেন্সটা ধরতে পারবে না, বরং শুরুতে আপনার এ্যাপ্রোচটা তাকে হিট করবে। আর আপনি যদি কাছের কেউ না হন, তাহলে তো কথাই নেই। আপনি বলরাই বা কে?

তবে ক্ষেত্র বিশেষে কঠোরতারও দরকার আছে, কিন্তু যেখানে আপনি দায়িত্বশীল না, সেখানে কঠোরতা করা অবান্তর হয়ে যায় অনেক সময়। দায়িত্বশীলের উপর জোর করে হলেও ফরজ আদায় করিয়ে নেবার একটা বিষয় থাকে।

আবার কঠোরতারও, কিংবা অসৎ কাজের নিষেধেরও আর্ট আছে। আপনি কি আল্লাহর জন্য করছেন নাকি, নিজের মনের রাগ, খায়িশাত মিটানোর জন্য করছেন, এটার উপরও তাসির নির্ভর করে। আমি নিজে যে এগুলো খুব মেইন্টেইন করতে পারি, তাও না। তবে করা উচিত। - সংগৃহীত
9410016
Hope logo
Hope

১৫ অক্টো, ২০২৬, ১৯:৪৬

ফুযাইল ইবন ইয়ায রহ. ছিলেন তাবেঈ-পরবর্তী যুগের একজন প্রসিদ্ধ আল্লাহওয়ালা, জগদ্বিখ্যাত আবিদ ও জাহিদ। বিশেষ করে হারামাইন শরীফাইনে দীর্ঘ ইবাদতের কারণে তিনি 'আবিদুল হারামাইন' নামে সুপরিচিত ছিলেন। তাঁর সাহচর্য লাভ করা, তাঁর শিষ্য হওয়া-তৎকালীন সময়ে ছিল অত্যন্ত বড় সৌভাগ্যের বিষয়।

ফুযাইল ইবন ইয়ায রহ. নিজেই একটি ঘটনা বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমার একজন শিষ্য খুব অসুস্থ হয়ে পড়লে আমি তাঁকে দেখতে গেলাম। তাঁর চেহারা দেখে বুঝতে পারলাম, মৃত্যুর সময় খুব কাছাকাছি। তাই আমি তাঁর পাশে বসে কালিমার তালকীন করতে শুরু করলাম।

এখানে একটি বিষয় মনে রাখা দরকার। 'তালকীন' বলতে মৃত্যুপথযাত্রীকে জোর করে 'কালিমা বলুন' বলা বোঝায় না। বরং তার পাশে বসে নিজে ধীরে ধীরে কালিমা পাঠ করা, যাতে তিনি শুনে নিজেও পড়ে নেন। কারণ তাকে চাপ দিলে যদি সে কোনো কারণে বলে বসে, 'আমি বলব না', তাহলে বিষয়টি আরও সংকটপূর্ণ হয়ে যেতে পারে। এ জন্য শরিয়ত কোমল পদ্ধতির শিক্ষা দিয়েছে।

যাই হোক, ফুযাইল ইবন ইয়ায রহ. বলেন, আমি যখন কালিমার তালকীন করছিলাম, তখন হঠাৎ সে আমাকে বলল, 'আমি কালিমা চিনি না।'

আমি যেন বজ্রাহত হয়ে গেলাম। মনে হলো, এ কী বলল! যে মানুষটি এতদিন আমার সঙ্গেই ছিল, ইবাদত করেছে, যিকির-আযকার করেছে, সে আজ মৃত্যুর মুহূর্তে বলছে-আমি কালিমা চিনি না! আমি ভারাক্রান্ত হৃদয়ে সেখান থেকে ফিরে এলাম। কিন্তু এরপর প্রায় চল্লিশ দিন পর্যন্ত আমি স্বাভাবিক থাকতে পারিনি। রাতে ঘুম আসত না। চোখের পাতা এক করতে পারতাম না। বারবার দুঃস্বপ্ন দেখতাম। দীর্ঘদিন নির্ঘুম থাকার কারণে আমি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। আমার মনে শুধু একটি প্রশ্নই ঘুরপাক খেত-একজন মানুষ, যে এত ইবাদত করল, এত যিকির করল, তার পরিণতি কেন এমন হলো।

এরপর এক রাতে আমি স্বপ্নে দেখলাম, সেই শিষ্য জাহান্নামের আগুনে শাস্তি ভোগ করছে। আমি তাকে বললাম, 'তুমি তো আমার সবচেয়ে উত্তম শিষ্যদের একজন ছিলে। তোমার এই পরিণতি কেন হলো?'

সে উত্তর দিল, 'আমার তিনটি গুনাহ আমাকে ধ্বংস করেছে-

প্রথমত, আমি চোগলখুরি (নামীমাহ) করতাম। একজনের কথা আরেকজনের কাছে পৌঁছে দিয়ে মানুষের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি করতাম।

দ্বিতীয়ত, আমার অন্তর হিংসায় (হাসাদে) পূর্ণ ছিল। অন্যের নিয়ামত আমি সহ্য করতে পারতাম না।

আর তৃতীয়ত, একবার অসুস্থতার সময় একজন চিকিৎসক আমাকে ওষুধ হিসেবে অল্প পরিমাণ মদ পান করতে বলেছিলেন। পরে সেই মদের প্রতি আমার আসক্তি তৈরি হয়। এরপর আমি গোপনে গোপনে তা পান করতে শুরু করি। [আয-যুনূব ওয়াল মাআ'সী তারিকুত-তাআ'সা]

প্রিয় ভাইয়েরা, দেখুন! লোকটি তিনটি বড় গুনাহে আসক্ত হয়ে পড়েছিল। গুনাহগুলো সে একদিন বা দুদিন করেনি; বরং সেগুলো তার স্বভাবে পরিণত হয়েছিল। আর গুনাহ যখন অভ্যাসে পরিণত হয়, তখন মানুষ অনেক সময় সেটাকে আর গুনাহ-ই মনে করে না। এটাই সবচেয়ে বড় বিপদ। এটাই ঈমানের জন্য সবচেয়ে বড় ক্ষতিকর।

তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজের আমলের হিসাব নেওয়া। আমরা কি কোনো গুনাহকে জীবনের অংশ বানিয়ে ফেলিনি? হয়তো কেউ মোবাইলে হারাম জিনিস দেখার নেশায় আক্রান্ত। কেউ বছরের পর বছর গীবত করে চলেছে। কেউ মিথ্যাকে স্বাভাবিক অভ্যাসে পরিণত করেছে। কেউ অপবাদ, পরনিন্দা বা মানুষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতেই অভ্যস্ত। আবার এমনও হতে পারে, আমাদের এমন কিছু গোপন গুনাহ রয়েছে, যা পৃথিবীর কেউ জানে না; কিন্তু আল্লাহ তাআলা সবই জানেন।
#খুতুবাত
Umayer Kobbadi
8680012
Hope logo
Hope

১৫ অক্টো, ২০২৬, ১৩:৫৮

মহব্বতের ছোট ভাই বলল, তার স্ত্রী পর্দা করতে চায়। বেশ মজবুত। কিন্তু তার মা নারাজ। মামা, চাচারা আসলে ছেলের বউ দেখতে চায়। চা নিয়ে তো সামনে যাওয়া দরকার। এসব নিয়ে নানা যন্ত্রণা চলছে।

বললাম, তোমার ভাগ্য খুব ভালো, এত ভালো একটা মেয়ে পেয়েছ। কিন্তু তোমার স্ত্রীর ভাগ্য কি ভালো?

-না ভাই।

-তুমি তো তাকে বিয়ে করে একটা বিপদে ফেলে দিয়েছ।

ছেলেটা স্বীকার করল।

প্রিয় ভাইয়েরা, ঘরে পর্দার পরিবেশ কায়েম না করে রেডিমেড দ্বীনদার মেয়ে বিয়ের চিন্তা একধরনের কাপুরুষোচিত কাজ। এই মেয়েটা একটা প্রতিষ্ঠিত দ্বীনী ঘরে বিয়ে হলে কত সুখে থাকত। আপনি তাকে বিয়ে করে তো একটা জাহান্নামে আনতে চাচ্ছেন।

আগে ঘরে দ্বীনী পরিবেশ কায়েম করুন। এটা ফেসবুকে পোস্টের মতো, বা বাংলা সিনেমায় নায়ক আলমগীর ফেরি করে কাপড় বিক্রি করতে করতে শিল্পপতি হয়ে যাওয়ার মতো আচানক কোনো ঘটনা না। এ জন্য ধৈর্য ধরে মেহনত করে যেতে হবে। নিয়মিত তালীম করতে হবে। সাপ্তাহিক মাস্তুরাতের তালীমের পয়েন্টে পাঠাতে হবে। মাঝেমধ্যে তিন দিনের জন্য বের হতে হবে।

মেহনত করুন। নাকি কান্না না করে পুরুষের মতো মেহনত করুন। ফল পাবেন ইনশাআল্লা - হোসাইন ভাই
@RijalatTaqwa
8820017
Hope logo
Hope

১৫ অক্টো, ২০২৬, ০৫:৫২

বর্ণনাকারী: আবূ যার (রাঃ)

তিনি বলেন, নবী করীম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেন, “কোন ভাল কাজকে তুচ্ছ ভেবো না, যদিও তা তোমার ভাইয়ের সাথে হাসি মুখে সাক্ষাৎ করার কাজ হয়।” (মুসলিম ২৬২৬)

১০০ সুসাব্যস্ত হাদিস, হাদিস নং ৮০
হাদিসের মান: সহিহ
9230020
Hope logo
Hope

১৪ অক্টো, ২০২৬, ০৫:৩৬

জীবনে সামান্য কিছু এদিক-সেদিক হলেই আমরা দুশ্চিন্তায় পড়ে যাই, হতাশ হয়ে যাই। মনের ভেতর একটা অস্থিরতা লেগেই থাকে।
.
মনের এই অসুখের কথা বলা হয়েছে, একটা উপমা দিয়ে:
.
“মানুষের মন যখন আল্লাহকে ভুলে কেবল পার্থিব উপায়-উপকরণের (মাধ্যম বা মানুষের) ওপর ভরসা করতে শুরু করে, তখন সে আসলে এক মারাত্মক ফাঁদে আটকে যায়—ঠিক যেমন কোনো পাখি শিকারির পাতা জালে আটকা পড়ে।”
.
মুখে আমরা বলি, সব আল্লাহর ইচ্ছা। কিন্তু মনের ভেতর অন্য হিসাব চলে। ভাবি, এই চাকরিটা বা এই মানুষটার রেফারেন্স না পেলে আমার ভবিষ্যৎ নেই। টাকা না থাকলে সব শেষ। অমুক ডাক্তার ছাড়া আমাকে বাঁচানোর কেউ নেই। অজান্তেই আমরা ধরে নিই, ফলাফল দেওয়ার ক্ষমতা ওই মানুষ বা ওই মাধ্যমের হাতে। মনের অশান্তি শুরু হয় এখান থেকেই।
.
একটি হাদিস আছে:
.
“আল্লাহ তাআলা তাঁর ইনসাফের কারণে মনের শান্তি, স্বস্তি আর আনন্দকে রেখে দিয়েছেন সন্তুষ্টি ও দৃঢ় বিশ্বাসের (ইয়াকিন) মধ্যে। আর যাবতীয় দুশ্চিন্তা, দুঃখ আর হতাশাকে রেখে দিয়েছেন সন্দেহ ও ক্ষোভের মধ্যে।”
.
মন যতদিন মানুষের সাহায্য আর জাগতিক উসিলার দিকে তাকিয়ে থাকবে, ততদিন হতাশা আর মানসিক কষ্ট পিছু ছাড়বে না। যখন অন্তরে এই বিশ্বাস দৃঢ় হয় যে দুনিয়ার সবকিছু কেবল উসিলা, দেওয়া আর নিয়ন্ত্রণ করার মালিক একমাত্র আল্লাহ, তখন ভেতরটা হালকা হয়ে আসে।
.
চেষ্টা আপনি পুরোটাই করবেন, পার্থিব সব উপায় অবলম্বন করবেন। কিন্তু ভরসা রাখবেন শুধু আল্লাহর ওপর।
.
আল্লাহ তাআলার একটি বাণী আছে, যা তিনি দাউদ (আলাইহিস সালাম)-কে বলেছিলেন:
.
“দাউদ, তুমি কি জানো আমি কখন আমার বান্দার সব দায়িত্ব নিজের দায়িত্বে তুলে নিই? যখন সে তার মন থেকে অন্য সবকিছুর ওপর নির্ভরতা ছুড়ে ফেলে দিয়ে, খাঁটি মনে শুধু আমার ওপর ভরসা করে।”
.
মাধ্যমের পেছনে ছুটতে গিয়ে আমরা যেন আসল রিজিকদাতাকে ভুলে না যাই। হাত দিয়ে চেষ্টা করুন, মন বেঁধে রাখুন আল্লাহর সাথে।- সুফিয়ান ভাই
1,2600027
Hope logo
Hope

১৪ অক্টো, ২০২৬, ০৫:৩৬

Photo1/2
972000
Hope logo
Hope

১৩ অক্টো, ২০২৬, ১৯:৩৪

খলিফাতুল মুসলিমীন উমর ইবনু আব্দিল আযিয রহিমাহুল্লাহর কাছে যাকাতের সম্পদ উত্তোলন করে আনা হলো। তিনি এগুলো দরিদ্রদের মধ্যে বণ্টন করে দেয়ার আদেশ দিলেন। কর্মকর্তারা জানালেন ইসলামি খিলাফতের সীমানায় কোথাও কোনো দরিদ্র অবশিষ্ট নেই। কেউ যাকাত নিতে ইচ্ছুক নয়।

উমর এবার যাকাতের অর্থে সেনাবাহিনীর সামর্থ্য বাড়ানোর নির্দেশ দিলেন। সেনাপতিরা জানালেন ইসলামি সেনাবাহিনী তো দুনিয়াকে জয় করার জন্য প্রস্তুত!

তিনি এবার যুবকদের বিয়ের ব্যবস্থা করতে বললেন। তারা তা-ই করলেন। যারা বিয়ে করতে চায় তাদের বিয়ে দিলেন। এরপরও অনেক যাকাত রয়ে গেলো। উমরের কাছে আবারো গেলে তিনি যাকাতের অর্থে নাগরিকদের মধ্যকার ঋণগ্রস্তদের ঋণ পরিশোধ করার নির্দেশ দিলেন। সব পরিশোধ করার পরও সম্পদ রয়ে গেলো।

এবার যারা অমুসলিম নাগরিক ছিলো তাদের কারো ঋণ থাকলে কিংবা প্রয়োজনগ্রস্থ তাদের প্রয়োজন পূরণ করা হলো। এরপরও যখন যাকাত রয়ে গেলো তখন আমীরুল মুমিনীন নির্দেশ দিলেন:

'এই সম্পদ দিয়ে গম কিনে পাহাড়ের চূড়ায় ছড়িয়ে দাও। যেন মুসলিমদের দেশে একটি পাখিও না খেয়ে আছে একথাও কেউ বলতে না পারে।'

রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম ওয়ারদ্বাহ।
1,1800026
Hope logo
Hope

১৩ অক্টো, ২০২৬, ০৫:৪৫

আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু ‘আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চিন্তাযুক্ত ও পেরেশানির সময় এই দোআটি সবচেয়ে বেশি পড়তেন:
.
" اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الهَمِّ وَالحَزَنِ، وَالعَجْزِ وَالكَسَلِ، وَالبُخْلِ وَالجُبْنِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ، وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ "

অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাইছি দুশ্চিন্তা ও পেরেশানি থেকে, অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও কাপুরুষতা থেকে, ঋণের বোঝা থেকে এবং মানুষের আধিপত্য (দমন-পীড়ন) থেকে।”
.
প্রামাণিক তথ্যসূত্র:
সহীহ আল-বুখারী (হাদিস নং: ২৮৯৩, ৬৩৬৯),
সহীহ মুসলিম (হাদিস নং: ২৭০৬)
1,0900016
Hope logo
Hope

১২ অক্টো, ২০২৬, ১৯:৪৫

ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ রহিমাহুল্লাহ যখন কুরআন পড়তে পড়তে এই আয়াতে পৌছলেন,
“মুত্তাক্বীরা থাকবে বাগান আর ঝর্ণাধারার মাঝে, প্রকৃত সম্মান ও মর্যাদার স্থানে, সর্বময় কর্তৃত্বের অধিকারীর নিকটে” (সূরা ক্বমার : ৫৪-৫৫) তখন তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন।

শায়খ মুহাম্মাদ রাশিদ রিদ্বা কুরআনে বিখ্যাত তাফসিরকারক। তিনি যখন এই আয়াতের তাফসির শেষ করলেন,
“…আপনিই দুনিয়া আর আখিরাতে আমার অভিভাবক, আপনি মুসলিম অবস্থায় আমার মৃত্যু দান করুন এবং আমাকে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত করুন” (সূরা ইউসূফ : ১০১) তখন তিনি মৃত্যুবরণ করলেন।

বিখ্যাত মুহাদ্দিস হাফিজ ইবনু হাজার আসক্বালানি রহিমাহুল্লাহর মৃত্যুটা হয়েছিল এই আয়াত পাঠের পর,
“পরম দয়ালু রবের পক্ষ হতে তাদেরকে বলা হবে ‘সালাম’” (সূরা ইয়াসিন : ৫৮)।

আমরা কুরআনকে ভালোবাসি, কুরআনে হক্ব আদায় করি, সহীহ ও সঠিকভাবে কুরআন পড়তে শিখি। আল্লাহ রব্বুল ‘আলামীন আমাদেরকেও কুরআনের সাথে মৃত্যুবরণ করার তৌফিক দান করুন।
1,1700021
Hope logo
Hope

১২ অক্টো, ২০২৬, ০৫:২৯

"মানুষ কী বলবে" বা "লোকে কী ভাববে", এই চিন্তা আমাদের অনেক ভালো কাজ আটকে দেয়।
.
আল-ফুযাইল ইবনে ইয়াদ (রহ.) বলেছেন:
.
"মানুষকে দেখানোর জন্য কোনো কাজ করা যেমন রিয়া, তেমনি 'মানুষ কী ভাববে' এই ভয়ে কোনো ভালো কাজ ছেড়ে দেওয়াও এক ধরনের রিয়া। আর খাঁটি নিয়ত হলো এই দুই ফাঁদ থেকেই মুক্ত থাকা।"
.
ধরুন, কেউ মানুষকে দেখানোর জন্য নফল নামাজ পড়ল বা দান করল। এখানে তার ভাবনায় মানুষ প্রাধান্য পেয়েছে।
.
আবার ধরুন, কারো মনে হলো গোপনে একটা দান করবে বা ফেসবুকে একটা ভালো কথা লিখবে। কিন্তু তারপর ভাবল, লোকে হয়তো তাকে শো-অফ মনে করবে, তাই কাজটাই বাদ দিল।
.
এখানেও নিয়তের কেন্দ্রে মানুষই রয়ে গেল। দুই ক্ষেত্রেই আল্লাহর সন্তুষ্টির চেয়ে মানুষের ভাবনা বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
.
ইখলাস চেনার উপায় কী? পাতার ওপরের অংশে যুন-নূন আল-মিশরি (রহ.) খাঁটি নিয়তের তিনটি লক্ষণ উল্লেখ করেছেন:
.
১. প্রশংসা ও নিন্দা সমান মনে হওয়া। মানুষ প্রশংসা করুক বা নিন্দা, তাতে ভালো কাজের গতি কমে না, বাড়েও না। কাজটা হয় শুধু আল্লাহর জন্য।
.
২. নিজের আমল ভুলে যাওয়া। ভালো কাজ করার পর তা নিয়ে অহংকার থাকে না, বড় কিছু করে ফেলেছি এমন মনে হয় না। বরং মনে হয়, আল্লাহ তাওফিক দিয়েছেন বলেই পেরেছি।
.
৩. প্রতিদান শুধু আখেরাতে আশা করা। দুনিয়ায় কারো কাছ থেকে ধন্যবাদ বা বাহবার প্রত্যাশা না রাখা। হিসাবটা থাকে শুধু আল্লাহর সাথে।
.
মানুষকে খুশি করার চেষ্টার কোনো শেষ নেই। যা-ই করা হোক, সবাইকে খুশি করা যায় না।
.
কিন্তু হিসাব যখন শুধু আল্লাহর সাথে থাকে, তখন মানুষের কথার বোঝা হালকা হয়ে যায়। কেউ প্রশংসা করল কি করল না, তাতে আর তেমন কিছু যায়-আসে না।
.
আল্লাহ আমাদের প্রতিটি কাজ শুধু তাঁর সন্তুষ্টির জন্য করার তাওফিক দিন। আমিন। - সুফিয়ান ভাই
1,2900017
Hope logo
Hope

১২ অক্টো, ২০২৬, ০৫:২৯

Photo1/2
1,010000
Hope logo
Hope

১১ অক্টো, ২০২৬, ১৩:৫১

.
উপরে উল্লিখিত হাদীসগুলো দ্বারা জানা গেলো যে, জামা‘আতে সলাত আদায়ের সময় যদি মুক্তাদী ইমাম সাহেবের সূরা ফাতিহা শেষে ‘আ-মীন’ বলা শুনে পূর্ণ মনোযোগ, ভীতি ও একনিষ্ঠতা সহকারে ‘আ-মীন’ বলে এবং তা যদি ফেরেশতাগণের ‘আ-মীন’ বলার সাথে মিলে যায় তাহলে তার পূর্বের সকল সগীরা গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। আর যদি তার ‘আমলনামায় সগীরা গুনাহ না থাকে তাহলে তার কাবীরা গুনাহ (যদি থাকে) হালকা করে দেয়া হবে, ইন্শা-আল্লা-হ। [১৩]
.
.
❒ রেফারেন্স:
.
[১] সহীহ মুসলিম : ৫৬৬।
[২] সুনান আবূ দাঊদ : ৯০৫; সহীহুত তারগীব : ২২১ হাদীসটি সহীহ।
[৩] সুনান আন্ নাসায়ী : ১৪৪, সুনান ইবনু মাজাহ : ১৩৯৬, হাদীসটির সহীহ।
[৪] সহীহুল বুখারী : ১৫৯, ১৬৪, সহীহ মুসলিম : ৫৬০, ৫৬১।
[৫] শারহু সহীহ মুসলিম, খ. ৩, পৃ. ১০৮।
[৬] শারহু সহীহ মুসলিম, খ. ৩, পৃ. ১০৮।
[৭] সহীহ মুসলিম : ৫৬৫।
[৮] সহীহ মুসলিম : ৫৬২।
[৯] গগণবিদারী চিৎকার করে নয়, স্বাভাবিক উচ্চ আওয়াজে বলতে হবে।
[১০] সহীহুল বুখারী : ৭৮২; সহীহ মুসলিম : ৯৪৭।
[১১] সহীহুল বুখারী : ৭৮০, সহীহ মুসলিম : ৯৪২।
[১২] সহীহুল বুখারী : ৭৮০-৭৮২, ৪৪৭৫, ৬৪০২; সহীহ মুসলিম : ৯৪২, ৯৪৪-৯৪৫।
[১৩] মিন মুকাফফিরাতিয যুনূব, পৃ. ২৩।
▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂
.
লেখাঃ শাহাদাৎ হুসাইন খান ফয়সাল (রহ.)
1,270009
Hope logo
Hope

১১ অক্টো, ২০২৬, ১৩:৫১

ইসলামে এমন কিছু ‘আমল রয়েছে যেগুলোর কোন একটি যিনি করবেন তার পূর্বের জীবনের সমস্ত পাপ ক্ষমা করে দেয়া হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
.
নিম্নে সেসব ‘আমলগুলো সংক্ষেপে বর্ণনা করা হলো :
.
★. উযূ করা :
.
কেউ যদি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর দেখানো পদ্ধতিতে উযূ করে তার পূর্বের সমস্ত পাপ ক্ষমা করে দেয়া হবে। একদিন তৃতীয় খলীফা ‘উসমান বিন ‘আফ্ফান উযূ করার পর বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে আমার এই উযূর মত উযূ করতে দেখলাম। অতঃপর তিনি বললেন, ‘‘যে ব্যক্তি এরূপ উযূ করবে, তার পূর্বের পাপরাশি মাফ করা হবে এবং তার সলাত ও মাসজিদের দিকে চলার সাওয়াব অতিরিক্ত হিসেবে গণ্য হবে।’’ [১]
.
★. সুন্দর করে উযূ করে দুই রাক্‘আত সলাত আদায় করা :
.
শুধু উযূ করলেও যেমন গুনাহ মাফ হয় তেমনি অন্য হাদীস মোতাবেক কেউ যদি সুন্দরমত উযূ করে কোন ভুল ছাড়াই পূর্ণ মনোযোগ সহকারে দুই রাক্‘আত সলাত আদায় করে তাহলেও তার বিগত জীবনের সকল পাপ ক্ষমা করে দেয়া হয়।
.
যায়দ বিন খালিদ আল জুহানী বলেন, নাবী (সা.) বলেছেন : ‘‘যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে উযূ করে, কোন ভুল না করে (একাগ্রচিত্তে) দুই রাক‘আত সলাত আদায় করে, সেই ব্যক্তির পূর্বেকার সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়।’’ [২]
.
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : ‘‘(আল্লাহ ও তার রাসূলের) নির্দেশনা মোতাবেক যে ব্যক্তি উযূ করবে এবং নির্দেশনা মোতাবেক সলাত আদায় করবে তার পূর্বে ‘আমলের গুনাহগুলো মাফ করে দেয়া হবে।’’ [৩]
.
‘উসমান উযূ করা শেষ করে বললেন, আমি নাবী (সা.)-কে দেখেছি, আমি এইমাত্র যেভাবে উযূ করেছি তিনি সেভাবেই উযূ করেছেন। তারপর তিনি বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি আমার মতো এ রকম উযূ করবে, তারপর দু রাক্‘আত সলাত আদায় করবে, যাতে দুনিয়ার কোন খেয়াল করবে না, তার পেছনের গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।’’ [৪]
.
ইমাম নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন : ‘‘রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কথা ‘যাতে নিজের কোন বাক্যালাপ করবে না’-এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সে দুনিয়ার সাথে সম্পৃক্ত এবং সলাতের সাথে সম্পৃক্ত নয় এমন কোন কাজ করবে না। যদি তার সামনে কোন কথা বলা হয় তাহলে সে তা এড়িয়ে যাবে আর স্বল্প প্রতি উত্তর দিবে। তাহলে তাকে মাফ করে দেয়া হবে এবং হাদীসে বর্ণিত ফযীলত সে পেয়ে যাবে, ইনশা-আল্লা-হ। কারণ এতটুকু তার ইচ্ছকৃত কর্মের অন্তর্ভুক্ত নয়। এই উম্মাতের সেসব ভুল ধরা হয় না যা অনাকাঙিÿতভাবে সামনে চলে আসা পরিস্থিতির কারণে করতে হয় কিন্তু তার উপরে অটল থাকে না।’’ [৫]
.
ইমাম নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) আরও বলেন, ‘‘অত্র হাদীসে গুনাহ মাফ দ্বারা সগীরা গুনাহ মাফের কথা উদ্দেশ্য করা হয়েছে; কাবীরা গুনাহ নয়। আর এই হাদীস দ্বারা প্রত্যেকবার উযূর পরপরই দুই বা ততোধিক রাক্‘আত সলাত আদায় করা মুস্তাহাব ‘আমল প্রমাণিত হলো। এ ‘আমল সুন্নাতে মুয়াক্কাদাও।’’ [৬]
.
★সলাতের সময় হলে উত্তমরূপে উযূ করে উত্তমরূপে সলাত আদায় করা :
.
খলীফা ‘উসমান হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন : ‘‘কোন মুসলিম ব্যক্তির যখন কোন ফরয সলাত-এর ওয়াক্ত হয় আর সে সলাত-এর উযূকে উত্তমরূপে করে, সলাত-এর ভিতরে বিনয় ও রুকূ‘ উত্তমরূপে আদায় করে, তাহলে যতক্ষণ না সে কোন কাবীরা গুনাহে লিপ্ত হবে, তার এই সলাত তার পূর্ববর্তী যাবতীয় গুনাহের জন্য কাফ্ফারা হয়ে যাবে। তিনি বলেন, আর এ অবস্থা সর্বযুগেই বিদ্যমান।’’ [৭]
.
নাবী (সা.) বলেছেন : ‘‘যেই মুসলিম ব্যক্তি উযূ করবে এবং উযূকে সুন্দরভাবে আদায় করবে, অতঃপর সলাত আদায় করবে সেই ব্যক্তির এই সলাত ও তার পূর্ববর্তী সলাত-এর মধ্যবর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। [৮]
.
★ ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা শেষে ‘‘আ-মীন’’ বলা :
.
ইমামের পিছনে জামা‘আতে সলাত আদায়কালে ইমাম সূরা ফাতিহার শেষ আয়াত ‘গাইরিল মাগযূবি ‘আলাইহিম ওয়ালায্ যো-ল্লীন’ পড়া শেষ করে তখন উচ্চৈঃস্বরে [৯] ‘আ-মীন’ বলা সুন্নাত।
.
যে ব্যক্তি এমন করে ‘আ-মীন’ বলবে আর তার ‘আ-মীন’ বলার সাথে ফেরেশতাগণের ‘আ-মীন’ বলা মিলে যাবে তাহলে তার জীবনের পূর্বের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।
.
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন : ‘‘ইমাম যখন ‘গাইরিল মাগযূবি ‘আলাইহিম ওলায্ যো-ল্লীন’ বলে তখন তোমরা ‘আ-মীন’ বল। কারণ যার ‘আ-মীন’ বলা ফেরেশতাদের ‘আ-মীন’ বলার সাথে মিলে যায়, তার পূর্বেকার সকল পাপ মাফ করে দেয়া হয়।’’ [১০]
.
অন্য এক বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন : ‘‘ইমাম যখন ‘আ-মীন’ বলবে, তখন তোমরাও ‘আ-মীন’ বল। কারণ, যার ‘আ-মীন’ বলা ফেরেশতাদের ‘আ-মীন’ বলার সাথে সাথে হয়, তখন তার পূর্বেকার গুনাহগুলো মাফ করে দেয়া হয়।’’ [১১]
.
আরো এক বর্ণনায় তিনি বলেন, ‘‘তোমাদের কেউ যখন সলাতে ‘আ-মীন’ বলে এবং ফেরেশতারা আকাশে ‘আ-মীন’ বলেন, আর পরস্পরে ‘আ-মীন’ বলা সমস্বরে হয়, তখন তার পূর্বের পাপরাশি মাফ করে দেয়া হয়।’’ [১২]
1,0800010
Hope logo
Hope

১০ সেপ, ২০২৬, ১১:৫২

https://t.me/ayatannur চ্যানেল এ প্রতিদিন কুরআনের তাফসীর পোস্ট হচ্ছে, পড়তে পারেন ইন শা আল্লাহ...
951007
Hope logo
Hope

১০ সেপ, ২০২৬, ১১:৫২

🌸সিরিজ: রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম....

🍁পর্ব: ৩.৯  (সাহাবীদের আনুগত্য... )

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. একটি গাধার উপর সওয়ার হয়ে মক্কা থেকে বের হচ্ছিলেন। পথিমধ্যে এক বেদুঈনের সঙ্গে সাক্ষাত হ। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি অমুকের ছেলে অমুক? বেদুঈন উত্তরে বলল, হ্যাঁ। তিনি সঙ্গে সঙ্গে গাধা হতে নেমে গাধাটি ও নিজের পাগড়িটি ওই বেদুঈনের হাতে তুলে দিয়ে বললেন, এখন থেকে গাধাটি আপনার বাহন। আর পাগড়িটাও আপনি পরিধান করুন। সাথীরা অবাক হয়ে প্রশ্ন করল, আপনি নিজের পাগড়ি ও বাহন এক বেদুঈনকে দিয়ে দিলেন? ইবনে ওমর রা. জবাব দিলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, পিতার বন্ধুর পরিবারের সাথে সুসম্পর্ক রাখাও পিতার সঙ্গে সদাচরণের অন্তর্ভুক্ত। এই বেদুঈনের পিতা ওমর রা.—এর বন্ধু ছিলেন।প্রাগুক্ত, হাদীস : ২৫৫২

এভাবে কদমে কদমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—এর জীবনাদর্শের অনুসরণের মাধ্যমে সাহাবায়ে কেরাম চরিত্র—মাধুর্যে মহীয়ান হয়ে উঠেছিলেন। তাদের চরিত্রে নবী—চরিত্রের আভাষ ফুটে উঠেছিল

সাহাবায়ে কেরাম সুন্নাহর অনুসরণে যেমন ছিলেন নিবেদিত, তেমনি বিদআতের বিরুদ্ধে ছিলেন আপোষহীন। হযরত ওমরের খেলাফতকালের ঘটনা। হুদায়বিয়ার প্রান্তরে যে গাছের নিচে বসে ঐতিহাসিক ‘বাইআতে রিযওয়ান’ সম্পন্ন হয়েছিল, বরকতের আশায় সেখানে মানুষ নামায পড়তে আরম্ভ করে। এ কথা খলীফার কানে গেলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে গাছটি কেটে ফেলার নির্দেশ দেন এবং স্পষ্ট ভাষায় ভাষণ দেন, ‘ হে লোক সকল! তোমরা তো ওই লাত—ওযযার জীবনে ফিরে যাচ্ছ। আজ থেকে যে ওই গাছের কাছে যাবে তাকে মুরতাদের মতো হত্যা করা হবে।’ফাতহুল বারী ৭/৫১৩

সিরিয়ায় হযরত ইবনে ওমর রা.—এর এক ঘনিষ্ট বন্ধু ছিল। প্রায়ই তাদের মাঝে পত্র যোগাযোগ হত। ওই বন্ধুর ব্যাপারে একবার তার কাছে এ সংবাদ এল যে, সে ‘তাকদীর’ নিয়ে সন্দিহান অর্থাৎ তাকদীর সম্পর্কে সুন্নাহ—পরিপন্থী বিশ্বাস পোষণ করে থাকে। শুনামাত্রই একটি পত্রের মাধ্যমে তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে লিখলেন-শুনেছি, তুমি তাকদীর নিয়ে বাড়াবাড়িতে লিপ্ত। সাবধান আর কোনো দিন তুমি আমার কাছে পত্র লিখবে না। কারণ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, অচিরেই আমার উম্মতে এমন কিছু লোক আসবে যারা তাকদীরকে অস্বীকার করবে। মুসনাদে আহমাদ ২/৯০

আগের পর্ব
1,160007
Hope logo
Hope

১০ সেপ, ২০২৬, ১১:৫২

গতকাল একজন আলেমের পারিবারিক সালিশে অংশগ্রহণ করার সুযোগ হয়েছিল। তাঁর সম্পর্কে আমার বেশ ভালো ধারণা ছিল। কিন্তু সালিশের একপর্যায়ে তাঁর ব্যাপারে এমন একটি ঘটনার প্রমাণসহ উপস্থাপন করা হলো, যা আমাকে রীতিমতো স্তম্ভিত করে দিল। বিষয়টি ছিল নারীর ফিতনা। মনে হলো, শয়তান তাঁকে এমন এক পরীক্ষার মধ্যে ফেলে দিয়েছিল, হয়তো আর কিছু সময় সুযোগ পেলে চূড়ান্ত পদস্খলনও ঘটিয়ে দিতে পারত।

আমি অত্যন্ত কষ্ট পেলাম। নিজের মনকে সামলাতে পারছিলাম না। একজন আলেম, একজন দাঈ—তাঁর ব্যাপারে এমন ঘটনা সামনে আসবে, তা আমার কল্পনাতেও ছিল না।

ঠিক সেই সময় আমার পরিচিত সর্বজন শ্রদ্ধেয় একজন মুরুব্বি আলেম আমাকে আবু হুরায়রা রা.-এর একটি ঘটনা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সান্ত্বনা দিলেন।

আবু হুরায়রা রা. নিজের ব্যাপারে এতটাই ভীত ও সতর্ক ছিলেন যে, তিনি সিজদায় আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন—যেন তিনি ব্যভিচারে লিপ্ত না হন, চুরি না করেন, কুফরিতে না পড়েন এবং কোনো কবিরা গুনাহে জড়িয়ে না পড়েন।

তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো:

“আপনি কি এসবের আশঙ্কা করেন?”

তিনি বললেন:

مَا يُؤَمِّنُنِي وَإِبْلِيسُ حَيٌّ، وَمُصَرِّفُ الْقُلُوبِ يُصَرِّفُهَا كَيْفَ يَشَاءُ

“ইবলিস জীবিত থাকা অবস্থায় আমাকে কে নিরাপদ মনে করাবে? আর অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী তো সেগুলোকে যেভাবে চান সেভাবেই পরিবর্তন করেন।”

এই কথাটি শুনে আমার হৃদয় কেঁপে উঠল।

যে আবু হুরায়রা রা. রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সাহাবি, ঈমান ও তাকওয়ার অনন্য দৃষ্টান্ত, তিনিও নিজের ব্যাপারে নিরাপদ ছিলেন না। তিনি জানতেন শয়তান জীবিত, সে মানুষকে পদস্খলিত করার জন্য সর্বদা ওত পেতে আছে। আর মানুষের অন্তর আল্লাহর হাতে।

তাহলে আমরা কে যে নিজেদের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হয়ে যাব?

আজ আমরা হয়তো কোনো গুনাহ থেকে দূরে আছি। কিন্তু শয়তান আমাদের ছেড়ে দেয়নি। সুযোগ পেলেই সে মানুষের দুর্বলতার জায়গায় আঘাত করে। বিশেষ করে নারীর ফিতনাহ এমন এক পরীক্ষা, যার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ ﷺ উম্মতকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন।

তাই কোনো আলেম, কোনো বুযুর্গ, কোনো দ্বীনের কর্মী—কেউই নিজের নফস ও শয়তানের ব্যাপারে আত্মতুষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই। বরং যত বেশি দ্বীনের সঙ্গে সম্পর্ক, তত বেশি বিনয়, আত্মসচেতনতা এবং আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা প্রয়োজন।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ

“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে কখনো মৃত্যুবরণ করো না।”

— সূরা আলে ইমরান, ৩:১০২

অতএব, হে মুমিনগণ! নিজেদের ঈমান ও পরিণতি নিয়ে কখনো নিশ্চিন্ত হয়ে যাবেন না। আল্লাহকে ভয় করুন, নিজের নফসকে ভয় করুন এবং শয়তানের ধোঁকা থেকে সর্বদা সতর্ক থাকুন।

বিশেষ করে নারীর ফিতনা থেকে নিজেকে কঠোরভাবে হেফাজত করুন। দৃষ্টি সংযত করুন, নির্জনতা থেকে বেঁচে থাকুন, অপ্রয়োজনীয় যোগাযোগ পরিহার করুন এবং এমন কোনো দরজা খুলবেন না, যে দরজা দিয়ে শয়তান আপনার অন্তরে প্রবেশ করতে পারে।

মনে রাখবেন—পদস্খলন হঠাৎ ঘটে না; অনেক সময় তার আগে মানুষ ছোট ছোট দরজা খুলে দেয়। আর শয়তান সেই দরজাগুলো দিয়েই প্রবেশ করে।

তাই আবু হুরায়রা রা.-এর সেই কথাটি আমাদের হৃদয়ে গেঁথে রাখা উচিত:

مَا يُؤَمِّنُنِي وَإِبْلِيسُ حَيٌّ

“ইবলিস জীবিত থাকা অবস্থায় আমাকে কে নিরাপদ মনে করাবে?”

হে আল্লাহ! আমাদের ঈমানকে হেফাজত করুন। আমাদের অন্তরকে দ্বীনের ওপর অটল রাখুন। শয়তানের কুমন্ত্রণা, নফসের প্রবঞ্চনা এবং নারী-পুরুষের সকল ফিতনা থেকে আমাদের রক্ষা করুন। আমাদের জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ঈমানের ওপর অটল রাখুন এবং ঈমানের সঙ্গে উত্তম মৃত্যু দান করুন।

আমীন ইয়া রাব্বাল আলামীন। - সংগৃহীত
1,1000013
Hope logo
Hope

১০ সেপ, ২০২৬, ১১:৫২

দুআ কবুলের উত্তম সময় চলছে...

জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, জুমার দিনে এমন একটা সময়ে রয়েছে, যাতে আল্লাহর বান্দা আল্লাহর ক‍াছে যা চায় আল্লাহ তাই দেন। অতএব তোমরা আছরের শেষ সময়ে তা তালাস করো। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৮, নাসাঈ, হাদিস : ১৩৮৯)

আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন—
জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে, সেই সময়টায় যদি কোনো মুসলিম নামাজ আদায়রত অবস্থায় থাকে এবং আল্লাহর কাছে কিছু চায়, আল্লাহ অবশ্যই তার সে চাহিদা বা দোয়া কবুল করবেন এবং এরপর রাসুল (সা.) তার হাত দিয়ে ইশারা করে সময়টির সংক্ষিপ্ততার ইঙ্গিত দেন। (বুখারি, হাদিস : ৬৪০০)

আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) বর্ণনা করেন, শুক্রবারে আছরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দোয়া কবুল হয়। বিখ্যাত সিরাতগ্রন্থ যাদুল মাআ’দ-এ বর্ণিত আছে, জুমার দিন আছরের নামাজ আদায়ের পর দোয়া কবুল হয়। (যাদুল মাআ’দ : ২/৩৯৪)

ইমাম আহমদ (রহ.)-ও একই কথা বলেছেন। (তিরমিজির ২য় খণ্ডের ৩৬০ নং পৃষ্ঠায় কথাটি উল্লেখ আছে)
9670016
Hope logo
Hope

১০ সেপ, ২০২৬, ১১:৫২

🌸সিরিজ: রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম....

🍁পর্ব: ৩.৮  (সাহাবীদের আনুগত্য... )

সাহাবী আবু যর গিফারী রা. একদিন একটি ডোরাকাটা সুন্দর চাদর গায়ে জড়িয়ে ‘রাবায়া’ নামক স্থানে বসেছিলেন। পাশে ঠিক একই মানের ও একই রংয়ের চাদর গায়ে তার গোলামও বসেছিল। এটা দেখে গোত্রের লোকেরা বলল, ওই চাদরটি যদি আপনি লুঙ্গি হিসেবে পরিধান করতেন তবে সুন্দর লাগত। তাকে অন্য একটি কাপড় দিলেও তো চলত। আবু যর রা. বললেন, আমার একজন গোলাম ছিল, যাকে অনারব বলে একদিন কটুক্তি করেছিলাম। সে গিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—এর কাছে অভিযোগ করল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ডেকে বললেন, ‘ হে আবু যর! তোমার মাঝে এখনও জাহেলিয়াতের রেশ রয়ে গেছে। যাদেরকে আল্লাহ তোমাদের অধীন করেছেন, তারা তোমাদেরই ভাই। অতএব তোমরা যা খাবে তাদেরও তাই খাওয়াবে, তোমরা যা পরবে তাদেরকেও তাই পরতে দিবে। সাধ্যাতীত কোনো কাজ তাদের উপর চাপাবে না। পছন্দ না হলে বিক্রি করে দাও তবুও আল্লাহর মাখলুককে কষ্ট দিও না। সহীহ বুখারী, হাদীস : ৩০; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ৫১৫৮

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. মসজিদে নববীতে ইতেকাফরত ছিলেন। এক আগন্তুক এসে সালাম দিয়ে তার সামনে বসল। আগন্তুকের চোখে—মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ, কপালে পেরেশানির ভাজ। ইবনে আব্বাস রা. বললেন, তোমাকে এত বিমর্ষ দেখাচ্ছে কেন? আগন্তুক বলল, হে রাসূলুল্লাহর চাচাতো ভাই! অমুকের কাছে আমার কিছু ঋণ আছে। আর এই কবরে শায়িত মহামানবের ইজ্জতের কসম, তা আদায়ের সামর্থ্য আমার নেই। ইবনে আব্বাস রা. বললেন, আমি কি ঋণদাতার সঙ্গে তোমার ব্যাপারে কথা বলব? আগন্তুক সম্মতি দিলে তিনি জুতা পরে মসজিদ থেকে বের হতে উদ্যত হলেন। আগন্তুক বিস্ময়ভরা কণ্ঠে প্রশ্ন করল, জনাব! ইতেকাফের কথা কি ভুলে গেলেন? তিনি উত্তর দিলেন, না, ভুলিনি। এরপর অশ্রম্নসজল চোখে নবীজীর কবরের দিকে ইশারা করে বললেন, বেশি দিনের কথা নয়, আমি কবরে শায়িত মহামানবকে বলতে শুনেছি- যে তার ভাইয়ের কোনো প্রয়োজনে বের হয়ে তা পূরণ করল, তার এ আমল দশ বছরের ইতেকাফের চেয়েও উত্তম। তবারানী, আওসাত, হাদীস : ৭৩২২; শুআবুল ঈমান, হাদীস : ৩৯৬৫

হযরত আমর ইবনে হুবাইস রা. এবং হযরত হাসান—এর মধ্যে কিছুটা মনোমালিন্য ছিল। তারপরও হযরত হাসান অসুস্থ হলে তিনি তাকে দেখতে যান। এটা দেখে হযরত আলী রা. বললেন, তুমি হাসানের ইয়াদাত করতে এলে? আমর রা. বললেন, আপনি তো আমার প্রভু নন যে, আমার মনকে যেদিকে ইচ্ছা সেদিকে ঘুরিয়ে দিবেন? হযরত আলী রা. বললেন, তাই বলে আমি আমার উপদেশ পৌঁছাতে কার্পণ্য করব না। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, যে মুসলমান তার অসুস্থ ভাইকে দেখতে যায়, সত্তর হাজার ফেরেশতা তার জন্য সকাল হতে সন্ধ্যা অথবা সন্ধ্যা হতে সকাল পর্যন্ত রহমতের দুআ করতে থাকে। মুসনাদে আহমাদ ১/৯৭; মাজমাউয যাওয়াইদ ৩/১৩৪

আগের পর্ব
1,090007
Hope logo
Hope

১০ সেপ, ২০২৬, ১১:৫২

Photo
বেশী বেশী দুরুদ পড়ার সহজ পদ্ধতি!  বৃহস্পতিবার মাগরিব থেকে শুক্রবার আসর পর্যন্ত মোট নামাজ পাঁচ ওয়াক্ত। প্রতি ফরজ নামাজ শেষে ১০০ বার করে দুরুদ শরিফ পড়লে হয় ৫০০ বার। আর মধ্যখানে সুযোগ পেলে ইচ্ছামত বেশী বেশী পড়ুন। এতে একহাজার বার অনায়াসে হয়ে যায়। অন্যান্য দিন দুরুদ পড়া ও জুমার দিনে দুরুদ পড়ার মাঝে একটু পার্থক্য আছে। জুমার দিন দুরুদ শরিফ পড়তে আদেশ দিয়েছেন স্বয়ং রাসুল ﷺ। আসুন, শুরু করি। অন্যকে স্মরণ করিয়ে দেই।সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আল্লাহুম্মা সাল্লি ওয়া সাল্লিম আলা মুহাম্মাদ! - Abdullah Al Monsur (Hafizahullah)

https://t.me/hopedesigncloud
1,0900037
Hope logo
Hope

১০ সেপ, ২০২৬, ১১:৫২

দোয়ার আশ্চর্য শক্তি দেখুন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন
لَا يَرُدُّ الْقَضَاءَ إِلَّا الدُّعَاءُ
দোয়া ছাড়া কিছুই তাকদীর বদলাতে পারে না।

ভাবুন! দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা তাকদীর পর্যন্ত বদলে দেন। দোয়ার শক্তি এখানেই। এটাই দোয়ার মর্যাদা।

অন্যান্য ইবাদতের দিকে তাকান—নামাযে দুনিয়ার উদ্দেশ্য ঢুকলে সওয়াব নষ্ট, রোজায় লোক দেখানো ঢুকলে সব শেষ, হজে শো-অফ ঢুকলে আমল বরবাদ।

কিন্তু দোয়া ব্যতিক্রম! আপনি বললেন, 'হে আল্লাহ! আমাকে তাকওয়া দিন, জান্নাত দিন।' এটা ইবাদত।

আবার বললেন, 'হে আল্লাহ! আমাকে চাকরি দিন, বাড়ি দিন, গাড়ি দিন, টাকা দিন।' এটাও ইবাদত।
চাওয়া যাই হোক—দোয়া তো দোয়াই!

আল্লাহ নিজেই কুরআনে শিখিয়েছেন—
ربَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً....
'হে আমাদের রব! দুনিয়াতে কল্যাণ দিন, আখিরাতেও কল্যাণ দিন, জাহান্নামের আজাব থেকে বাঁচান।'
এরপর আল্লাহ বলেন, 'ওরাই তাদের আমলের পূর্ণ প্রতিদান পাবে।'

তাহলে বলুন, দুনিয়ার জন্য দোয়া করা কীভাবে খারাপ হয়?

দোয়া তো দোয়া! আল্লাহর দরবারে হাত তোলাই সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য। দোয়ার বিউটি এখানেই।

#খুতুবাত
1,3200026
Hope logo
Hope

১০ সেপ, ২০২৬, ১১:৫২

🌸সিরিজ: রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম....

🍁পর্ব: ৩.৭  (সাহাবীদের আনুগত্য... )

🌸আজ সীরাতের জ্ঞান লাভ করা অনেক সহজ। হাতের কাছেই রয়েছে। সহীহ হাদীসের নির্ভরযোগ্য সংকলন। যাতে নবী আ.—এর শিক্ষা ও আদর্শ পূর্ণরূপে সংরক্ষিত রয়েছে। আরও আছে নবী আ.—এর জীবন বৃত্তান্তমূলক নির্ভরযোগ্য সীরাত—গ্রন্থ। কিন্তু আমরা সীরাতের জ্ঞান চর্চায় কতটুকু সময় ব্যয় করে থাকি? পক্ষান্তরে নবী—প্রেমিক সাহাবায়ে কেরামের অবস্থা দেখুন, তারা একটি হাদীসের সন্ধানে মাসের পর মাস সফর করতে থাকতেন। হযরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ রা. বলেন, এক ব্যক্তির ব্যাপারে আমি জানতে পারলাম যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কিসাস সম্পর্কিত একটি হাদীস শুনেছেন। হাদীসটি জানার জন্য একটি উট খরিদ করে বের হয়ে পড়লাম। এক মাসের দীর্ঘ সফর শেষে আমি সিরিয়ায় এসে পৌঁছাই। খোঁজ নিয়ে জানলাম, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উনাইস রা.। তার বাড়ির দরজায় গিয়ে দারোয়ানকে বললাম, তাঁকে গিয়ে বল জাবের দরজায় দাঁড়িয়ে আছে। শুনে ভিতর থেকে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ইবনে আবদুল্লাহ? আমি বললাম, হ্যাঁ।

এ কথা শুনেই তিনি ঘর থেকে বের হয়ে এলেন। মুআনাকা ও সৌজন্য বিনিময় শেষে আমি বললাম, কিসাস সম্পর্কিত একখানা হাদীস নাকি আপনি নবীজী থেকে সরাসরি শুনেছিলেন। হাদীসটি শোনার আগেই আমি বা আপনি দুনিয়া থেকে বিদায় নেই কি না- এ কথা ভেবে আপনার কাছে এসেছি। তিনি তখন আমাকে হাদীসটি শুনিয়ে দিলেন। মুসতাদরাকে হাকেম ৫/৭৯৩—৭৯৪, হাদীস : ৮৭৫৪

হযরত আবু আইউব আনসারী রা. দীর্ঘ সফর করে মিসরে হযরত উক্ববা ইবনে আমের রা.—এর কাছে এলেন। এসেই বললেন, আমি ও আপনি বাদে ওই সময় নবীজীর দরবারে উপস্থিত ছিলেন এমন কেউই আজ জীবিত নেই। অতএব বলুন তো মুসলমান ভাইয়ের দোষত্রুটি অপরের কাছে প্রচার না করার ব্যাপারে আপনি কী শুনেছিলেন? তিনি বললেন, আমি নবীজীকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কারও ভুল—ত্রুটি ঢেকে রাখল, কিয়ামতের দিন আল্লাহও তার দোষ—ত্রুটি লুকিয়ে রাখবেন।’ হাদীসটি শোনার পর হযরত আবু আইউব রা. আর এক মুহূর্তও দাঁড়াননি। ঘোড়ার মুখ ঘুরিয়ে ফের রওনা হলেন মদীনার পথে।মুসনাদে আহমাদ ৪/১৫

খলীফাতুল মুসলিমীন হযরত ওমর রা. কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে জনসম্মুখে দাঁড়িয়ে ঘোষণা দিতেন, এ ব্যাপারে নবীজীর কোনো নির্দেশনা কারও জানা আছে কি না?আররিসালাহ, ইমাম শাফেয়ী ৪২৭

এগুলো হল সাহাবায়ে কেরামের সীরাত—চর্চার সামান্য কটি দৃষ্টান্ত।

🌸সাহাবায়ে কেরাম সীরাতের জ্ঞান লাভের জন্য যেমন কোনো ধরনের ত্যাগ স্বীকারে কুণ্ঠিত হননি তেমনি অর্জিত ইলম মানুষের নিকট পৌঁছাতেও কার্পণ্য করেননি। হযরত ওয়াবিসা রা. প্রতি ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতরের দিনে ‘রাক্কা’ শহরের বড় মসজিদে দাঁড়িয়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—এর বিদায় হজ্বের ভাষণের পুনরাবৃত্তি করে বলতেন, এসো। নবীজী যেমন আমাদের কাছে দ্বীন পৌঁছিয়েছেন তেমনি আমরা তোমাদের কাছে দ্বীনের বাণী পৌঁছে দেই। বাযযার কাশফুল আসতার, হাদীস : ১৪৫; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৩৫৭

সাহাবায়ে কেরামের অন্তরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—এর শিক্ষার অপরিসীম মর্যাদা ও গুরুত্ব থাকার কারণে তারা এই গুণের অধিকারীদেরকেও সম্মান করতেন। বিশেষত যার নিকট থেকে তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—এর শিক্ষা গ্রহণ করতেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—এর ইন্তেকালের পর আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. একজন আনসারীকে ডেকে বললেন, আজ অনেক সাহাবী আমাদের মাঝে রয়েছেন। চল, তাদের কাছ থেকে ইলম অর্জন করি। আনসারী বলল, বড় বড় সাহাবীগণ জীবিত আছেন, তাদের ছেড়ে কে আমাদের কাছে হাদীস জানতে আসবে? ইবনে আব্বাস রা. বলেন, আমি তার কথায় কান দিলাম না এবং সাহাবায়ে কেরামের ঘরে ঘরে গিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—এর হাদীস অন্বেষণ করতে লাগলাম। যার কাছেই কোনো হাদীস আছে বলে শুনতাম, তার বাড়িতেই যেতাম। কারও বাড়িতে এসে হয়তো দেখলাম, তিনি ঘুমিয়ে আছেন। আমি তখন চাদর বিছিয়ে দরজার সামনেই বসে পড়তাম। ধুলোবালি পড়ে আমার শরীর মলিন হয়ে যেত। সাহাবী ঘুম থেকে উঠে আমাকে দেখে চমকে উঠতেন এবং বলতেন, হে রাসূলের চাচাতো ভাই! আপনি কেন এসেছেন? খবর দিলেই তো আমি আপনার কাছে হাজির হতাম। আমি তখন বলতাম, জ্বী না। আমারই আপনার কাছে আসা উচিত। এভাবে তার কাছ থেকে হাদীসটি শিখে নিতাম। কিছুকাল পর ইলমে নববীর অন্বেষণে আমার চারপাশে অসংখ্য মানুষের ভিড় দেখে ওই আনসারী বলল, এই যুবক বড়ই বুদ্ধিমান। মুসতাদরাকে হাকেম ৩/৭৩

হযরত যায়েদ ইবনে সাবিত রা. যখন সফরের জন্য বাহনে পা রাখতেন তখন ইবনে আব্বাস রা. বাহনের রেকাব টেনে ধরতেন। হযরত যায়েত বলতেন, ছেড়ে দাও হে রাসূলের চাচাতো ভাই। কিন্তু ইবনে আব্বাস রা. বলতেন-আমরা আলেমদের সাথে এভাবেই সম্মান প্রদর্শনে আদিষ্ট হয়েছি। মাদখালে সুনানে কুবরা, বায়হাকী ১৩৭১৭

আগের পর্ব
1,3700011
Hope logo
Hope

১০ সেপ, ২০২৬, ১১:৫২

৮. আমি খেয়াল করে দেখলাম, প্রতিটি মানুষই কারও না কারও প্রতি আস্থা ও ভরসা রেখে চলে। বিপদে-আপদে, সুখে-দুঃখে যে কোনো অবস্থায় সে তার আস্থা ও ভরসার পাত্রের নিকট ছুটে যায়। সে মনে করে, আমার যে কোনো সমস্যা হলে অমুক আছে। তিনি সব সামলে নিবেন, সাহায্যের হাত বাড়িয়ে আমাকে উদ্ধার করবেন। অথচ আল্লাহ তাআলা বলেন,
আর যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে তার জন্যে তিনিই যথেষ্ট । আল্লাহ তাঁর কাজ পূর্ণ করবেন। আল্লাহ সবকিছুর জন্যে একটি পরিমাণ স্থির করে রেখেছেন। (সূরা ত্বলাক ০৩)
অতএব, আমি আল্লাহ তাআলার প্রতি আস্থা ও ভরসা রাখলাম। তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনিই আমার উত্তম অভিভাবক।

শাকীক বলখী রহ. এতক্ষণ তম্ময় হয়ে শিষ্যের কথা শুনছিলেন। হাতিম আসাম রহ. থামতেই তিনি উঠে এসে শিষ্যকে জড়িয়ে ধরে বললেন,

- বারাকাল্লাহ বেটা, আল্লাহ তোমাকে এই পথে চলার তাওফীক দান করেন। সত্যি বলতে এই জীবনে আমি তাওরাত, ইনজিল, যাবূর আর কুরআনের যত ইলম হাসিল করেছি; তার আলোকে বলছি, দুনিয়াতে যত ভালো ও সাওয়াবের কাজ আছে তার সবই এই ৮ টি বিষয়ের মধ্যে রয়েছে। হলফ করে বলতে পারি, কেউ যদি এই ৮টি বিষয়ের ওপর আমল করে সে যেন সমস্ত আসমানী কিতাব অনুযায়ী আমল করলো।

[ইমাম গাযালী; ইহইয়াউ উলূমিদ্দীন, ১/৬৫,৬৬]
1,2000016
Hope logo
Hope

১০ সেপ, ২০২৬, ১১:৫২

শাকীক বলখি রহ.। হিজরি ২য় শতকের খ্যাতনামা বুযুর্গ। যুহদ, তাকওয়া এবং ইবাদতে যিনি সময়ের সেরাদের একজন। দূর দূরান্ত থেকে লোকজন এসে শায়খের সান্নিধ্যে পড়ে থাকেন। এ যেন আসহাবুস সুফফার অনুসারী দল। এ দলেরই একজন হাতিম আসাম রহ.। উপনাম আবু আব্দির রহমান। ইমাম যাহাবির মতে হাতিম আসাম রহ.-কে বলা হয় এই উম্মাতের লুকমান হাকীম।

৩৩ বছর যাবত তিনি শায়খ শাকীক বলখির সান্নিধ্যে আছেন। প্রতিনিয়ত শিখছেন, নিজেকে ভেঙে নতুন করে গড়ছেন। একদিন শায়খের পক্ষ থেকে ডাক পড়লো হাতিম আসামের।

- আবু আব্দির রহমান! তোমার সাথে আমার এই পথ চলা কতদিনে গড়ালো?

- ৩৩ বছর।

- বলো কি! ৩৩ বছর?

- জ্বি, শায়খ!

- এই ৩৩ বছরে কী কী শিখলে?

- ৮ টি বিষয় শিখেছি, শায়খ!

- কয়টি ?

- ৮ টি।

- ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন! জীবনটা তো প্রায় তোমার সাথেই কেটে গেলো। আর তুমি কিনা মাত্র ৮ টি বিষয় শিখেছো? আফসোস!

- আসলে শায়খ আমি এই ৮ টি বিষয়-ই শিখেছি। এখন মিথ্যা বলা তো আর সম্ভব না।

- আচ্ছা, বলো দেখি কী সেই ৮ টি বিষয়, যা তুমি এতদিনে শিখলে।

- জ্বি, বলছি …

১. আমি লক্ষ্য করে দেখলাম প্রত্যেকেই কোনো না কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে ভালোবাসে। এর সাথে অন্তর জুড়ে দেয় কিন্তু মৃত্যু এসে তার আর তার প্রিয়তমের মধ্যে বিভাজন এঁকে দেয়, দু'জনকে আলাদা করে দেয়। কবরে সে তার প্রিয়কে পাশে পায় না। আমি তাই ভেবে চিন্তে নেক আমলকে ভালোবাসতে লাগলাম। এতে আমি যখন কবরে যাব, আমার ভালোবাসাও আমার সাথে যাবে। বিচ্ছেদের কোনো সুযোগ নেই।

২. আমি দেখলাম, কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন,

আর যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সামনে দন্ডায়মান হওয়াকে ভয় করেছে এবং খেয়াল-খুশী থেকে নিজেকে নিবৃত্ত রেখেছে, তার ঠিকানা হবে জান্নাত। (সূরা নাযিয়া ৪০,৪১)
এই আয়াত পড়ার পর নিজ অন্তরকে প্রবৃত্তির আনুগত্য ছেড়ে আমি আল্লাহর অনুগত হতে বাধ্য করেছি।

৩. আমি দেখলাম, দুনিয়াতে প্রতিটি মানুষই পার্থিব প্রাচুর্য্যের পিছে ছুটছে। সম্পদ অর্জন, বৃদ্ধি আর সংরক্ষণ নিয়ে সবাই ব্যতিব্যস্ত। অথচ এদিকে আল্লাহ তাআলা বলেন,
তোমাদের কাছে যা আছে তা নিঃশেষ হয়ে যাবে এবং আল্লাহর কাছে যা আছে, তা বাকী (স্থায়ীভাবে) থাকবে। (সূরা নাহল ৯৬)
তাই আমার যাবতীয় অর্জন দুনিয়াতে না রেখে আল্লাহর (রাস্তায় তাঁর) কাছে জমা করে দিয়েছি যাতে আল্লাহর খাযানায় আমার বিশাল ধনভাণ্ডার সঞ্চিত থাকে।

৪. আমি লক্ষ্য করে দেখলাম, নশ্বর এই দুনিয়ায় প্রত্যকেরই গর্ব-দম্ভের কিছু না কিছু আছে। কেউ সম্পদ নিয়ে গর্ব করে তো কেউ বংশ মর্যাদা নিয়ে দম্ভ প্রকাশ করে। কেউ শক্তি সামর্থ্য নিয়ে গর্ব করে তো কেউ নেতৃত্ব কর্তৃত্ব নিয়ে দম্ভ করে বেড়ায়। অথচ আল্লাহ তাআলা বলেন,
নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে যে অধিক তাকওয়াবান (আল্লাহভীরু), সেই আল্লাহর নিকট অধিক মর্যাদাবান। (সূরা হুজরাত ১৩)
অতএব আল্লাহ তাআলার নিকট মর্যাদাবান হওয়ার লক্ষ্যে আমি তাকওয়াকে বেছে নিলাম।

৫. আমি গভীর উদ্বেগ নিয়ে লক্ষ্য করলাম, মানুষ একে অপরের নিন্দা করে বেড়ায়। অন্যের অর্জনের প্রতি ঈর্ষা আর প্রতিহিংসাপরায়ন হয়ে ওঠে। এর মূল কারণ হলো সম্পদ, প্রাচুর্য্য ও বিদ্যার তারতম্য। অথচ আল্লাহ তাআলা বলে দিয়েছেন,
আমি পার্থিব জীবনে তাদের মধ্যে তাদের জীবিকা বন্টন করে দিয়েছি এবং একের মর্যাদাকে অপরের উপর উন্নীত করেছি।‌ (সূরা যুখরুফ ৩২)
এই আয়াত আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছে যে, পার্থিব জীবনের সবকিছু আল্লাহ তাআলা কর্তৃক নির্ধারিত। তাই আমি অন্যের প্রতি হিংসা, বিদ্বেষ, আক্ষেপ ও ঈর্ষা বাদ দিয়ে তাকদীরের ফায়সালার প্রতি সন্তুষ্ট থাকার চেষ্টায় আছি।

৬. আমি দেখলাম, দুনিয়াতে প্রায় প্রতিটি মানুষেরই কারও না কারও সাথে শত্রুতা আছে। প্রত্যেকেই নিজ নিজ শত্রুর ব্যাপারে খুব সতর্ক। শত্রুকে ঘায়েল করার ফন্দিতে ব্যস্ত। অথচ আল্লাহ তাআলা বলেন,

নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের শত্রু, অতএব তোমরা তাকে শত্রু রূপেই গ্রহণ কর। (সূরা ফাতির ০৬)
তাই সমস্ত সৃষ্টির সাথে শত্রুতা ত্যাগ করে একমাত্র শয়তানের বিরুদ্ধে শত্রুতা শুরু করেছি। তাকে পরাস্ত করাই এখন আমার ধ্যান জ্ঞান।

৭. আমি দেখলাম মানুষ রুটি রুজির জন্য চেষ্টার কোনো অন্ত রাখছে না। নিজের মান সম্মান ধূলোয় লুটিয়ে দিয়ে রুটি রুজির পিছে ছুটছে। ছুটতে ছুটতে হালাল হারামের পার্থক্য জ্ঞানটুকুও খুইয়ে বসে আছে। এদিকে আল্লাহ তাআলা‌ ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন,
আর পৃথিবীতে এমন কোন বিচরণশীল প্রাণী নেই, যার জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহ নেন নি অর্থাৎ সকলের রিযিকের দায়িত্ব আল্লাহর। (সূরা হূদ ০৬)
এই আয়াত পড়ে আমি জেনে গেলাম যে, আমার রিযিকের দায়িত্ব আল্লাহর। তিনি নিজেই এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। অতএব আমি যাবতীয় লোভ লালসা আর দুশ্চিন্তা বাদ দিয়ে নিশ্চিন্ত মনে তাঁর ইবাদাতে মনোনিবেশ করলাম।
1,2600013

Showing 30 of 70 posts

রেটিং

লগইন প্রয়োজন

Frequently Asked Questions

Hope টেলিগ্রাম চ্যানেল কী বিষয়ে?+

Hope (@hope24hours) tgdio-এ আধ্যাত্মিকতা ক্যাটাগরিতে তালিকাভুক্ত একটি টেলিগ্রাম চ্যানেল। র‍্যাঙ্কিং, রেটিং, রিভিউ ও সাম্প্রতিক পোস্ট দেখে সাবস্ক্রাইব করার আগে সিদ্ধান্ত নিন। এখন tgdio-এ প্রায় ১৮,৪৪৫ সাবস্ক্রাইবার আছে।

আমি কীভাবে Hope (@hope24hours) জয়েন করব?+

tgdio-এ চ্যানেল প্রোফাইল খুলে Join / Open in Telegram দিয়ে @hope24hours-এ বিনামূল্যে সাবস্ক্রাইব করুন।

Hope কি ভালো আধ্যাত্মিকতা চ্যানেল?+

tgdio-এ জয়েনের আগে Hope-এর রেটিং, রিভিউ, র‍্যাঙ্কিং ও পোস্ট দেখুন। এখন tgdio-এ প্রায় ১৮,৪৪৫ সাবস্ক্রাইবার আছে। একই আধ্যাত্মিকতা চ্যানেলের সাথে তুলনা করুন।

Hope-এর স্ট্যাটস ও পোস্ট কোথায় দেখব?+

tgdio-এ @hope24hours পেজ খুলুন — সাবস্ক্রাইবার স্ট্যাটস, র‍্যাঙ্কিং, রেটিং ও পোস্ট। Stats লিঙ্ক দিয়ে গ্রোথ চার্ট দেখুন।